
হুগলি: সেলিম বলেছিলেন, প্রতীক-উরের পদত্যাগ তাঁর জন্য ‘সন্তানহারা’ হওয়ার সমান। এদিকে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় বললেন, “প্রতীক-উরকে নিয়ে বলার মতো মানসিক অবস্থা তাঁর নেই।” শনিবার বিকালে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমতলার কার্যালয়ে গিয়ে ‘প্রতীক-বদল’ করলেন প্রতীক-উর রহমান। সেলিমকে ‘গব্বর’ বলা প্রতীক-উর এখন আগের দলের ভিতরে-বাইরে হয়ে গিয়েছেন ‘গদ্দার’। কিন্তু তাঁকে নিয়ে রা-কাটতে নারাজ মীনাক্ষী।
এদিন কোন্নগরের মাস্টারপাড়ায় সিপিএমের গণ অর্থ সংগ্রহ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। সেই সময় তাঁকে প্রশ্ন করা হয় প্রতীক-উরের দলবদল নিয়ে। যার পাল্টা তিনি বলেন, “এই লড়াই তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে, রাজ্য়ে চলা গুন্ডারাজের বিরুদ্ধে, দাঙ্গাবাজদের বিরুদ্ধে — বাংলাকে বাঁচানোর লড়াই। সেখানে যারা দাঙ্গাবাজদের বিরুদ্ধে থাকবেন তারা এক সঙ্গে লড়ছেন। জান কবুল করে পথে পড়ে রয়েছেন। এরকম আরও অসংখ্য কর্মীরা আছেন যারা লাল ঝান্ডা ধরবেন, ধরছেন। কমরেড প্রতীক-উরের সঙ্গে পুলিশের ব্যারিকেডের এপারে দাঁড়িয়ে মার খেয়েছি।”
দল ছাড়ার পর থেকেই ঘরে-বাইরে এক সুর প্রতীক-উরের। টিভি৯ বাংলাকেও তিনি সাফ জানিয়েছিলেন, “সেলিম গব্বর সিং। দলের রাহুল দ্রাবিড়ের মতো ইয়েস স্যর বললে তবেই কাজ পাওয়া যায়।” এমনকি, দলের মধ্য়ে এখন এক নেতাকে ঘিরে ‘ডর কা মহল’ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। কিন্তু এই সকল অভিযোগকে ফুৎকার দিয়ে উড়িয়ে দিলেন মীনাক্ষী। বিশেষ শব্দ খরচ না-করেই তিনি বললেন, “আমরা তা হলে দলে কীভাবে রয়েছি?” পাশাপাশি, বিজেপিকে হারাতে পারে একমাত্র তৃণমূল — যোগদানের পর প্রতীক-উরের এই আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য়কেও খণ্ডন করেছেন মীনাক্ষী। তাঁর দাবি, “সিপিএমের আমলে বিজেপি দাঁত ফোটাতে পারেনি। তৃণমূলের জল-হাওয়াতেই ওরা এই রাজ্য়ে বেড়ে উঠেছে।”