Taslima Nasrin in Kolkata: ‘…আশা করিনি’, তসলিমার ‘ফেরা’য় কী ভুল হল?
Taslima Nasrin-Joy Goswami: পরিস্থিতির চাপে মঞ্চে ওঠা হল না জয় গোস্বামীর। তসলিমা বলতে শুরু করলেন। প্রত্য়েকটি বাক্যই বার্তা। রাজ্য সরকারকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েও মনে করিয়ে দেন, তা 'আনুগত্যের চুক্তিপত্র নয়।' তসলিমা বলেন, "ইতিহাস মনে রাখবে, কারা দরজা বন্ধ করেছিল। আর কারা দরজা খুলল।"

কলকাতা: ১৯ বছর পর কলকাতায় তসলিমা (Taslima Nasrin)। দর্শকদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। গান, কবিতা যে মানুষের মধ্যে এমন উন্মাদনা তৈরি করতে পারে, কলকাতা তা আবার দেখল। তবে শনিবারের অনুষ্ঠানে ছন্দের সঙ্গে ‘ইচ্ছে’ দেখার আগ্রহও মানুষের মধ্যে ছিল গগনচুম্বী। ফেরার ইচ্ছে যে এত প্রবল হতে পারে, তসলিমার এই অনুষ্ঠান তার দৃষ্টান্ত। তবে সাড়ে ৩ ঘণ্টার অনুষ্ঠানে তাল কাটল একবার। কবি জয় গোস্বামী (Joy Goswami)-র মঞ্চে ওঠা নিয়ে তুমুল বিশৃঙ্খলা হল রবীন্দ্র সদনে। শেষ পর্যন্ত, মঞ্চে না উঠেই বাড়ি ফিরতে হল তাঁকে।
ছিমছাম অনুষ্ঠানসূচী। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের আসার কথা থাকলেও তাঁর দেখা মেলেনি। বাকি সবাই আগেভাগেই পৌঁছেছিলেন। সবার আগে পৌঁছেছিলেন জয় গোস্বামী। তারপর সৌরভ শিকদার, তথাগত রায়, স্বপন দাশগুপ্তরা। মুখ্যমন্ত্রী নাগরিক সংবর্ধনা দিয়ে বেরিয়ে যান। এক এক করে বলছিলেন বক্তারা। সব শেষে বলতে ওঠেন তসলিমা।
প্রত্যাশিত ছিল, স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে তাঁর ফেরার কথা দিয়েই শুরু করবেন। কিন্তু মাইকে এল অন্য কথা। কবি জয় গোস্বামীকে দেখেই মঞ্চে এসে কিছু বলার জন্য অনুরোধ করলেন তসলিমা। সঙ্গে সঙ্গে মঞ্চের দিকে হাঁটতে শুরু করেন জয় গোস্বামী। তখন থেকেই শুরু হইহট্টগোল। তাঁর মঞ্চে ওঠা মেনে নিতে পারছে না রবীন্দ্র সদন, এটা বিলক্ষণ বুঝছিলেন জয় গোস্বামী। তবু হাঁটছিলেন। তসলিমার মুখে তখন অস্বস্তি স্পষ্ট। সঞ্চালকও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য একবার বললেন, ‘শান্ত হন। দিদি যখন বলেছেন, কোনও কথা হবে না।’ কিন্তু তাতে চিড়ে ভিজল না।

রবীন্দ্র সদনে জয় গোস্বামী।
পরিস্থিতির চাপে মঞ্চে ওঠা হল না জয় গোস্বামীর। তসলিমা বলতে শুরু করলেন। প্রত্য়েকটি বাক্যই বার্তা। রাজ্য সরকারকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েও মনে করিয়ে দেন, তা ‘আনুগত্যের চুক্তিপত্র নয়।’ তসলিমা বলেন, “ইতিহাস মনে রাখবে, কারা দরজা বন্ধ করেছিল। আর কারা দরজা খুলল।” বামপন্থীদের সমালোচনাও শোনা যায় তাঁর মুখে। তবে সব শেষে মন ভালো করা লাইনেই বক্তব্য শেষ করেন তিনি। তসলিমা বুঝিয়ে দেন, কোনও মানচিত্র নয়। মানুষের ভালবাসাই তাঁর দেশ।
জয় গোস্বামী এই নির্বাচনের আগে এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্মতলার ধর্নামঞ্চতেও ছিলেন কবি। ডায়মণ্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও প্রশংসা শোনা গিয়েছিল তাঁর মুখে। এই নিয়ে একাধিকবার তৃণমূল বিরোধীরা সরব হয়েছিলেন। তবে তসলিমার ফেরার খবর শুনে অপরাধবোধে ভুগেছিলেন কবি। কেন গত বছরগুলোয় তসলিমাকে ফেরাতে ‘এক লাইনও লেখেননি,’ সেই আক্ষেপের কথাও বলেছিলেন। মঞ্চেও হয়তো সেই আক্ষেপের কথাই বলতেন। কিন্তু বলতে পারেননি। সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তসলিমা অবশ্য জয়ের না উঠতে পারা নিয়ে বলেছেন, “এটা আশা করিনি।”
