
কলকাতা: রাজ্যের দুই দিকে দুই ছবি। এক দিকে যখন মুর্শিদাবাদের বেশ কিছু এলাকায় অশান্তি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারার অভিযোগ উঠছে রাজ্য পুলিশের দিকে। সেই সময় বুধবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট শেয়ার করে ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের প্রশংসা করলেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়।
এদিন নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, ‘এলাকাজুড়ে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ। আপনাদের এই অক্লান্ত পরিশ্রমকে আমি শ্রদ্ধা জানাই।’ অভিষেকের সংযোজন, ‘এলাকাজুড়ে শান্তি ও জেলা প্রশাসনের প্রতি আস্থা রাখার জন্য ডায়মন্ড হারবারের সকল সম্প্রদায়ের মানুষকেও আমি ধন্যবাদ জানাই।’
উল্লেখ্য়, দিন কতক ধরেই মালদা, মুর্শিদাবাদ, হুগলি-সহ রাজ্যে একাধিক জেলায় ওয়াকফ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে চড়েছে পারদ। একটা সময় পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে বেরিয়ে যায় যে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ, ধুলিয়ানের মতো একাধিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে অশান্তি। ঘরছাড়া হয় বহু পরিবার। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় পুলিশের গাড়ি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশেষ আবেদনে বিএসএফ মোতায়েনের নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। প্রশ্নের মুখে পড়ে রাজ্য পুলিশ। বলা বাহুল্য, পয়লা বৈশাখের পর নতুন করে ছন্দে ফিরছে মুর্শিদাবাদ। কিন্তু পুলিশের ‘বদনাম’? সে তো এখনও ঘুঁচে যায়নি।
বুধবারও, ডিজি রাজীব কুমারের সঙ্গে বৈঠকের পর রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘বিএসএফ পুলিশ পাশাপাশি রাখলে, পুলিশ সব থেকে বেশি দাঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম, ওরা প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত। এদিকে আক্রান্তরা বলছে, বিএসএফ বেশি ভাল কাজ করেছে। অন্যদিকে ডিজি আবার আমাদের জানিয়েছেন, পুলিশ নাকি পর্যাপ্ত ছিল না। অর্থাৎ গোয়েন্দা বিভাগ তাদের আগাম কোনও খবরই দেয়নি। এটার মানে একটাই, তারা ব্যর্থ। কিন্তু এই ব্যর্থতার দায়টা নেবে কে?’ অশান্তি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। এবার সেই আবহেই এক দিকে যখন বিরোধীদের প্রশ্নবাণে বিঁধছে রাজ্য পুলিশ, তখন ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের প্রশংসায় পঞ্চমুখ অভিষেক।