SIR in Bengal: সবে সাড়ে তিন লক্ষ, যে গতিতে কাজ এগোচ্ছে কতজন ভোট দিতে পারবেন? সিঁদুরে মেঘ বাংলায়

West Bengal SIR: নিষ্পত্তি না-হয় হবে, কিন্তু তা কতদিনে? ইতিমধ্য়েই মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে শুরু হয়ে গিয়েছে ভোট বৈঠক। এদিকে এখনও ঝুলে রয়েছে সাড়ে ৫৬ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য। ভোট ঘোষণার পূর্বে কি আদৌ এই লক্ষ লক্ষ ভোটারের বিবেচনাধীন কেসের নিষ্পত্তি হবে?

SIR in Bengal: সবে সাড়ে তিন লক্ষ, যে গতিতে কাজ এগোচ্ছে কতজন ভোট দিতে পারবেন? সিঁদুরে মেঘ বাংলায়
প্রতীকী ছবি Image Credit source: নিজস্ব চিত্র

| Edited By: Avra Chattopadhyay

Mar 02, 2026 | 3:40 PM

কলকাতা: বিচারাধীন ৬০ লক্ষ! বাংলার ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পরিমার্জনে তৈরি হওয়া সংশয়ের মেঘ এখনও ঘিরে ধরাচ্ছে এই ৬০ লক্ষ ভোটারকেই। আসন্ন নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থাকবে কিনা সেই নিয়েই তৈরি হয়েছে প্রশ্নের পাহাড়। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। যদিও কমিশন আশ্বাস দিয়েছে দফায় দফায় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করে ভোটারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করবে। কিন্তু তা কি আদৌ নির্বাচনের আগে সম্ভব হবে?

কমিশন সূত্রে খবর, ৬০ লক্ষ বিচারাধীন ভোটারের মধ্য়ে সাড়ে তিন লক্ষ ভোটারের নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। গত সোমবার থেকে সুপ্রিম-নির্দেশে বাংলার এসআইআর-এর কাজ শুরু করেছেন নিযুক্ত জুডিশিয়াল অফিসাররা। ৫৩২ জন জুডিশিয়াল অফিসারের এই কাজে যুক্ত থাকার কথা থাকলেও, কমপক্ষে ৩০০ জন জেলা জজের কাঁধেই এসআইআর-এর দায়িত্ব বন্টন করা হয়েছে। গতকাল অর্থাৎ রবিবার সন্ধ্য়া পর্যন্ত তারা সাড়ে তিন লক্ষ বিচারাধীন বা বিবেচনাধীন ভোটারের কেসের নিষ্পত্তি করেছেন।

কিন্তু এই সাড়ে তিন লক্ষের মধ্যে কি সম্পূর্ণটাই বৈধ ভোটার? সূত্রের খবর, এই সাড়ে তিন লক্ষের মধ্যে ২৫ শতাংশ ভোটার এখনও সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন। তবে বাকি ৭৫ শতাংশ ‘গ্রিন সিগন্যাল’ পেয়ে গিয়েছেন। এই অনুপাত যথেষ্ট ভালো বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আর গোটা ৬০ লক্ষের তালিকায় গড়ে যদি ২৫ শতাংশ অবৈধ বা সন্দেহের তালিকায় রাখা ভোটারকে চিহ্নিত করেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। সেক্ষেত্রে ১৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার সম্ভবনা থাকছে।

নিষ্পত্তি না-হয় হবে, কিন্তু তা কতদিনে? ইতিমধ্য়েই মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে শুরু হয়ে গিয়েছে ভোট বৈঠক। এদিকে এখনও ঝুলে রয়েছে সাড়ে ৫৬ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য। ভোট ঘোষণার পূর্বে কি আদৌ এই লক্ষ লক্ষ ভোটারের বিবেচনাধীন কেসের নিষ্পত্তি হবে? গত সাতদিনের যে হিসাব সেটিকে যদি আধার করা যায়, তা হলে বলা যেতে পারে, সাড়ে ৫৬ লক্ষ ভোটারের বিবেচনাধীন কেসের নিষ্পত্তি ঘটাতে জুডিশিয়াল অফিসারদের সময় লাগবে ১১২দিনের বেশি। কীভাবে?

কমিশনের চোখে মোট বিবেচনাধীন ভোটার রয়েছেন ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন। গত সাতদিনে অর্থাৎ সোমবার থেকে রবিবার পর্যন্ত জুডিশিয়াল অফিসাররা নিষ্পত্তি করেছেন সাড়ে তিন লক্ষ কেস। পড়ে রইল ৫৬ লক্ষ ৫৬ হাজার ৬৭৫টি কেস। গত সাতদিনে ৩০০ জন জুডিশিয়াল অফিসার দৈনিক নিষ্পত্তি করেছেন ৫০ হাজার কেস। এক জন অফিসার গড়ে ১৬৬ জন ভোটারের নথি দেখেছেন। তা হলে এই হিসাবেই যদি কোনও অফিসার সপ্তাহে প্রতিদিন কাজ করেন, তা হলে বাকি ৫৬ লক্ষ ৫৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নথি যাচাইয়ে সময় লাগবে ১১৩ দিন অর্থাৎ তিন মাসেরও অধিক।

কিন্তু কমিশনের হাতে কি ওত সময় রয়েছে? বাংলার বিধানসভা নির্বাচন দোরগোড়ায়। যদি মে মাসের মধ্য়েও নির্বাচন শেষ করতে হয়, কমপক্ষে তা ঘোষণা করতে হবে আগামী ২০ দিনের মধ্য়ে। কিন্তু ভোটার তালিকার সম্পূর্ণ সংশোধনে সময় লেগে যাবে ১০০ দিনের অধিক। তা হলে বাংলার ভোটের আগে আদৌ প্রতিটা ভোটার নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন? নাকি প্রশাসনিক অন্ধকারে ঢাকা পড়বে তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার? প্রশ্ন থাকছে। যদিও আস্থার বিষয় ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকে ১০০ জন করে বিচারক চেয়ে পাঠিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। এই ২০০ জন জুডিশিয়াল অফিসার চলে এলে কাজে সামান্য গতি বাড়বে বলেই মনে করছেন একাংশ।