
কলকাতা: বাংলায় ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জনের দ্বিতীয় পর্যায়ে হওয়া শুনানির খতিয়ান তুলে ধরল নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে শুনানি সম্পন্ন ভোটারের সংখ্যা জানাল রাজ্য়ের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বা সিইও-র দফতর।
সংশ্লিষ্ট প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে শুনানি সম্পন্ন হয়েছে ৭ লক্ষ ২৫ হাজার ৮৯৯ জন ভোটারের। এদিন একদিনেই শুনানি হয়েছে মোট ৬৮ হাজার ৫৭৭ জন ভোটারের। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলার এসআইআর পর্বে মোট ৩১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪২৬ জন ভোটারকে ‘আনম্যাপড’ বলে চিহ্নিত করেছিল তারা। অর্থাৎ যে সকল ভোটার ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম পরিবারের সদস্যদের নামের সঙ্গে সঠিক ভাবে লিঙ্ক করতে পারেননি, তাঁরাই ‘আনম্য়াপড’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছিলেন। এদিনের বিজ্ঞপ্তিতে সিইও দফতর জানিয়েছে, সেই ‘আনম্যাপড’দের মধ্য়েই মোট ২৫ লক্ষ ৬০ হাজার ৪৭৬ জন ভোটারের কাছে শুনানি নোটিস পৌঁছে গিয়েছে।
রাজ্যে চলা এসআইআর শুনানি নিয়ে বিবাদ কম নয়। কখনও প্রশ্ন উঠছে, অশীতিপর বর্ষীয়ান নাগরিকদের কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নিয়ে। কখনও প্রশ্ন উঠছে, পরিযায়ীদের নিয়ে। এদিনের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সেই প্রসঙ্গে আবার নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে নির্বাচন কমিশন। তাতে বলা হয়েছে, ৮৫ বছরের বেশি যাদের বয়স, শারীরিক ভাবে অক্ষম কিংবা অসুস্থ — এমন ব্যক্তিদের কাছে শুনানি নোটিস গিয়ে তাদের থাকলে আসার কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই। তাঁদের পরিবার কমিশনের প্রতিনিধিদের সেই ভোটারের শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত করলেই চলবে। তাঁদের শুনানি বাড়িতে গিয়ে করে আসবেন কমিশনের প্রতিনিধিরা।
একই ভাবে বিদেশে থাকা ভারতীয় নাগরিক ও পরিযায়ী শ্রমিকদেরও বিশেষ ছাড় দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাদের শুনানি কেন্দ্রে আসতে হবে না বলেই জানিয়ে তারা। সেক্ষেত্রে ওই ভোটারের প্রতিনিধি হিসাবে তাঁর বাড়ির কোনও সদস্য শুনানি কেন্দ্রে গেলেই হবে।