কলকাতার বাবুঘাটে রানি রাসমণির চোখের জল, কে এই বাবু?

মনে রাখার মত বিষয় সেই সময় গণপরিবহন ব্যবস্থায় একটা বড় ভূমিকা পালন করেন জনপথ। সেই সময় ঘাট শুধু স্নানের বিষয় ছিল না। যুগের পর যুগ ধরে মানুষের আশ্রয়স্থল বাবুঘাট। তার সুবিস্তৃত মণ্ডপ , গম্বুজ - রোদের তাপ বৃষ্টির হাত থেকে মায়ের মত আগলে রাখে সাধারণ মানুষকে। এখনও গঙ্গাসাগর মেলার সময় গঙ্গার ঘাটে এসে ভিড় জমান বহু সাধু সন্তরা। ধর্মপ্রাণ রানি রাসমণির তৈরি আশ্রয়স্থলে এসে আশ্রয় নেন বহু মানুষ। ।

কলকাতার বাবুঘাটে রানি রাসমণির চোখের জল, কে এই বাবু?

Jan 14, 2026 | 7:25 PM

” ছলাৎ ছল ছলাৎ ছল ছলাৎ ছল / ঘাটের কাছে গল্প বলে নদীর জল ” ঘাট যেমন নদীর জলের গল্প জানে তেমন করে ঘাটের গল্প কজন জানে? আর সেই ঘাটের নাম যদি হয় কলকাতার বাবুঘাট! জানেন , আমার আপনার এই অতি চেনা বাবুঘাটের বাবুটি আসলে কে?

কী গল্প জড়িয়ে আছে বাবুঘাট তৈরীর পিছনে?

বাবুঘাটের নাম এসেছে জানবাজারের সমৃদ্ধ জমিদার, লোকমাতা রানি রাসমণি দেবীর স্বামী , বাবু রাজচন্দ্র দাসের নাম থেকে। ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দে রাজচন্দ্র দাসের মৃত্যুতে একা হয়ে পড়েন রানি রাসমণি দেবী । অর্থ, প্রাচুর্য সব থাকলেও ভালবাসার মানুষ ছাড়া সব কিছুই অর্থহীন লাগছিল রানি রাসমণি দেবীর। ভালবাসাকে হারিয়ে যেতে দেননি তিনি। আবার তাজমহলের মত অত্যাশ্চর্য স্থাপত্য নিদর্শন তৈরি করে অমর প্রেম গাঁথার পথেও হাঁটেননি রানি, কারণ তিনি যে লোকমাতা। মানুষের কথা ভাবার জন্যই রাসমণি সকলের কাছে লোকমাতা হয়েছিলেন, আর তাই নিজের অত্যন্ত ব্যক্তিগত শোকের মুহূর্তেও প্রাণপ্রিয় স্বামীকে হারিয়ে, তাঁর স্মৃতিকে অমলিন রাখার জন্য মানুষকে বেছে নিয়েছিলেন রাসমণি। চাইলেই তিনি তার অর্থ প্রাচুর্য দিয়ে একটা চমৎকার স্মৃতি সৌধ বানাতে পারতেন। কিন্তু সেদিকে না গিয়ে সাধারণ মানুষের, গরিব দেহাতি জনগণের কথা ভেবে তাঁদের জন্য এক সুবিশাল গঙ্গার ঘাট তৈরি করেন। সাধারণ মানুষের জন্য তৈরি এই আশ্রয়স্থলের মধ্যেই নিজের স্বামী বাবু রাজচন্দ্র দাসকে বাঁচিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন লোকমাতা রানি রাসমণি। মনে রাখার মত বিষয় সেই সময় গণপরিবহন ব্যবস্থায় একটা বড় ভূমিকা পালন করেন জনপথ। সেই সময় ঘাট শুধু স্নানের বিষয় ছিল না। যুগের পর যুগ ধরে মানুষের আশ্রয়স্থল বাবুঘাট। তার সুবিস্তৃত মণ্ডপ , গম্বুজ – রোদের তাপ বৃষ্টির হাত থেকে মায়ের মত আগলে রাখে সাধারণ মানুষকে। এখনও গঙ্গাসাগর মেলার সময় গঙ্গার ঘাটে এসে ভিড় জমান বহু সাধু সন্তরা। ধর্মপ্রাণ রানি রাসমণির তৈরি আশ্রয়স্থলে এসে আশ্রয় নেন বহু মানুষ। ।

সেই সময় খুব কম জায়গাতেই সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য ঘাট ছিল, বাবু ঘাটকে কলকাতার দ্বিতীয় প্রাচীনতম ঘাট হিসেবে মনে করা হয়। শোনা যায় এই ঘাট নির্মাণে সাহায্য করেছিলেন লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক। বিশেষজ্ঞদের মতে প্রায় দুই শতকের পুরনো ইতিহাস বহন করে চলা এই ঘাট ব্রিটিশ-কলোনিয়াল ও গ্রিক স্থাপত্যশৈলীর সংমিশ্রনে তৈরি। বড় থামের উপরে তৈরি ত্রিভুজাকৃতি কাঠামো হল এই ঘাটটির বিশেষত্ব। মূল চাতালের কিছুটা পরেই ঘাটের সিঁড়ি শুরু হয়ে সোজা নেমে গিয়েছে এক্কেবারে গঙ্গার বুকের মধ্যে।

লোকমাতা রানি রাসমণি দেবী এবং তাঁর স্বামী বাবু রাজচন্দ্র দাসের ভালবাসা এই ঘাটের মধ্য দিয়ে মানুষের মনে থেকে যাবে আজীবন।