
কলকাতা: হটসিট ভবানীপুর। মমতা Vs শুভেন্দুর লড়াই ভোটবঙ্গের রাজনীতির পারদ কয়েক গুণ চড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই ভবানীপুরে নির্বাচনী রণকৌশল তৈরি করতে শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল। বৃহস্পতিবারই বৈঠক বসেছেন তৃণমূল নেতা সুব্রত বক্সী। তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির অফিসে এই বিশেষ বৈঠক হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের সমস্ত কাউন্সিলররা। সূত্রের খবর, বৈঠকে মূলত ভবানীপুরে লড়াইয়ের ‘ব্লু-প্রিন্ট’ তৈরি করতেই এই বৈঠক। সূত্রের খবর, এদিন বৈঠক চলাকালীনই ফোন করেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি খোঁজ খবর নিয়েছেন।
সূত্রের খবর, তৃণমূল ‘ডোর টু ডোর’ প্রচারে জোর দিচ্ছে। নেতৃত্বের নির্দেশ, প্রয়োজনে একই বাড়িতে ১০ বার প্রচার করতে হবে। কিন্তু প্রতিপক্ষ শুভেন্দু অধিকারীকে কোনও গুরুত্বই দিতে চাইছে না প্রচারে। দলীয় নেতা কর্মীদের বারবার স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁরা কোনও প্ররোচনায় পা না দেন। ওয়ার্ড ভিত্তিক কর্মিসভা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বৈঠকে। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয়ভাবে সভা ও মিছিল করবেন।
‘উন্নয়ন ঘরে ঘরে, ঘরের মেয়ে ভবানীপুরে’, এই স্লোগানেই এবার প্রচারে নামতে চলেছে তৃণমূল।
বৈঠকে ঠিক হয়েছে
প্রচারের জোর দেওয়া হচ্ছে ভবানীপুরের বহুতলগুলিকেও। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলোর কাউন্সিলরদের বহুতল ‘ডোর টু ডোর’ প্রচার করা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বৈঠকে।
২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে লাগাতার ওই বিধানসভা কেন্দ্রের ছ’টি ওয়ার্ডে ভাল ভোট পেয়ে আসছে পদ্মশিবির। এমনকি, বেশ কিছু ক্ষেত্রে শাসকদল তৃণমূলকে পিছনে ফেলে বিজেপি বড় ব্যবধানে এগিয়ে ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডগুলিতে। এমনকি ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী তথাগত রায় তৃণমূল সংসদ সুব্রত বক্সীকে ১৭৬ ভোটে পিছনে ফেলে দিয়েছিলেন। সেই পরিসংখ্যানে ভর করেই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রীকে ধাক্কা দিতে চান বিরোধী দলনেতা।
‘স্যারের’ ক্লাসে ভবানীপুরে খসড়া তালিকায় বাদ গিয়েছে ৪৪ হাজার ৭৮৫ জনের নাম। চূড়ান্ত তালিকায় আরও বাদ ২ হাজার ৩২৪। এখনও বিবেচনাধীন ১৪ হাজার ১৫৪। এর মধ্যে ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়ার্ডের প্রচুর নাম কাটা গিয়েছে। ৭০ নম্বর ওয়ার্ডেই ৮/১বি চক্রবেড়িয়া রোডের (দক্ষিণ) একটি বাড়ির নীচের তলায় তৈরি করা হয়েছে এই ‘ওয়ার রুম’টি। এখান থেকেই ভোট পরিচালনা করার কথা রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর।