Shahjahan Sheikh: বেদখল নদী পাড়, একশো বিঘা জমির উপরে সুবিশাল বাগানবাড়ি, সব জেনেও ‘ধৃতরাষ্ট্র’ সেচ দফতর?
Shahjahan Sheikh: শাহজাহান শেখ যে আদপে কতটা প্রভাবশালী তা বলে দিচ্ছে বিদ্যাধরী নদীর তিরে থাকা এক নির্মাণ। বর্তমানে সেখানে তৈরি হয়েছে একটি একতলা বাড়ি। ধীরে ধীরে উচ্চতায় আরও বাড়বে। সে চিহ্ন এখনই স্পষ্ট।

কলকাতা: শাসকদলের সঙ্গে থাকলে কত সম্পত্তি করা যায় তা মনে হয় শাহজাহানকে চেনা না গেলে জানাই হত না! ২০১১ সালে সরবেড়িয়ায় পরিত্যক্ত জমির উপরে তৈরি হয়েছে নিজের নামে মার্কেট। শেখ শাহজাহান মার্কেট। আবার বিদ্যাধরী নদীর পাড় বুজিয়ে নিজের কন্যার নামে পিন মার্কেট ও হ্যাচারি তৈরি করতেও নিয়মকানুনের তোয়াক্কা করেননি সন্দেশখালি এলাকায় তৃণমূলের বেতাজ বাদশা শাজাহান শেখ! অভিযোগ এমনই। ধামাখালির বিদ্যাধরী নদীর পাড় গ্রাস করেছে এই বাজার। তবুও শাজাহানের এমনই দাপট নদী পাড় দখলের অভিযোগে পদক্ষেপ না করে ধৃতরাষ্ট্র সেচ দফতর।
শাহজাহান শেখ যে আদপে কতটা প্রভাবশালী তা বলে দিচ্ছে বিদ্যাধরী নদীর তিরে থাকা এক নির্মাণ। বর্তমানে সেখানে তৈরি হয়েছে একটি একতলা বাড়ি। ধীরে ধীরে উচ্চতায় আরও বাড়বে। সে চিহ্ন এখনই স্পষ্ট। পিন মার্কেট ও হ্যাচারিতে চলে চিংড়ি মাছের চারা বিকিকিনির কাজ। যা আবার রয়েছে শেখ সাবিনার নামে। এই সাবিনাই হচ্ছে শাহজাহানের কন্যা। তাঁর নামেই ২০২২ সালের ১০ জানুয়ারি নদীপাড় বুজিয়ে এই হ্যাচারি নির্মাণ করা হয় বলে অভিযোগ। নদী পাড়ে কিন্তু, কোনও স্থায়ী নির্মাণ করা যায় না। অস্থায়ী নির্মাণ করার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। সেটা দেখার কখা সেচ দফতরের। কিন্তু, তারপরেও কী করে এই স্থায়ী নির্মাণ করলেন শাহজাহান? সেই প্রশ্ন উঠছে।
স্থায়ীনরা বলছেন, এই নির্মাণ কাজে বাধা দেওয়ার অর্থ বাঘের মুখে হাত দেওয়া। তাই সেচ দফতরও ধৃতরাষ্ট্র সেজে বসে রয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বলছে তাঁর রয়েছে দেড় কোটি টাকার প্রাসাদোপম বাড়ি। সূত্রের খবর, আলিশান হোটেলে রয়েছে দলীয় কার্যালয়। তবে সে সবকে পিছনে ফেলে দেবে বাসন্তী হাইওয়ের ধারে রাজবাড়ি এলাকায় একশো বিঘা জমির উপরে সুবিশাল বাগানবাড়ি! নারকেল গাছ, সর্ষে ক্ষেতে, বিরাট পুকুরের মধ্যে ভিলার কায়দায় অবসর যাপন কাটাতে তৃণমূলের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা বানিয়েছেন সবুজ রঙের ভিলা। গত ১৪ বছর শাসকদলের ছত্রছায়ায় আক্ষরিক অর্থেই গ্রাম বাংলার বিরাট নেতা এখন শাহজাহান!
