AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Water Scarcity in India: কোনও শহরে কীভাবে বন্যা ও জলসংকট একই বছরে দেখা দিতে পারে?

Causes of Urban Flooding and Water Shortages in India: বর্ষায় ভয়াবহ বন্যার মুখে পড়তে পারে একটি শহর, অথচ কয়েক মাস পরেই দেখা দিতে পারে জলের তীব্র সংকট। আজকের ‘YOUR INDIA’ কলামে সন্তোষ নায়ার নিকাশি ব্যবস্থা, জলাভূমি, হ্রদ হারিয়ে যাওয়া এবং ভূগর্ভস্থ জলের পুনঃসঞ্চয়ের বিষয়গুলি বিশ্লেষণ করে ব্যাখ্যা করেছেন, কীভাবে শহরের একই ভেঙে পড়া জল ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার কারণে এই দুই বিপরীত সংকট তৈরি হতে পারে।

Water Scarcity in India: কোনও শহরে কীভাবে বন্যা ও জলসংকট একই বছরে দেখা দিতে পারে?
একই শহরে কীভাবে অতিরিক্ত জল এবং জলের অভাব—দুই-ই দেখা দেয়?Image Credit: TV9 Bangla
| Edited By: | Updated on: Oct 25, 2026 | 5:14 PM
Share

গত গ্রীষ্মে বেঙ্গালুরুর এক দোকানদারকে একবারের জল সরবরাহের দাম নিয়ে জলের ট্যাঙ্কার চালকের সঙ্গে দর কষাকষি করতে হয়েছিল। অথচ কয়েক মাস পরেই বর্ষার জল এক ঘণ্টারও কম সময়ে তাঁর দোকানের দোরগোড়া ছাপিয়ে ঢুকে পড়ে। সদ্য দোকানে তোলা নতুন পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। একই দোকান, একই বছর। অথচ জলের কারণে দুই বিপরীত বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। বিষয়টি শুনতে পরস্পরবিরোধী মনে হলেও আদতে তা নয়। বরং একই সমস্যার দুটি আলাদা রূপ বলা যেতে পারে এই দুই পরিস্থিতিকে।

মুম্বইয়ের নিকাশি ব্যবস্থা মূলত ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে তৈরি। ঘণ্টায় প্রায় ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের জল সামাল দেওয়ার কথা মাথায় রেখেই তৈরি হয়েছিল সেই ব্যবস্থা। কিন্তু বর্তমানে বর্ষার তীব্র বৃষ্টির সময় শহরে ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত হয়। অর্থাৎ, রাস্তাগুলির নীচে থাকা নিকাশির পাইপগুলি যতটা জল বহন করার জন্য তৈরি হয়েছিল, এখন তার চার গুণ পর্যন্ত বৃষ্টির জল সামলাতে হচ্ছে সেগুলিকে।

২০২৪ সালে দিল্লিতে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ২২৮.১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল। জুন মাসে শহরটির গড় মাসিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণের চেয়েও যা বেশি। দেশের শহরাঞ্চলগুলির মধ্যে ৭০ শতাংশেরও বেশি শহরে এখনও বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনার ভিত্তিতে তৈরি বৃষ্টির জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই।

একই শহরে কীভাবে অতিরিক্ত জল এবং জলের অভাব—দুই-ই দেখা দেয়?

বেঙ্গালুরুর পরিস্থিতি বন্যা ও জলসংকটের মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র তুলে ধরে। একসময় শহরটিতে পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত ১,০০০টিরও বেশি হ্রদ ছিল। বর্তমানে সেই হ্রদগুলির প্রায় ৬৫ শতাংশ এবং শহরের ঐতিহাসিক জলাশয়গুলির প্রায় ৮০ শতাংশই ক্ষতিগ্রস্ত, দখল হয়ে যাওয়া অথবা সম্পূর্ণভাবে নির্মাণের আওতায় চলে যাওয়ার কারণে বিপর্যস্ত।

