Cyclone Name Process: ঘূর্ণিঝড়ের নাম নিয়ে অনেক মিম করেন, জানেন কি কারা এই নাম দেয়? এর উদ্দেশ্যই বা কী?
Who Names Cyclone: বঙ্গোপসাগর এবং আরব সাগরে সৃষ্ট প্রতিটি নিম্নচাপকেই ঘূর্ণিঝড় নাম দেওয়া হয় না। এটি কেবল তখনই নাম পায়, যখন এটি শক্তিশালী হয় এবং ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এই দায়িত্বটি পালন করে নয়া দিল্লির ভারত আবহাওয়া দফতরের (IMD) আঞ্চলিক বিশেষ আবহাওয়া কেন্দ্র (RSMC)।

নয়া দিল্লি: চলতি বছরের প্রথম ঘূর্ণিঝড় ছিল অর্ণব (Cyclone Arnab)। তার রেশ কাটতে না কাটতেই হাজির আরেকটা ঘূর্ণিঝড়। এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম মুরাসু (Cyclone Murasu)। এই ঘূর্ণিঝড়ের অভিমুখও অন্ধ্র প্রদেশের দিকে। মুরাসুর প্রভাব কতটা পড়তে পারে, তা নিয়ে এখনও বিচার-বিশ্লেষণ চলছে। তবে কখনও ভেবে দেখেছেন যে এই ঘূর্ণিঝড়গুলির নাম কে দেয়? অদ্ভুত অদ্ভুত নামও বা দেওয়া হয় কেন? কীভাবে এই নামকরণ হয়?
ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের পিছনে রয়েছে একটি নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে ঝড়গুলিকে সহজেই শনাক্ত করা যায় এবং জনসাধারণকে আবহাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়। তবে অঞ্চলভেদে ঝড়ের নামও ভিন্ন হয়। বিশ্বের বিভিন্ন মহাসাগরীয় অঞ্চলে সৃষ্ট ক্রান্তীয় ঝড়গুলোকে ভিন্ন ভিন্ন নামে ডাকা হয়। উদাহরণ হিসাবে যেমন উত্তর আটলান্টিক এবং উত্তর-পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সৃষ্ট ঝড়কে হারিকেন বলা হয়। আবার উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সৃষ্টি হওয়া ঝড়কে টাইফুন বলা হয়। ভারত মহাসাগর এবং দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সৃষ্ট ঝড়কে সাইক্লোন বলা হয়।
ঝড়ের নাম কবে থেকে দেওয়া শুরু হল?
বিশ্বজুড়ে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের প্রথা সর্বপ্রথম ১৯৫০ সালে আটলান্টিক অঞ্চলে শুরু হয়েছিল। হারিকেনের জন্য নারীদের নাম ব্যবহার হত। এই প্রথা ১৯৫৩ সাল থেকে আমেরিকায় চালু হয়। আমাদের দেশ ঘিরে রয়েছে বঙ্গোপসাগর এবং আরব সাগর। এই অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের প্রথা শুরু হয়েছিল ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বরে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
২০০৪ সালে যখন উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়, তখন এই তালিকায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ, মায়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ড। প্রতিটি দেশ ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের জন্য আটটি করে নাম প্রস্তাব করেছিল। এর মাধ্যমে মোট ৬৪টি নাম নিয়ে প্রথম তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়।
বঙ্গোপসাগর এবং আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়গুলোকে একটি নির্দিষ্ট ক্রমে এই নামগুলো দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ২০২০ সালের মে মাসে ঘূর্ণিঝড় আমফান দিয়ে এই তালিকা পূর্ণ হয়েছিল।
পুরোনো তালিকার নামগুলো পূর্ণ হয়ে যাওয়ায়, একটি নতুন তালিকা প্রস্তুত করা হয়। বর্তমানে ১৩টি দেশ মিলে ১৬৯টি ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করেছে। ২০১৮ সালে ইরান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ইয়েমেন এই তালিকায় যোগ দেয়। এই দেশগুলি প্রত্যেকে ১৩টি করে নামও প্রস্তাব করে, যার ফলে মোট ১৬৯টি নামসহ একটি নতুন তালিকা তৈরি হয়। এই তালিকাটি ২০২০ সালে অনুমোদিত ও কার্যকর করা হয়। এই ১৬৯টি নাম মোট ১৩টি কলামে বিভক্ত। প্রতিটি দেশের প্রস্তাবিত নামগুলো তাদের নিজ নিজ দেশের নাম অনুসারে একটি নির্দিষ্ট ক্রমে সাজানো থাকে। ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের সময় এই তালিকার নামগুলো ক্রমানুসারে ব্যবহার করা হয়।
ঝড়ের নামকরণের প্রক্রিয়াটি কী?
বঙ্গোপসাগর এবং আরব সাগরে সৃষ্ট প্রতিটি নিম্নচাপকেই ঘূর্ণিঝড় নাম দেওয়া হয় না। এটি কেবল তখনই নাম পায়, যখন এটি শক্তিশালী হয় এবং ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এই দায়িত্বটি পালন করে নয়া দিল্লির ভারত আবহাওয়া দফতরের (IMD) আঞ্চলিক বিশেষ আবহাওয়া কেন্দ্র (RSMC)।
যখন একটানা বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ কমপক্ষে ৬২ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় পৌঁছায়, তখন নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড়টির নামকরণ করা হয়। একটি ঘূর্ণিঝড়ের জন্য নির্ধারিত নাম অন্য কোনও ঘূর্ণিঝড়ের জন্য আবার ব্যবহার করা হয় না। তালিকার নামগুলো সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে।
নাম বাছাই করার ক্ষেত্রে কী কী নিয়ম মেনে চলতে হয়?
সাধারণত, ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের ক্ষেত্রে কিছু আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়। প্রস্তাবিত নামটি রাজনীতি, ধর্ম, সংস্কৃতি, লিঙ্গ নিরপেক্ষ হতে হয়। এছাড়াও নামটি আপত্তিকর হওয়া উচিত নয়। এটি উচ্চারণ করাও সহজ হতে হবে। আরেকটি শর্ত হল, ঘূর্ণিঝড়ের নামটি আট অক্ষরের বেশি হবে না। যে নামগুলো এই মানদণ্ডগুলো পূরণ করে না, সেগুলি বাতিল করার ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট প্যানেলের রয়েছে।
