
আহমেদাবাদ: শিক্ষক-শিক্ষিকারা দ্বিতীয় অভিভাবক। তাদের গুরুজন হিসাবে সম্মান করা উচিত- এই শিক্ষার পাঠই দেওয়া হয় ছোটবেলা থেকে। তবে আজকের দিনে সেই শিক্ষা ভুলে গিয়েছে অনেকেই। তার জলজ্যান্ত উদাহরণ মিলল। ছাত্রকে শিক্ষকের মার নয়, স্কুলের মধ্যে শিক্ষিকাকেই চড় মারল দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র! কী করে সাহস হয় ওই শিক্ষিকার, সেই প্রশ্নও তুলল অভিযুক্ত ছাত্র।
ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাটের পঞ্চমহল জেলায়। গত ২৪ জানুয়ারি দ্বাদশ শ্রেণির প্রিলিমিনারি টেস্ট চলছিল। দেরি করে পরীক্ষা দিতে আসে মহম্মদ খান আনসারি নামক এক ছাত্র। তাঁকে স্বাভাবিকভাবেই বকা দেন পরীক্ষক। তাঁর এমন আচরণ নিয়ে প্রশ্ন করতেই সকলের সামনে ওই শিক্ষিকাকে চড় মারে অভিযুক্ত ছাত্র। বলে, “আমায় বাড়িতেও কেউ প্রশ্ন করে না। সাহস কে দিয়েছে আমায় প্রশ্ন করার?”। এরপরই শিক্ষিকাকে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত।
গোটা ঘটনায় হকচকিয়ে যান শিক্ষিকাও। ওই দিনই অভিযুক্ত পড়ুয়ার বাবা এসে শিক্ষিকা ও প্রিন্সিপাল ইনচার্জের কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে যান ছেলের এই আচরণের জন্য। তবে এখানেই শেষ নয়। তিনদিন পর, ২৭ জানুয়ারি আবার আসে ওই পড়ুয়া। সঙ্গে নিজের বাবা ও আরও কয়েকজনকে নিয়ে আসে স্কুলে। সেখানে শিক্ষিকাকে ডেকে প্রকাশ্যে হুমকি দেয় যে সে জানে এই শহরে ওই শিক্ষিকা একা থাকেন। তাঁর বড়সড় ক্ষতি করে দেওয়ার হুমকি দেয় বছর আঠারোর ওই পড়ুয়া।
এবার আর চুপ থাকেননি শিক্ষিকা। গত ৩ ফেব্রুয়ারি তিনি পুলিশে এফআইআর দায়ের করেন। স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজও দেখান যেখানে ওই শিক্ষিকাকে অভিযুক্ত পড়ুয়ার চড় মারা এবং পরবর্তী সময়ে হুমকি দেওয়ার ঘটনা ধরা পড়েছে।
এরপরই পুলিশ অভিযুক্ত পড়ুয়াকে গ্রেফতার করে এবং আদালতে পেশ করে। তবে ইতিমধ্যেই জামিন পেয়ে গিয়েছে ওই পড়ুয়া। সে পুলিশকে এবং আদালতে জানিয়েছে যে দ্বিতীয়দিন ওই শিক্ষিকার কাছে ক্ষমা চাইতেই লোকজন নিয়ে গিয়েছিল। কোনও হুমকি দেয়নি।