AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Adhir Chowdhury: ‘মমতা বিজেপির ট্রয়ের ঘোড়া, ওঁকে বিরোধী জোট থেকে দূরে রাখতে হবে’

Adhir Chowdhury On Mamata Banerjee: মমতাকে 'বিশ্বাসযোগ্য' জোটসঙ্গী বলে মানতে নারাজ লোকসভার কংগ্রেস দলনেতা।

Adhir Chowdhury: 'মমতা বিজেপির ট্রয়ের ঘোড়া, ওঁকে বিরোধী জোট থেকে দূরে রাখতে হবে'
অধীর বলেছেন, ২০২৪ সালের বিরোধী জোট গঠনের প্রক্রিয়া থেকে যেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্রাত্য রাখা হয়। অলঙ্করণ-অভীক দেবনাথ
| Edited By: | Updated on: Sep 29, 2021 | 10:13 PM
Share

কলকাতা: গত সপ্তাহের কথা। তৃণমূল মুখপত্রের সম্পাদকীয়তে জাতীয় স্তরে কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করা হয়। এমনকি, কংগ্রেসকে ‘পচাডোবা’র সঙ্গেও তুলনা করে এ রাজ্যের শাসকদল। বেশিদিন অপেক্ষা করতে হল না। ফের একবার তৃণমূল নেত্রীকে দাঁত-নখ বের করে আক্রমণ করলেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Adhir Chowdhury)। যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) জাতীয় রাজনীতিতে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে টক্কর দেওয়ার প্রতিপক্ষ বলে কেউ কেউ মনে করতে শুরু করেছেন, সেই মমতাকেই ‘বিশ্বাসযোগ্য’ জোটসঙ্গী বলে মানতে নারাজ লোকসভার কংগ্রেস দলনেতা।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অধীর বলেছেন, ২০২৪ সালের বিরোধী জোট গঠনের প্রক্রিয়া থেকে যেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা তাঁর দলকে ব্রাত্য করে রাখা হয়। কারণ কংগ্রেসকে বলি করে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে চাইছেন, এমনটাই দাবি অধীরের। তাঁর কথায়, “যে হাত ওঁকে খাওয়ায়, মমতা সর্বদা সেই হাতেই কামড় দিতে চেয়েছেন। বিরোধী ঐক্য গঠনের থেকে ওঁকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে। মমতা হল বিজেপির ট্রয়ের ঘোড়া। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যাঁকে কখনও ভরসা করা যায় না।”

কী এই ট্রয়ের ঘোড়া? ট্রয়ের ঘোড়া বা ট্রয়ের অশ্ব হচ্ছে ট্রয় বা ইলিয়ন নগরের পতনের কাহিনি। যা বিখ্যাত গ্রীক উপকথার অঙ্গ। কথিত আছে, গ্রীকরা একটি অতিকায় কাঠের ঘোড়া তৈরি করেছিল। তার ভিতরে সৈনিকদের লুকিয়ে রেখে ঘোড়াটিকে ট্রয় নগরের কাছে এনে দাঁড় করানো হয়। ট্রয়বাসীরা মহা আনন্দে ঘোড়াটাকে শহরের ভিতরে নিয়ে আসে। কিন্তু রাতের অন্ধকারে গ্রীক সৈন্য ঘোড়ার পেটের ভিতর থেকে বেরিয়ে ট্রয় শহরের দরজা খুলে দেয় এবং গ্রীকরা সেখানে ঢুকে তাতে দখল নিয়ে নেয়। মমতাও বিজেপির হয়ে ঠিক একই ভূমিকা নিচ্ছেন বলে মনে করেন অধীর।

বহরমপুরের সাংসদের রাগের কারণও আছে। প্রথমে সুস্মিতা দেব, এবং আজ গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লুইজিনহো ফেলেইরিও। জাতীয় স্তরেও কংগ্রেসের ঘরে বড় ধরনের আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে তৃণমূল। যা দেখে রীতিমতো তেলেবেগুনে জ্বলছেন অধীর। সেটা তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমেই কার্যত স্পষ্ট। অধীরের কথায়, “ইডি এবং সিবিআই-এর সাঁড়াশি চাপ থেকে নিজের পরিবার ও দলীয় নেতাদের বাঁচাতে মমতা মরিয়াভাবে প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করার চেষ্টা করছেন। আসলে, বিজেপির উদ্দেশ্য কংগ্রেস-মুক্ত ভারত গড়তে তিনি সাহায্য করছেন। বিরোধী ঐক্যকে নষ্ট করতে চাইছে তৃণমূল।”

কিন্তু মমতা কেন কংগ্রেসকে শেষ করতে চাইবেন? সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন অধীর। “মমতা ব্যানার্জি আসলে দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। এবং তাঁর রাস্তায় সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে কংগ্রেস। যতদিন কংগ্রেস রয়েছে, ততদিন মমতা কখনই বিরোধী জোটের নেত্রী হতে পারবেন না। সেই কারণে তিনি কংগ্রেসের ভাবমূর্তি ও নেতৃত্বকে ক্রমাগত ছোট করা চেষ্টা করছেন।” বক্তব্য কংগ্রেস সাংসদের।

আরও পড়ুন: Suvendu Adhikari: হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট আর নবান্ন মিলে মিশে এক, ‘কমিশন কি ঘুমোচ্ছে?’, কীসে বিরক্ত শুভেন্দু?