
সবুজ ঘাসে ঢাকা কলকাতার ময়দান আজ শহরের প্রাণকেন্দ্র। ফুটবল ম্যাচ, প্রাতঃভ্রমণ, পিকনিক, আড্ডা, প্রেম, মিটিং, মিছিল সব মিলিয়ে ময়দান থাকে জমজমাট। ইতিহাস বলছে, এই ময়দানের জন্মের পেছনে রয়েছে যুদ্ধ, দখল আর ঔপনিবেশিক শক্তির আধিপত্যের গল্প। ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধ থেকে শুরু সেই ইতিহাস।
আপনি কি জানেন সেই ঐতিহাসিক গল্প?
২৩ জুন ১৭৫৭। নদীয়া জেলার পলাশীতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলার মধ্যে ঐতিহাসিক যুদ্ধ সংঘটিত হয়। সৈন্যসংখ্যায় নবাবের বাহিনী ছিল অনেক বড়। ঐতিহাসিক দলিল অনুযায়ী, মীর জাফর, রায় দুর্লভ ও জগৎ শেঠদের গোপন চুক্তির ফলে নবাব সিরাজউদ্দৌলা কার্যত একা হয়ে পড়েন। এই যুদ্ধের পরেই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার রাজনীতিতে চূড়ান্ত প্রভাব বিস্তার করে এবং ধীরে ধীরে পুরো ভারতের শাসনক্ষমতার পথে এগোয়।
পলাশী যুদ্ধ জয়ের পর ব্রিটিশরা কলকাতাকেই তাদের প্রশাসনিক ও সামরিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলে। ১৭৭২ সালে গড়ে ওঠে নতুন ফোর্ট উইলিয়াম, নিরাপত্তার কারণে যার চারপাশে বিস্তীর্ণ এলাকা ফাঁকা রাখা হয়। এই ফাঁকা এলাকাই পরবর্তীকালে পরিচিত হয় কলকাতার ময়দান নামে। একসময়ের সামরিক ঘাঁটি ছিল ময়দান। ব্রিটিশ নথি অনুযায়ী,
সেনা কুচকাওয়াজ, কামান ও অস্ত্রের মহড়া, সামরিক শিবির স্থাপনের জন্য, ময়দান ব্যবহার করা হত। যাতে শত্রু বাহিনী সহজে ফোর্ট উইলিয়ামকে আক্রমণ করতে না পারে তাই এই খোলা জমি রাখা হয়েছিল।
ময়দানের নীচে কী রয়েছে জানেন?
যদিও ময়দানে পূর্ণাঙ্গ প্রত্নতাত্ত্বিক খনন হয়নি, তবু ইতিহাসবিদদের মতে এই অঞ্চলে একসময় ছিল ব্রিটিশ সেনাদের অস্থায়ী শিবির, সামরিক গুদাম, পুরনো প্রতিরক্ষা কাঠামো। কলকাতার প্রাচীন মানচিত্রে ময়দানকে “Military Open Ground” হিসেবে চিহ্নিত করা রয়েছে।
ময়দান শুধু কলকাতার বিনোদন ক্ষেত্র নয়,বহু বছর ধরে নীরব ইতিহাস বহন করে চলেছে এই ভূমি। পলাশীর যুদ্ধে যে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছিল, তার দীর্ঘ প্রভাব এসে পড়েছিল এই ময়দানের মাটিতেই।
সবুজ ঘাসের নীচে আজও চাপা পড়ে আছে বাংলার হারানো স্বাধীনতার গল্প।