
কলকাতা: দীর্ঘ সময় ধরে তিনি রাজ্যের মন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতর সামলেছেন তিনি। শাসকদলের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী তথা নেতা-নেত্রীদের তালিকায় উপরের দিকেই থাকে তাঁর নাম। দীর্ঘ সময় সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও আদতে আইনজীবী চন্দ্রিমা ভট্টচার্য। আজ শুক্রবার প্রায় ১৩ বছর পর আদালতের এজলাসে হাজির হতে দেখা গেল চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে।
বৃহস্পতিবার আইপ্যাক অফিসে ইডি-র তল্লাশি ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। তল্লাশির মাঝেই আইপ্যাক অফিস ও সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেশ কিছু ফাইল গাড়িতে তুলে বেরিয়ে যান তিনি। তৃণমূলের অভিযোগ, তাঁদের দলের সঙ্গে সম্পর্কিত ফাইল চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই ইস্যুতে মামলাও করেছে তৃণমূল। মামলা করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। আজ, শুক্রবার সেই জোড়া মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে।
সেই শুনানি শুরু হওয়ার আগেই এদিন হাজির হন রাজ্যের অর্থ ও স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। শুক্রবার দুপুর ২টোতেই এজলাসে হাজির হন চন্দ্রিমা। মামলা শুনতেই গিয়েছিলেন তিনি।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি পাশ করা চন্দ্রিমা হাইকোর্টে আইনজীবী প্র্যাকটিস করেছেন একসময়। ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর তিনি বিধায়ক হন, পরবর্তীতে মন্ত্রী হন। তাই এখন আর সওয়াল-জবাব করতে যেতে পারেন না তিনি।
হাইকোর্ট চত্বরে অবশ্য প্রায়ই দেখা যায় মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে। তবে এত বছরে কোনও মামলায় এজলাসে দেখা যায়নি তাঁকে। এমনকী সারদা বা নারদের মতো বড় মামলাতেও তিনি কোর্টে যাননি। কেন এই মামলায় এজলাসে এলেন? এই প্রশ্নের উত্তরে চন্দ্রিমা জানান বর্তমানে হাইকোর্টের তৃণমূলের লিগাল সেলের চেয়ারম্যান, তাই মামলা শুনতে এসেছেন।
তবে শুধু চন্দ্রিমা নন, এদিন বিপুল সংখ্যক তৃণমূল সমর্থক উপস্থিত ছিলেন কোর্টরুমে। এত ভিড় ছিল যে শুনানিই হয়নি, এজলাস ছেড়ে চলে যান বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। আগামী ১৪ জানুয়ারি হবে এই মামলার শুনানি।