
কলকাতা: আইএসএফ (ISF)-এর সঙ্গে জোট নিয়ে হচ্ছে কি না তা এখনও ফাইনাল হয়নি। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় আসন নিয়ে এখনও সমঝোতা হয়নি। তাই আগামীতে সিপিএম ও আইএসএফ-এর জোটের ভবিষ্যত কী তা নিয়ে বিস্তর জল্পনা কল্পনার মধ্যেই সিপিএম-এর সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা নিয়ে শুরু জোর চাপানউতোর।
সিপিএম-এর অন্দর সূত্রে খবর, বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রাথমিক কাজ অনেকটাই শেষ হয়ে গিয়েছে। এবারও জোর দেওয়া হয়েছে একগুচ্ছ তরুণ মুখের উপর। গত লোকসভা নির্বাচনেও দেখা গিয়েছিল, তরুণ মুখেদের প্রার্থী করেছিল বামেরা। যদিও এরপরও ফলাফল ছিল শূন্য। তবে এবারও তরুণদের উপরই ভরসা করছে বামেরা।
কিন্তু তারুণ্যে ভরসা করলেও সৃজন ভট্টাচার্য, শতরূপ ঘোষ ও দীপ্সিতা ধর- তিন তরুণ মুখকে নিয়েও রয়েছে যথেষ্ট ধোঁয়াশা। এমনকী, রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমেরও ভোটে দাঁড়ানোর ব্যাপারে রয়েছে অনিশ্চয়তা। গত লোকসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ থেকে লড়েছিলেন সেলিম। তবে, সেখানে তৃণমূলের আবু তাহের খানের কাছে পরাজিত হতে হয় তাঁকে। বিধানসভা ভোটের সময় প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছিল সেই জেলারই কোনও একটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তিনি দাঁড়াতে পারেন। কিন্তু এবার তাঁরা লড়া নিয়ে ধোঁয়াশা। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, রাজ্য জুড়ে নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত থাকবেন সেলিম।
অপরদিকে, সৃজন এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সম্পাদক। অধিকাংশ সময়ই এখন দিল্লিতে ছাত্র সংগঠনের বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকেন। তাই তাঁর ভোটে দাঁড়ানো অনিশ্চিত। গত লোকসভায় যাদবপুরে সিপিএমের প্রার্থী হয়েছিলেন সৃজন ভট্টাচার্য। আশা করা হয়েছিল সেখান থেকে তিনি হয়ত জিতে ফিরবেন তবে তৃণমূলের সায়নী ঘোষের কাছে পরাজিত হতে হয় তাঁকে। এমনকী, বিজেপির থেকেও কম সংখ্যক ভোট পেয়েছিলেন তিনি। তবে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রে সিপিএমের প্রার্থী হিসেবে নাম ভাসছে দুই পোড়খাওয়া নেতা সুজন চক্রবর্তী আর বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের।
সুজন চক্রবর্তী লোকসভা ভোটে দমদমের প্রার্থী ছিলেন। তবে, পরাজিত হয়েছিলেন। তবে,২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে মনিষ গুপ্ত কে ১৪ হাজার ৯৪২ ভোটে পরাজিত করে যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিধায়ক এবং বিধানসভায় বাম পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর একুশের ভোটে তৃণমূলের দেবব্রত মজুমদারের কাছে ৩৮ হাজার ৮৬৯ ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন।
অন্যদিকে, আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। তবে, গত কয়েক বছরে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আইনী লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন তিনি। নিয়োগ মামলা থেকে ডিএ মামলা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কোর্টে লড়াই করেছেন। জয় পেয়েছেন অনেক ক্ষেত্রে। চাকরি বাতিল মামলায় তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। ফলে, তাঁকে দাঁড় করিয়ে কি কৌশলী চাল দিতে চাইছে বামেরা?
সূত্রের খবর, শতরূপ ঘোষও এবারের নির্বাচনে লড়তে আগ্রহী নন। ২০১১, ২০১৬ এবং ২০২১ এর নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও পরাজিত হয়েছিলেন।
অপরদিকে দীপ্সিতা ধরেরও প্রার্থী হওয়া নিয়েও রয়েছে যথেষ্ট সংশয় থাকছে। একুশের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের রানা চট্টোপাধ্যায় এবং বিজেপির বৈশালী ডালমিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে ৩০ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত হন। ২০২৪-এ উত্তরপাড়া লোকসভা কেন্দ্র থেকে দীপ্সিতা দাঁড়িয়েছিলেন। তবে তৃণমূলের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পরাজিত হন তিনি।
এছাড়া আইনজীনী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়, আফরিন বেগম, ঐশী ঘোষদের মতো তরুণ তুর্কিদেরও প্রার্থী করা হবে কি না সে বিষয়ে ভাবনা চিন্তা করছে সিপিএম নেতৃত্ব।
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা বাছাইয়ের আগে অনেক সমীকরণ বদলে যাওয়ার ইতিহাস আছে। তাই শেষ মুহূর্তে কোনও চমক থাকবে কি না সেটাও দেখার।
সিপিএমের সম্ভাব্য প্রার্থী এক নজরে