
নয়া দিল্লি: ভারতের কূটনীতির জয়জয়কার। সংঘাতের মাঝেও হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসছে ভারতের এলপিজি বহনকারী ট্যাঙ্কার। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই এই জাহাজ ভারতে এসে পৌঁছবে। তবে এখনও হরমুজ অবরুদ্ধ। বিগত ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনও ক্রুড তেল বহনকারী জাহাজ ঢুকতে বা যাতায়াত করতে পারেনি। এমনটাই রয়টার্স সূত্রে খবর।
শিপিং ডেটা এবং বাণিজ্যিক সূত্রে খবর মিলেছে যে হরমুজ প্রণালীতে ইরান কোনও জাহাজ ঢুকতে দিচ্ছে না। তেল, গ্যাস ও অন্যান্য পণ্য বহনকারী বিভিন্ন দেশের জাহাজ বাধ্য হয়ে নোঙর ফেলেছে হরমুজ প্রণালীতে ঢোকার পথে। তবে ভারতকে সেখানে ছাড় দিচ্ছে ইরান। সূত্রের খবর, হরমুজ প্রণালী দিয়ে শীঘ্রই ভারতীয় এলপিজি বহনকারী জাহাজ বিনা বাধায় অতিক্রম করবে।
এই হরমুজ প্রণালী গোটা বিশ্বের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এর মধ্যে দিয়ে বিশ্বের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহের ২০ শতাংশ যায়। ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। শুক্রবারের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনও ক্রুড তেলের ট্যাঙ্কার যেতে দেওয়া হয়নি। কেপলারের তথ্যও জানিয়েছে যে গত ১৮ মার্চ একটি ফাঁকা ক্রুড ট্যাঙ্কার আবার ইরানের জলসীমার দিকে চলে গিয়েছে।
তবে ভারতের দুই এলপিজি কেরিয়ার, পাইন গ্যাস ও জগ বসন্ত সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর শারজাহের কাছে দাঁড়িয়ে আছে। ভারত পেট্রোলিয়ামের ভাড়া করা জাহাজ জগ বসন্ত, পাইন গ্যাস পরিচালন করে ইন্ডিয়ান অয়েল। আজ এই দুই ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালীর মধ্যে দিয়ে যেতে পারে। যদিও এখনও অফিসিয়াল কোনও কনফার্মেশন পাওয়া যায়নি।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “মধ্য প্রাচ্যে ভারতের ২২টি জাহাজ রয়েছে বর্তমানে। আমরা চাই ওই জাহাজগুলি সুরক্ষিত ও বিনা বাধায় যাতায়াত করুক।”
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহেই ইরান ভারতের পতাকা লাগানো দুটি এলপিজি বহনকারী জাহাজকে হরমুজ প্রণালীর মধ্যে দিয়ে যেতে দিয়েছিল। সূত্রের খবর, বাকি জাহাজের চলাচল নিয়েও কথা হচ্ছে। প্রতিটি জাহাজের জন্য আলাদাভাবে আলোচনা করতে হচ্ছে।
শুধু ভারত নয়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে পাকিস্তানগামী একটি তেলের ট্যাঙ্কারও গিয়েছে। তবে সংঘাত পরিস্থিতিতেও ভারতকে ছাড় দেওয়া যথেষ্ট ইতিবাচক বলেই মনে করা হচ্ছে।