
নয়া দিল্লি: কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ হতেই হাম্পটি-ডাম্পটি বলে কটাক্ষ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাফ বলেছিলেন বাংলার জন্য কিছুই দেয়নি। তা নিয়ে চাপানউতোরের মধ্যেই বিজেপির তুলোধনা করতে আসরে নেমে পড়েছিলেন তৃণমূল নেতারা। এবার বাংলার জন্য কী কী ঘোষণা করা হয়েছে তার খতিয়ান তুলে ধরলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। সৌগত রায়ের নাম করেও কটাক্ষ করেন। সংসদে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট বলেন, “প্রফেসর সৌগত রায় বলছেন পশ্চিমবঙ্গের নাম বাজেটে নেওয়া হয়নি। ইচ্ছাকৃতভাবে ভ্রান্ত তথ্য দিচ্ছেন।”
এরপরই বাংলার জন্য বরাদ্দ, বাংলার প্রাপ্তি সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “পূর্ব ভারতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্ট্র্যাটিজিক লোকেশনে থাকা রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ। ইস্ট কোস্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোর দুর্গাপুর-আসানসোলকে ভিত্তি করে গড়ে উঠবে। উত্তরবঙ্গে হাই স্পিড ট্রেন দেওয়া হয়েছে। বারানসি থেকে শিলিগুড়ি হাই স্পিড ট্রেন হবে। শিলিগুড়ি ট্রানজিট হাব হিসেবে গড়ে উঠবে।” ফের একবার বলেন পাট শিল্পের কথা। বলেন, “পাট শিল্পের জন্য আমরা এত বড় ঘোষণা করেছি। নতুন যে প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে তার মধ্যে দিয়ে হুগলি বেল্টে যে চটকলগুলি আছে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাট চাষীদের জীবন এবং আর্থিক অবস্থার বড় পরিবর্তন হতে চলেছে।”
অন্যদিকে চর্মশিল্পে রফতানির ক্ষেত্রে ডিউটি ফ্রি করা হয়েছে। নির্মলার দাবি, বাংলায় এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষরা উপকৃত হবেন। অন্যদিকে পূর্বদয়া প্রকল্পে সব রাজ্যে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র গড়ার ঘোষণা করা হয়েছে। নির্মলার মতে, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার চাইলে নির্দিষ্ট জায়গাকে এই প্রকল্পে আন্তর্জাতিক পর্যটনের মানচিত্রে তুলে আনতে পারে।
অন্যদিকে জঙ্গলমহলের কেন্দু পাতার উপর এতদিন পাঁচ শতাংশ টিসিএস নেওয়া হত। এবার তা দুই শতাংশ কম করা হয়েছে। এরফলে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, মেদিনিপুরের জঙ্গলে গিয়ে যারা কাজ করেন, সঙ্গে বিড়ি শ্রমিকরা উপকৃত হবেন বলে মত নির্মলার। একইসঙ্গে নির্মলা কেমিক্যাল পার্ক সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, “আমরা কেমিক্যাল পার্ক ঘোষণা করেছি। আমরা কোনও রাজ্যের নাম বলিনি কিন্তু তিনটি কেমিক্যাল পার্কের কথা ঘোষণা করেছি। হলদিয়ার পাশে আরেকটা কেমিকাল পার্ক গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ কি বাংলা নিতে পারে না?” একইসঙ্গে আরও বলেন, “যে কোনও জায়গায় সিটি ইকোনমিক রিজিয়ন বানানোর জন্য বছরে হাজার কোটি টাকা দেওয়া হবে। আমরা কোনও রাজ্যের নাম বলিনি। কলকাতা, হাওড়া, আসানসোল, দুর্গাপুর এই প্রকল্পে সামিল হতে পারে। পাঁচ বছরে পাঁচ হাজার কোটি টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই টাকা পেতে কে আটকাচ্ছে?” একইসঙ্গে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউড অব ডিজাইন নিয়েও শোনান আসার কথা। নির্মলা বলেন, “শুধুমাত্র আমেদাবাদে এটা আছে। আমরা বলেছি পূর্বাঞ্চলে আরও একটি নতুন হবে। তা পশ্চিমবঙ্গও হতে পারে।”