এই হ্রদগুলি শুধুমাত্র শহরের সৌন্দর্য বাড়াত না। ভারী বৃষ্টির সময় রাস্তাঘাট ও বাড়িতে জল ঢোকার আগেই অতিরিক্ত জল ধরে রেখে এগুলি প্রাকৃতিক বন্যা প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করত। একই সঙ্গে ভূগর্ভস্থ জলের পুনর্ভরণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিত। বর্ষার জল ধরে রেখে মাটির নীচে জল জমা হতে সাহায্য করত এই জলাশয়গুলি, যা পরবর্তী শুষ্ক মাসগুলিতে কাজে আসত।

হ্রদ ধ্বংস করার অর্থ, একই সঙ্গে শহরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা ব্যবস্থা নষ্ট করে ফেলা। বৃষ্টি হলে শহর দ্রুত জলমগ্ন হয়ে পড়ে, আর বৃষ্টি না হলে দ্রুত ফুরিয়ে আসে জলের ভাণ্ডার।

ভারতের শহরাঞ্চলে বন্যা নিয়ে প্রকাশিত বহু প্রতিবেদনের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অস্বস্তিকর সত্যটি এখানেই। সমস্যাটি খুব কম ক্ষেত্রেই শুধুমাত্র বৃষ্টির পরিমাণের সঙ্গে সম্পর্কিত। বরং আসল সমস্যা হল, শহরের রাস্তাঘাট, বাড়ির বেসমেন্ট এবং বসতবাড়ি ছাড়া অন্য কোথাও জল ধরে রাখার ক্ষমতা ক্রমশ হারিয়ে যাওয়া।

এ ক্ষেত্রে কংক্রিটের ব্যাপক ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যদিও বিষয়টি নিয়ে তুলনামূলকভাবে কম আলোচনা হয়। পার্কিংয়ের জায়গা তৈরি করতে জলাভূমি বুজিয়ে ফেলা, খোলা মাঠের জায়গায় শপিং মল গড়ে তোলা কিংবা প্রাকৃতিক জলধারাকে সরু ভূগর্ভস্থ পাইপের মধ্যে প্রবাহিত করা—প্রতিটি পদক্ষেপেই জল জমা হওয়ার স্বাভাবিক জায়গা কমে যায়।

আগে যে জল মাটির ভিতরে শোষিত হয়ে যেত, এখন সেই জল যাওয়ার জায়গা পায় না। ফলে তা দ্রুত ঢাল বেয়ে নীচের দিকে নামতে থাকে। পথে জলের গতি ও চাপ বাড়ে। শেষ পর্যন্ত শহরের যে নিচু এলাকাটি সেই ঢালের নীচে রয়েছে, সেখানে গিয়ে জমা হয় জল। বছরের পর বছর একই এলাকাগুলি জলমগ্ন হওয়ার পিছনেও রয়েছে এই কারণ। কারণ, শহরের জল ব্যবস্থাপনা বদলে গেলেও তার ভৌগোলিক অবস্থান বদলায় না।

শহর নিজের প্রাকৃতিক বন্যা প্রতিরোধকগুলিই যখন সরিয়ে ফেলে-

এর মানবিক মূল্য কোনও বিমূর্ত পরিসংখ্যান নয়। ২০২১ সালেই ভারতে আনুমানিক ৩ কোটি ৮৫ লক্ষ ৬০ হাজার মানুষ বন্যার কবলে পড়েছিলেন। ফসল, বাড়িঘর ও পরিকাঠামোর ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৪৯,৬১৭ কোটি টাকারও বেশি। ২০১৫ সালে চেন্নাইয়ের ভয়াবহ বন্যায় একটিমাত্র বিপর্যয়েই ১৫,০০০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছিল। বন্যার কারণে ২০১৯ সালে এক বছরে ২,৭৫৪ জন এবং ২০১৭ সালে ২,০৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

