
কলকাতা: জল দেওয়া ছাড়া দমকল কোনও কাজ করতে পারছে না। আমাদের পরিচিতদের বডি হয়তো আমাদেরই খুঁজে নিতে হবে! — সোমবার দিনভর অপেক্ষা করেও যখন চোখের সামনে সামান্য আশার আলো দেখতে পেলেন না আনন্দপুরে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া কর্মীদের পরিবারের সদস্যরা, সেই সময় ঠিক এই ভাবেই হল ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। আনন্দপুরের শুকনো খাবারের কারখানায় হওয়া অগ্নিকাণ্ড সামাল দিতে যুদ্ধকালীন তৎপরতার সঙ্গে নেমেছিল দমকলবাহিনী। কিন্তু আগুনের লেলিহান শিখাকে বাগে আনতে বারংবার ব্যর্থ হয়েছে তাঁরা।
২৪ ঘণ্টা কেটে গিয়েছে। রাত পেরিয়ে ভোর হয়েছে। এর মাঝে বেশ কিছু ঝলসে যাওয়া দেহ, কঙ্কালও উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু আগুন এখনও নেভেনি। মঙ্গলবার সকাল ৬টা। তখন আর ১২টি ইঞ্জিন নেই, রয়েছে পাঁচটি ইঞ্জিন। বারংবার যাওয়া-আসা করছে তারা, ছোটাচ্ছে জলের ফোয়ারা। কিন্তু আগুন থামছে না। ধিকিধিকি জ্বলছে আনন্দপুরের ওই নাজিরাবাদের গুদাম। ফলত মৃতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে চলেছে বলেই আশঙ্কা।
সোমবার সন্ধ্য়া গড়াতেই নাজিরাবাদের গুদামে নিয়ে আসা আর্থ মুভার। বাতাসে তখনও পোড়া গন্ধ কাটেনি। ওই বিশাল গুদামের বাইরে উপস্থিত ব্যাকুল জনতা দাবি করেছিল, অগ্নিকাণ্ডের রাতে সেখানে ৩০ জনের অধিক কর্মী ছিল। হিসাব আপাতত সেই দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রথমে তিন জন কর্মীর মৃত্যুর খবর জানা গেলেও, পরে তা বেড়ে হয়ে যায় ৮। এখনও নিখোঁজ ২৫ জন। আগুন নেভেনি, তাই জতুগৃহেই তাঁরা হয়তো ‘বন্দি’ পড়েছে বলে ধারণা।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া ঝলসে যাওয়া দেহ এবং কঙ্কালগুলিকে শনাক্তকরণের জন্য পরিবার-পরিজনদের ডিএনএ-এর নমুনা সংগ্রহ করা হবে। সেই ভিত্তিতে কঙ্কালসার দেহ চিহ্নিতকরণের পর সংশ্লিষ্ট পরিবারকে খবর দেওয়া হবে।