
কলকাতা: ১৪৪ টি আসনের মধ্যে বিজেপির জেতা আসন ছিল ৪৮ টি। তার মধ্যে ৪০টি আসনে পুনরায় প্রার্থী হয়েছেন বিধায়করা। বাদ পড়েছেন বর্তমান ৮ জন বিধায়ক। তালিকায় নেই শীতলকুচির বিধায়ক বরেন বর্মণ। কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক সৌমেন রায়। খড়গপুর সদরে হিরণ চট্টোপাধ্যায়। বালুরঘাটের অশোক লাহিড়ী। বলরামপুরের বানেশ্বর মাহাতো। রঘুনাথপুরের বিবেকানন্দ বাউরি। আরামবাগ মধুসূদন বাগ। গোঘাটের বিধায়ক বিশ্বনাথ কারক।
সূত্রের একাংশের খবর, এই আটজনের মধ্যে পরের তালিকায় কারও ঠাঁই পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। আরেকটি অংশের দাবি, পরের তালিকায় যে এই আটজনের মধ্যে কয়েকজনকে দেখা যাবে না, এটা এখনই বলার সময় আসেননি। পারফরম্যান্স, জনসংযোগ, এলাকায় যোগাযোগ, সমীক্ষক সংস্থার রিপোর্ট আর গোষ্ঠী লড়াই, এই সব হিসাব-নিকাশের উপর ভিত্তি করেই বিজেপির প্রার্থী বদল করা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
অশোক লাহিড়ীর ক্ষেত্রে বালুরঘাটের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদের সমীকরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে। বলরামপুর আর রঘুনাথপুর আসনে ২০২৪ সালের ভোটের নিরিখে বিজেপি তৃণমূলের থেকে পিছিয়ে ছিল। সেই নিরিখে প্রার্থী বাছাই হলেও কাশীপুর ও শালতোড়া আসনে নতুন মুখ দেখা যেত বলেই মত অনেকের। তবে সমীক্ষক সংস্থার রিপোর্ট কারণে বলরামপুর ও রঘুনাথপুরে প্রার্থী বদল হয়েছে।
গোঘাটে বিশ্বনাথ কারকের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাংগঠনিক কাজকর্মের ক্ষেত্রে খুব সক্রিয় ছিলেন না। যা তার টিকিট পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। মধুসূদন বাগ দলের কাছে সর্বজনবিদিত হতে পারেননি। যা তাঁকে প্রার্থী না করার পিছনে অন্যতম কারণ বলছেন বিজেপির একাংশ।
উত্তপ্ত শীতলকুচিতে জয় লাভ করলেও পরবর্তীতে সংগঠনের কাজকর্মের সঙ্গে সেভাবে নিজেকে মেলাতে পারেনি বরেন বর্মণ। যার প্রভাব পড়েছে তাঁর প্রার্থী চয়নের ক্ষেত্রে। কালিয়াগঞ্জে বাদ পড়েছেন সৌমেন রায়। তিনি বিজেপির প্রতীকে জেতার পরে তৃণমূলে গিয়েছিলেন। আবারও বিজেপিতে ফিরেছিলেন। তবে কালিয়াগঞ্জে কর্মীদের মধ্যে বিধায়ককে নিয়ে ক্ষোভ ছিল। সেই কারণেই না কি তাঁকে এবার প্রার্থী করা হয়নি বলে চর্চা বিজেপির অন্দরে।
খড়গপুর সদর থেকে হিরণ চট্টোপাধ্যায় বাদ পড়েছেন। কারণ, দিলীপ ঘোষের ইচ্ছাকে মান্যতা দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। তাই হিরণ বাদ পড়েছেন। তবে অনেকের মতে, হিরণের দ্বিতীয় বিয়েও নাকি তাঁর আসন খোয়ানোর অন্যতম কারণ। কেউ কেউ বলছেন, হিরণের নাম দ্বিতীয় তালিকায় থাকলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।