
কলকাতা: ভেঙে পড়েছে কারখানার একাংশ। ধিকিধিকি আগুন এখনও ঘিরে রেখেছে নাজিরাবাদের শুকনো খাবারের কারখানাকে। টানা ৩২ ঘণ্টার অধিক সময় ধরে দফায় দফায় জ্বলেছে আস্ত কারখানাটি। লেলিহান অগ্নিশিখাকে মাত দিতে বারংবার ব্যর্থ হয়েছে দমকল বাহিনী। কারখানায় মজুত অত্য়াধিক দাহ্য পদার্থ বাড়তি ‘অক্সিজেন’ জুগিয়েছে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায়, অনুমান দমকলের।
এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার বেলার দিকে ঘটনাস্থলের পৌঁছলেন দমকলের ডিজি রণবীর কুমার। নজরদারির অভাব রয়েছে, তা স্বীকার করেছেন তিনি। ডিজি যখন অকুস্থলে পৌঁছলেন, সেই সময় আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসে গিয়েছে। কিছু জায়গায় পকেট ফায়ার বা ধিকিধিকি আগুনের শিখা দেখা যাচ্ছে। তবে সেগুলিকে ক্ষণে ক্ষণে নিভিয়ে দিচ্ছে দমকলবাহিনী। এদিকে হদিশ মেলেনি ২৫-এর অধিক কর্মীর। ঘটনার দিন রাতে ওই কারখানাতেই ছিলেন তাঁরা। এছাড়াও মৃত্যু হয়েছে আরও আট কর্মীর।
এদিন দমকলের ডিজি বলেন, ‘আমি বলতে পারি, এই কারখানার জন্য দমকলের দিক থেকে কোনও অনুমতি ছিল না। আইনের লঙ্ঘন হয়েছে। তাই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমরা জানি, এগুলি নিয়ে আগে থেকে নজরদারি করার প্রয়োজন ছিল। সব দিকেই নজরদারি রয়েছে, কোনও কারণে হয়তো এই দিকে বাদ পড়ে গিয়েছিল।’
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার এই অকুস্থলে যেতে চলেছে ফরেন্সিকের দল। নিখোঁজ ব্য়ক্তিদের পরিবারের সদস্যদের চিহ্নিত করে একটি এমআর বাঙুর হাসপাতালে ডিএনএ-র নমুনা সংগ্রহ করা হবে। সেই ভিত্তিতে উদ্ধার হওয়া কঙ্কালসার মৃতদেহগুলিকে চিহ্নিত করবেন চিকিৎসকরা। তারপর তা ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হবে কাঁটাপুকুর মর্গে। নাজিরাবাদের এই ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়ে গিয়েছে সংশ্লিষ্ট কারখানার কর্তৃপক্ষ। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকেই সুইচড অফ হয়েছে মালিক ও শ্রমিক ঠিকাদারদের ফোন। তাদের খোঁজে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করার কথা জানিয়েছে দমকলও।