India Replies to UN: ‘ভুল জায়গায় উদ্বেগ প্রকাশ’, দিল্লির ধরপাকড় নিয়ে মন্তব্য করতেই রাষ্ট্রপুঞ্জকে অন্য দেশের দিকে নজর দিতে বলল ভারত
Delhi Protest News: শনিবার রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার দফতরের মুখপাত্র থামিন আল-খিতান জানান, দিল্লিতে বিক্ষোভের আগে ও চলাকালীন আন্দোলনকারী, আইনজীবী, সাংবাদিক এবং নাগরিক সমাজের সদস্যদের গণহারে আটকের খবরে তাঁরা উদ্বিগ্ন। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রক্ষা এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।

নয়া দিল্লি: ককরোচ জনতা পার্টির যন্তর মন্তর অভিযানে পুলিশি কড়া পদক্ষেপ ও ধরপাকড় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ রাষ্ট্রপুঞ্জের। পাল্টা কড়া জবাব দিল ভারতও। দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক না গলানোর পরামর্শ দেওয়া হল। একইসঙ্গে অন্য দেশের বড় বড় আন্দোলনের দিকে নজর দিতেও বলা হয়েছে।
সিজেপি (CJP)-র নেতাদের ও আন্দোলনকে সমর্থনকারীদের আটকের ঘটনায় রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার দফতরের উদ্বেগকে ‘ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ’ বলে কড়া প্রতিক্রিয়া জানাল নয়া দিল্লি। ভারতের বক্তব্য, “বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় বড় আন্দোলনের দিকেও রাষ্ট্রপুঞ্জের নজর দেওয়া উচিত”।
জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। সেই কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে প্রায় ৩,০০০ জনকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। তাঁদের মধ্যে সিজেপির নেতা, সমর্থক এবং বিরোধী দলের নেতারাও ছিলেন। আন্দোলনকারীদের দিল্লিতে আসা আটকাতে গণপরিবহন ব্যবস্থার উপরে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়।
শনিবার রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার দফতরের মুখপাত্র থামিন আল-খিতান জানান, দিল্লিতে বিক্ষোভের আগে ও চলাকালীন আন্দোলনকারী, আইনজীবী, সাংবাদিক এবং নাগরিক সমাজের সদস্যদের গণহারে আটকের খবরে তাঁরা উদ্বিগ্ন। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রক্ষা এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি, বিক্ষোভ মোকাবিলায় নিরাপত্তারক্ষীদের সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর পরামর্শও দেয় রাষ্ট্রপুঞ্জ।
এর জবাবে ভারত জানায়, দেশের সংবিধান শান্তিপূর্ণ জমায়েতের অধিকার নিশ্চিত করেছে। তবে জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ আরোপ করা যায়। প্রশাসন আইন মেনেই কাজ করে এবং অভিযোগের প্রতিকারের জন্য আদালতও রয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, “দিল্লিতে শনিবারের ঘটনাবলি নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের মন্তব্য আমরা দেখেছি। ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র। আমাদের সংবিধান শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার সকলকে দিয়েছে। এখানে বিচারব্যবস্থা স্বাধীন, সংবাদমাধ্যমও স্বাধীন। অন্য যে কোনও গণতন্ত্রের মতোই ভারতের নাগরিকরা শৃঙ্খলার স্বার্থে যুক্তিসঙ্গত কিছু বিধিনিষেধ সহ এই অধিকার প্রয়োগ করেন। কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী কাজ করেন। যে কোনও অভিযোগের জন্য আমাদের আদালত সকলের কাছে উন্মুক্ত।”
রাষ্ট্রপুঞ্জের উদ্বেগ প্রকাশ নিয়ে ভারতের তরফে বলা হয়, “রাষ্ট্রপুঞ্জ ভুল জায়গায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এটা অবান্তর হস্তক্ষেপ ছাড়া আর কিছুই নয়। নিরপেক্ষতা ও পক্ষপাতহীনতার যে দায়িত্ব রাষ্ট্রপুঞ্জের রয়েছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের উচিত বিশ্বের অন্যত্র হওয়া বিক্ষোভগুলির দিকেও সমান নজর দেওয়া।”
