
কলকাতা ও নয়াদিল্লি: সোমবার সকাল থেকে এক বেনজির দৃশ্যের সাক্ষী থেকেছে রাজধানী। বঙ্গভবনে দিল্লি পুলিশের অতি তৎপরতা, বাংলা থেকে যাওয়া ‘এসআইআর-এ ক্ষতিগ্রস্তদের’ ‘হেনস্থা’, প্রতিবাদে গর্জে উঠে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরের কাপড়ে রাস্তায় নেমে আসা- সোমবার সকাল তেতে উঠেছিল হেইল রোড। গতকাল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে একের পর এক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে যারপরনাই ক্ষোভ উগরে বিকালে CEC জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেড় ঘণ্টার বৈঠক সেরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু রাতেই এই গোটা ঘটনাপ্রবাহে নতুন সংযোজন। প্রশাসনিক সূত্রেই জানা যায়, বাংলা থেকেই ২২ জন পুলিশকর্মীর বিশেষ দল দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। তা নিশ্চিত করেছেন রাজ্য পুলিশের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরাই।
কিন্তু এই বিশেষ দল কি তবে বঙ্গ ভবনের উদ্দেশেই যাচ্ছে? নাহ, সেই সংক্রান্ত কোনও নিশ্চিত খবর মেলেনি। তবে তাঁরা দিল্লিতে গিয়েছেন,তবে তাঁদের উদ্দেশ্য নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফরের সময়ই সোমবার সকালে আচমকা এক নজিরবিহীন ছবি দেখা গিয়েছিল বঙ্গ ভবনের সামনে। কার্যত ঘিরে ফেলা হয় বঙ্গ ভবন। ব্যারিকেড করে হ্যালি রোড বন্ধ করে দেওয়া হয়। তা নিয়ে সকাল থেকে চাপানউতোর বাড়ে।
বঙ্গ ভবনের তিনটি পার্ট রয়েছে। যেখানে এই রাজ্যের সাধারণ মানুষ গিয়ে উঠতে পারেন, সেখানে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে যাওয়া এসআইআর-এ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে রাখা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী বঙ্গ ভবনের অন্য পার্টে ছিলেন। এদিন দিল্লি পুলিশ ওই সাধারণ পরিবারগুলি যেখানে ছিলেন, তার বাইরে ব্যারিকেড দিতে শুরু করে বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছে যান মমতা। বঙ্গ ভবনের ভিতরে কী করে দিল্লির পুলিশ ঢুকেছে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। জানান, বঙ্গ ভবনের ভিতরের নিরাপত্তার দায়িত্ব বাংলার। এই মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে রয়েছেন রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজি পীযূষ পাণ্ডে।
তবে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের পর দিল্লি পুলিশের তরফে এদিন জানানো হয়, বঙ্গ ভবনের ভেতরে দিল্লি পুলিশ ঢোকেনি। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতেই দিল্লির একাধিক জায়গায় পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে এসআইআর আবহের মধ্যেই বঙ্গ ভবনের সামনে দিল্লি পুলিশের তৎপরতাকে ঘিরে এবার নতুন করে সংঘাতের পথে রাজ্য ও কেন্দ্র।