
সুদীপ্ত কংস বণিকের রিপোর্ট
কলকাতা: দিনটা এখনও অনেকেই ভোলেননি। বিশেষ করে বামেরা তো বটেই। এখনও রাজনীতির অলিগলিতে আলোচনা হয় একদা সিপিএম (CPIM)-এর যুব নেতা প্রতীক-উর-রহমানকে নিয়ে। দলের উপর একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) হাত থেকে তুলে নিয়েছিলেন তৃণমূলের পতাকা। ‘ইন কিলাব জিন্দাবাদ’-এর জায়গায় স্লোগান বদলে তিনি এখন বলেন, ‘মা-মাটি-মানুষের’ জয়। এবার সেই প্রতীক-উরের দেখানো পথেই হাঁটলেন বামেদের একঝাঁক তরুণ তুর্কি। নির্বাচনের ঠিক আগে যোগ দিলেন তাঁরা শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসে। তবে, এখনও পর্যন্ত এই যোগদান নিয়ে বামেদের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
নববর্ষের দিন তৃণমূল কসবার তালবাগানে একটি সভা করে। সেই সভা থেকেই লাল ঝান্ডা ছেড়ে তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নেন প্রায় ১০০০ জন তরুণ তুর্কি। ২০২১ সালে কলকাতা পুরসভার ভোটে লড়াই করেছিলেন বামফ্রন্টের সংখ্যালঘু বিভাগের সক্রিয় কর্মী কসবা সহ তিনটি লোকাল কমিটির সদস্য, ডিওয়াইএফআই-এর লোকাল সেক্রেটারি শাকিব আখতার। সেই সময় সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী হিসাবে ওই অঞ্চলে লড়েছিলেন তিনি। সেই শাকিবই বিধানসভা ভোটের আগে দলবল নিয়ে দল বদল করে হাজির হলেন তৃণমূলে। ফলে, কসবা অঞ্চলে বাম শিবিরে যে আবারও ভাঙন ধরল তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
গতকালের যোগদান সভায় উপস্থিত ছিলেন কসবা বিধানসভার প্রার্থী জাভেদ আহমেদ খান। ছিলেন তৃণমূল মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার। তাঁদের উপস্থিতিতেই জাভেদ ও জয়প্রকাশের হাত থেকে তৃণমূলের পতাকা তুলে নেন শাকিব ও তাঁর অনুগামীরা। বস্তুত, কসবা থেকে এবারও তৃণমূলের হয়ে লড়াই করছেন রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী জাভেদ খান, অন্যদিকে বামেরা প্রার্থী করেছে দীপু দাসকে। বাম প্রার্থীর সমস্ত নির্বাচনী দায়িত্ব এতদিন সামলাচ্ছিলেন শাকিব। তবে হঠাৎ কেন এমন সিদ্ধান্ত তা এখনও অবধি জানতে পারা যায়নি।