Anandapur Fire: কাউকে বলতে পারছে না, ‘স্বজন’-দের খোঁজে আনন্দপুরে অগ্নিদগ্ধ গুদামে দৌড়ে বেড়াচ্ছে সারমেয়
Fire in a godown in Anandapur: এখনও পর্যন্ত ৩ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও নিখোঁজ ২১ জন। নিখোঁজদের আত্মীয়রা ঘন ঘন গুদামঘরের সামনে ভিড় করছেন। যতটা যাওয়া সম্ভব, ততটা ভিতরে গিয়ে দেখছেন। এমনকি, পুলিশ-প্রশাসনের কাছে কাছে খোঁজ নিচ্ছেন। নিখোঁজ আত্মীয়দের নাম লেখাচ্ছেন। দীর্ঘক্ষণ প্রিয়জনের খোঁজ না পেয়ে ক্ষোভও উগরে দিচ্ছেন অনেকে।

আনন্দপুর: আগুন লাগার পর কেটে গিয়েছে ১২ ঘণ্টার বেশি। নিখোঁজদের খোঁজে বারবার পুলিশ-প্রশাসনের কাছে ছুটে যাচ্ছেন পরিজনরা। কিন্তু, সে কাউকে কিছু বলতে পারছে না। তারও ‘স্বজন’-রা যে সেখানে থাকত। এখন কোথায় তারা? সবাই ঠিক রয়েছে তো? পুলিশ-প্রশাসনের কাছে গিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা জানাতে পারছে না সে। তাই, সকাল থেকে বারবার আনন্দপুরের অগ্নিদগ্ধ গুদামের চারপাশে দৌড়ে বেড়াচ্ছে একটি সারমেয়।
আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ওই গুদামে রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ আগুন লেগেছিল। গুদামটিতে মূলত শুকনো, প্যাকেটজাত খাবার মজুত করা থাকত। ছিল ঠান্ডা পানীয়ের বোতলও। দমকল আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, ওই এলাকায় মোট দুটো সংস্থা ছিল। একটি মোমো কারখানা, আর তার পাশে ডেকরেটর্সের গোডাউন। স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ বলছেন, রবিবার রাতে ওই গোডাউনেই পিকনিক ছিল। ২০ জন তো বটেই, অন্ততপক্ষে ৩০ জনের মতো ভিতরে থাকার কথা।
এখনও পর্যন্ত ৩ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও নিখোঁজ ২১ জন। নিখোঁজদের আত্মীয়রা ঘন ঘন গুদামঘরের সামনে ভিড় করছেন। যতটা যাওয়া সম্ভব, ততটা ভিতরে গিয়ে দেখছেন। এমনকি, পুলিশ-প্রশাসনের কাছে কাছে খোঁজ নিচ্ছেন। নিখোঁজ আত্মীয়দের নাম লেখাচ্ছেন। দীর্ঘক্ষণ প্রিয়জনের খোঁজ না পেয়ে ক্ষোভও উগরে দিচ্ছেন অনেকে। উদ্ধারকাজে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ। বাড়ছে নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের ক্ষোভ।
এরইমধ্যে ওই সারমেয়কে বারবার দেখা যাচ্ছে গুদামঘরের আশপাশে। সকাল থেকেই অনেকে বিষয়টি খেয়াল করেছেন। আর পাঁচজনের মতই মোমো ও ডেকরেটর্সের গুদামঘরে দৌড়ে বেড়াচ্ছে। কিন্তু কেন? স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এখানে অনেক কুকুর ছিল। আর তাদেরই বোধ হয় খোঁজার চেষ্টা করছে ওই কুকুরটি। পুলিশের কাছে গিয়ে ‘স্বজনদের’ নাম লেখানোর উপায় নেই তার। তাই নিজেই খোঁজ চালাচ্ছে। সে কি খোঁজ পাবে অন্য সারমেয়দের? সেই আশাতেই সকাল থেকে অগ্নিদগ্ধ গুদামের আশপাশে দৌড়ে বেড়াচ্ছে সে।
