
কলকাতা: নববর্ষের শুভেচ্ছাতেও মিশল রাজনীতির রং। ভোটের আবহে শুভেচ্ছাবার্তাতেও লুকিয়ে রইল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ। বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী মোদী-মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে শুরু করে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। তাদের সকলের শুভেচ্ছাতে যেমন আগামীর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা রয়েছে, তেমনই উন্নয়ন ও সুশাসনের বার্তাও দেওয়া।
বাঙালি নববর্ষের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী বাংলাতেই জানিয়েছেন। এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, “পয়লা বৈশাখের এই বিশেষ দিনে সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা। আনন্দ ও ভ্রাতৃত্বের চেতনা সদাবিরাজমান থাকুক। আপনার সুস্বাস্থ্য ও অনন্ত সুখ কামনা করি। ভারতের সভ্যতার চেতনাকে গড়ে তোলা পশ্চিমবঙ্গের কালজয়ী সাংস্কৃতিক উদযাপনেরও এটি একটি উপলক্ষ।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ লিখেছেন, “পয়লা বৈশাখের এই শুভ দিনে পশ্চিমবঙ্গের সকল ভাই-বোনদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, সাহিত্যিক এবং বীর বিপ্লবীদের গৌরবে ভরা এই বাংলায় নতুন বছরে আসুক উন্নয়ন, সুশাসন ও সকলের কল্যাণের এক নতুন অধ্যায়। রাজ্যের সকল মানুষের উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ কামনা করছি।”
বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন বলেন, “পয়লা বৈশাখের এই পুণ্য লগ্নে আপনাদের সকলকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা! বাংলা নববর্ষের এই শুভ মুহূর্ত আমাদের মনে এক নবীন আশা এবং সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার সঞ্চার করে। বাংলার সুমহান ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক অহংকারের শিকড়ে প্রোথিত এই উৎসব আজ আমাদের অনুপ্রাণিত করে এক নতুন ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে— এমন এক আগামী, যেখানে প্রতিটি পরিবারের জন্য সুনিশ্চিত হবে সার্বিক উন্নয়ন, সুশাসন এবং মাথা উঁচু করে বাঁচার আত্মমর্যাদা।”
বিজেপির নেতাদের শুভেচ্ছা বার্তায় যেমন উন্নয়ন, সুশাসন ও কল্যাণের নতুন অধ্যায় শুরু করার কথা বলা হয়েছে, সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার সংস্কৃতি রক্ষায় লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী এ দিন ভিডিয়ো বার্তায় বলেন, “শুভ নববর্ষে সকলকে শুভনন্দন জানাচ্ছি। সবাইকে অনেক অনেক নমস্কার, ভাল থাকবেন সকলে। বাংলার একটা ঐতিহ্য, গরিমা আছে, এটা আমাদের বাংলার নববর্ষ। সঙ্গে অনেক রাজ্যের নববর্ষ আছে। বাংলা সংস্কৃতি সম্প্রীতির পীঠস্থান, সমস্ত সামাজিক সংস্কার, জাতীয়তাবাদের, স্বাধীনতা সংগ্রামের পীঠস্থান। বাংলা সর্ব ধর্ম সমন্বয়ের পীঠস্থান। কেন্দ্রীয় বঞ্চনা সত্ত্বেও ১০৫টি সামাজিক কল্যাণ স্কিম শুরু করেছি। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত, সব মানুষের জন্য স্কিম আছে। আগামিদিনেও যাতে মানুষের কল্যাণ করতে পারি, এটাই উদ্দেশ্য। ভোট কাটছে, অনধিকার প্রয়োগ করছে। সব এজেন্সি দিয়ে বাংলার উপরে জুলুমবাজি করছে। এই অত্যাচারের বদলা নিন। আপনার একটা ভোট দিন।”
তিনি আরও বলেন, “আমি নিজে এখান থেকে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছি। যে ৩২ লক্ষের নাম কাটা গিয়েছিল, আমরা সুপ্রিম কোর্টের সাহায্যে তুলতে পেরেছি। বাদ বাকি যারা আছেন, তাদের নামও কোনওভাবে কখনও উঠবে। যাদের ভোট বাদ গিয়েছে, যারা আত্মহত্যা করেছেন, তাদের জন্য আমার মন কাঁদছে। আসুন, দাঙ্গা নয়, রক্ত নয়, অত্যাচার নয়, আসুন আমরা নতুন ভোর নিয়ে আসি। শান্তি, সম্প্রীতি, সংস্কৃতির বার্তা নিয়ে, এই বাংলাকে ভালোবেসে। এই বাংলাকে যদি ভালো রাখতে হয়, তাহলে মনে রাখবেন, গণতন্ত্রের পীঠস্থান হল বাংলার নির্বাচন। অন্য কোথাও নয়, জোড়াফুল চিহ্নেই ভোট দিন। যদি আমার নেতৃত্বে সরকার চান, তাহলে ২৯৪টি কেন্দ্রে আমাদের প্রার্থীকে ভোট দিন।”