
কলকাতা: যুবভারতীকাণ্ডে ৩৮ দিন জেলে কাটিয়ে অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েছেন। সেই অন্তর্বর্তী জামিনের এক মাস কাটার আগেই কি অস্বস্তিতে পড়তে চলেছেন কলকাতায় মেসির অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক শতদ্রু দত্ত? তাঁর অন্তর্বর্তী জামিন খারিজের আবেদন জানিয়ে বারাসত জেলা আদালতে এবার আবেদন করল বিধাননগর পুলিশ।
শতদ্রু দত্তর অন্তর্বর্তী জামিন খারিজের আবেদন কেন করল বিধাননগর পুলিশ। তাদের যুক্তি, প্রতারিত দর্শকদের টাকা যাতে সুষ্ঠুভাবে ফিরিয়ে দেওয়া যায় সেজন্য এই আবেদন। বিধাননগর পুলিশের যুক্তি, শতদ্রু বাইরে থাকলে প্রভাব খাটাতে পারেন। তাই তাঁর অন্তর্বর্তী জামিন খারিজের আবেদন জানানো হয় বারাসত জেলা আদালতে। যুবভারতীতে মেসির অনুষ্ঠানের টাকা ফেরত দেওয়া সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে মঙ্গলবার সরকারি আইনজীবী জামিন খারিজের আবেদনের বিষয়টি আদালতকে জানান।
এদিকে, শতদ্রু দত্তর আইনজীবী আদালতে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ও সিম কার্ড ফেরত চেয়ে আবেদন করেন। পাল্টা সরকারি আইনজীবী আদালতে জানান, শতদ্রুর মোবাইল ও সিম কার্ড ফেরত দেওয়া যাবে না। সেগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর কলকাতায় এসেছিলেন বিশ্ব ফুটবলের রাজপুত্র লিওনেল মেসি। তাঁর কলকাতা সফরকে ঘিরে অনেকদিন আগে থেকে আবেগের পারদ চড়ছিল। যুবভারতী স্টেডিয়ামে মেসিকে একঝলক দেখতে হাজার হাজার টাকার টিকিট কাটেন ক্রীড়াপ্রেমী ও মেসি-অনুরাগীরা। কিন্তু, যুবভারতীর মেসিকে ঘিরে ভিড়ের জেরে ফুটবলের রাজপুত্রকে দেখতে পাননি দর্শকরা। মেসি স্টেডিয়াম ছেড়ে যাওয়ার পরই উত্তেজনা ছড়ায় যুবভারতীতে। ভাঙচুর চালানো হয়। যুবভারতীতে যখন বিশৃঙ্খলা বাড়ছে, তখন শহর ছাড়ার আগেই কলকাতা বিমানবন্দর থেকে শতদ্রুকে গ্রেফতার করে বিধাননগর পুলিশ। গ্রেফতারির ৩৮ দিনের মাথায় গত ১৯ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী জামিনে জেল থেকে ছাড়া পান শতদ্রু। এখন তাঁর সেই জামিন খারিজেরই আবেদন জানিয়েছে বিধাননগর পুলিশ। আদালত পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কী রায় দেয়, সেটাই দেখার।