Agnimitra Paul: ‘তৃণমূলের ভোট লুঠ নিয়ে যেন একটাও কথা না বলে সিপিএম’, কেন বললেন অগ্নিমিত্রা?

Agnimitra Paul attacks CPIM: সিপিএমকে মনে করিয়ে দিয়েছেন তাদের কর্মীদের মৃত্যুর ঘটনা। তাঁর প্রশ্ন, যে তৃণমূলের জন্য বাম কর্মীদের প্রাণ হারাতে হয়েছে,তা ভুলে কীভাবে তৃণমূলের সঙ্গে হাত মেলাতে পারে সিপিএম? লেখেন, "সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই রাজনৈতিক সমঝোতার মূল্য কি ভুলে যেতে হবে সেই সমস্ত সিপিএম কর্মীদের, যাঁরা তৃণমূল শাসনকালে প্রাণ হারিয়েছেন?"

Agnimitra Paul: তৃণমূলের ভোট লুঠ নিয়ে যেন একটাও কথা না বলে সিপিএম, কেন বললেন অগ্নিমিত্রা?
বাঁদিকে অগ্নিমিত্রা, ডানদিকে বেবি-মমতাImage Credit source: Tv9 Bangla

| Edited By: শুভশ্রী রায়চৌধুরী

Nov 01, 2026 | 4:19 PM

কলকাতা: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) অপসারণের দাবিতে জাতীয় মঞ্চে সিপিএম-তৃণমূলের (CPIM-TMC) ‘রাজনৈতিক সখ্যতা’ নিয়ে জোর চর্চা চলছে। এই ইস্যুকে হাতিয়ার করেই সরব হয়েছে বিজেপি (BJP)। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গে এম এ বেবির (M.A Baby) সৌজন্য সাক্ষাতকে নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। এবার সুর চড়ালেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পলও (Agnimitra Paul)। এম এ বেবি ও মমতা বন্ধ্যোপাধ্যায়ের ছবি পোস্ট করে বেশ কিছু প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন তিনি। বাম ও তৃণমূলকে একযোগে আক্রমণ করে বলেন, “এই দ্বিচারিতা বাংলার মানুষ কোনওভাবে মেনে নেবে না।”

বামেদের আক্রমণ অগ্নিমিত্রার

আজ, রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে ইন্ডি জোটের মেগা সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখানেই এদিন রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এম এ বেবি, অধীর চৌধুরীরা। সেই সমাবেশেরই একটি ছবি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছেন অগ্নিমিত্রা। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, মমতা বসে রয়েছেন। তাঁর পাশে অখিলেশ যাদব আর তার ঠিক পরেই এম এ বেবি। জাতীয় মঞ্চে কার্যত মমতা-বেবিকে পাশাপাশি দেখা গিয়েছে। সেই ছবি পোস্ট করে অগ্নিমিত্রা লেখেন, “এই ছবিটা থেকে যাবে। রাজনীতির ইতিহাসে থেকে যাবে এক অদ্ভুত রাজনৈতিক সমীকরণের সাক্ষী হয়ে।”

‘এই রাজনৈতিক সমঝোতা বাংলা প্রশ্ন তুলে দিয়েছে’

এরপরই অগ্নিমিত্রার বাকি পোস্ট জুড়ে কখনও বামেদের নিশানা করেছেন, কখনও বাম ও তৃণমূলকে একযোগে রেখে আক্রমণ করেছেন। তাঁর কথায়, “জাতীয় রাজনীতির স্বার্থে এই রাজনৈতিক সমঝোতা বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।” তার কারণ হিসেবে লেখেন, “যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বাংলায় ভোট লুঠের অভিযোগ তুলে বছরের পর বছর আন্দোলন করেছে বামেরা, সেই মমতার সঙ্গেই যখন ভোটচুরির প্রতিবাদে পথে নামতে হচ্ছে, তখন বাংলায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোট লুঠের অভিযোগ তোলার নৈতিক অধিকার আর থাকবে না।”

বাম কর্মীদের আত্মত্যাগের প্রতি অসম্মান

সিপিএমকে মনে করিয়ে দিয়েছেন তাদের কর্মীদের মৃত্যুর ঘটনা। তাঁর প্রশ্ন, যে তৃণমূলের জন্য বাম কর্মীদের প্রাণ হারাতে হয়েছে,তা ভুলে কীভাবে তৃণমূলের সঙ্গে হাত মেলাতে পারে সিপিএম? লেখেন, “সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই রাজনৈতিক সমঝোতার মূল্য কি ভুলে যেতে হবে সেই সমস্ত সিপিএম কর্মীদের, যাঁরা তৃণমূল শাসনকালে প্রাণ হারিয়েছেন? বাংলার মাটিতে একের পর এক বাম কর্মীর মৃত্যুর ঘটনা, তাঁদের পরিবারের কান্না, তাঁদের রাজনৈতিক লড়াই-সবকিছু কি আজ জাতীয় রাজনীতির স্বার্থে বিস্মৃতির অতলে ঠেলে দেওয়া হবে? যাঁদের মৃত্যুকে সামনে রেখে সিপিএম এতদিন তৃণমূলের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে, আজ সেই তৃণমূলের সঙ্গেই হাত মেলাতে চলেছে দলের সর্বভারতীয় নেতৃত্ব।” তাঁর কথায়, “তৃণমূলের সঙ্গে আজকের সমঝোতা বাম কর্মীদের আত্মত্যাগের প্রতি অসম্মান বলেই মনে করছেন অনেকে।”

আর কী বললেন অগ্নিমিত্রা?

অগ্নিমিত্রা পোস্টে আরও লেখেন, “সিপিএম ও তৃণমূলের এই রাজনৈতিক আঁতাত বাংলার মানুষের কাছে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন। একদিকে নিহত বাম কর্মীদের স্মৃতি, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা-এই দ্বিচারিতা মানুষ প্রত্যাখ্যান করবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে ভোটচুরির প্রতিবাদ করতে যাচ্ছেন এম এ বেবি। এবার বাংলায় তৃণমূলের ভোট লুঠ নিয়ে সিপিএম যেন আর একটা কথাও না বলে! এই অশুভ আঁতাতের জবাব বাংলার মানুষ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই দেবেন।”

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us