এই পরিসংখ্যান এমন কোনও দেশের ছবি তুলে ধরে না, যে দেশ দরিদ্র কিংবা বৃষ্টির জল সামলাতে অক্ষম বলে এই বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বরং এগুলি এমন সব শহরের ছবি, যেগুলির অনেকেই আগের কয়েক দশকে নিজেদের প্রাকৃতিক বন্যা প্রতিরোধকগুলিকে সক্রিয়ভাবে ধ্বংস করেছে। অনেক ক্ষেত্রেই তা হয়েছে আইন মেনে, সরকারি অনুমতি নিয়ে এবং সেই সময় উন্নয়নের অঙ্গ হিসেবেই এই কাজগুলিকে যুক্তিযুক্ত বলে মনে করা হয়েছিল।

তবে পরিস্থিতি বদলানোর কিছু বাস্তব উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের অম্রুত (AMRUT) প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন রাজ্যে ১,৮৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বৃষ্টির জল নিষ্কাশনের ৭৫০টি প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে জল জমে থাকার ৩,৪৪৫টি স্থানের সমস্যা দূর করা সম্ভব হয়েছে।

এটি নিঃসন্দেহে অগ্রগতি। তবে এই উদ্যোগ মূলত নিকাশি ব্যবস্থার জল নিষ্কাশনের ক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দিয়েছে। এর পাশাপাশি যে আরও গভীর সমস্যাটি রয়ে গিয়েছে, তা হল প্রাকৃতিক জলধারণের ব্যবস্থা হারিয়ে যাওয়া। একসময় হ্রদ ও জলাভূমিগুলি কোনও খরচ ছাড়াই যে কাজ করত, শহর গড়ে তোলার নামে সেগুলির উপরেই নির্মাণ করা হয়েছে।

আমরা কি জলকে সঙ্গে নিয়ে চলার মতো শহর তৈরি করছি, নাকি জলের সঙ্গে লড়াই করছি?

বর্তমানে ভারতের কোনও শহরে বাড়ি কেনা কিংবা বিনিয়োগ করার কথা ভাবছেন, এমন একজন মানুষের কাছে বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন।

যে এলাকায় আগে হ্রদ ছিল, সেই জমিতে নতুন বাড়ি বা আবাসন তৈরি হলে বাইরে থেকে নির্মাণ যতই আকর্ষণীয় দেখাক না কেন, সেই জমি একসময় প্রাকৃতিকভাবে জলের দখলে ছিল। বর্ষায় পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে জল আবারও সেই জায়গা দখল করতে পারে।

ভারতের অনেক শহরের প্রবীণ বাসিন্দারা এখনও বলতে পারেন, কয়েক দশক আগে কোন এলাকাগুলিতে জলাশয় ছিল। কিন্তু নতুন প্রজন্মের অনেক বাড়ি ক্রেতাই ফ্ল্যাট বা বাড়ি কেনার চুক্তিতে সই করার আগে এই তথ্য জানার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন না।

নাগরিকদের সামনে আসল প্রশ্নটি কোনও একটি বন্যা কিংবা কোনও একটি শুষ্ক গ্রীষ্মকে ঘিরে নয়। প্রশ্ন হল, শহর কি এমনভাবে পরিকল্পনা করে গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে প্রাকৃতিকভাবে প্রবাহিত জলকে জায়গা দেওয়া যায়? নাকি সেই জলকে ক্রমাগত আটকে রাখার ও তার সঙ্গে লড়াই করার চেষ্টা চলছে, যার খরচ দুই ক্ষেত্রেই—বন্যা ও জলসংকটের সময়—ক্রমশ বাড়ছে?

আসলে এই দুই বিপর্যয় একই ভেঙে পড়া জল ব্যবস্থাপনা চক্রের পরস্পর-সংযুক্ত পরিণতি।

সূত্র: ভারতের শহরাঞ্চলে বন্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণ; মুম্বই ও দিল্লির নিকাশি ব্যবস্থার সক্ষমতা সংক্রান্ত তথ্য; বেঙ্গালুরুর জলাভূমি হারানোর পরিসংখ্যান; সরকারি ও বিপর্যয় মোকাবিলা সংস্থার বন্যার ক্ষয়ক্ষতি সংক্রান্ত তথ্য এবং কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রকের অম্রুত প্রকল্পের বৃষ্টির জল নিষ্কাশন সংক্রান্ত তথ্য।

Follow Us