
কলকাতা: সিপিএম শূন্য। তবে ভোটের আগে খবরের শিরোনামে এখন শুধুই তারা। কারণ একটাই নাম, তা হল প্রতীক-উর-রহমান। রবিবার সিপিএম ছাড়ার পর থেকেই তাঁকে নিয়ে চলছে বিস্তর জল্পনা। সব ছাপিয়ে এখন একটাই প্রসঙ্গ তা হল, আদ্যপান্ত বামপন্থী ছেলেটা কি এবার হাত ধরবে ডানপন্থী দলের? যোগ দেবে তৃণমূলে? এই সব নিয়ে রাজনীতির অলিগলিতে যখন আলোচনা চলছে, সেই সময় সূত্র মারফত জানতে পারা যাচ্ছে, প্রতীক-উরের মানভঞ্জনে নামতে চলেছেন বামেদের দুই প্রবীণ নেতা। একজন হলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু আর অন্যজন হলেন সূর্যকান্ত মিশ্র।
বিমান বসুর গ্রহণযোগ্যতা সিপিএম তথা বামেদের তরুণ ব্রিগেডের মধ্যে ঠিক কতখানি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখনও সমস্যায় পড়লে বামেদের তরুণ ব্রিগেড দ্বারস্থ হন প্রবীণ এই রাজনীতিবিদের কাছে। অপরদিকে, এও শোনা যাচ্ছে প্রতীকের রাগ ভাঙাতে ময়দানে নামতে চলেছেন সূর্যকান্ত মিশ্রও। সূর্যবাবুকে সাম্প্রতিক সময়ে ততটা সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে দেখা না গেলেও, প্রতীক-উরের সমস্যার সমাধানে তিনিও যে ময়দানে নামতে পারেন তেমনই সূত্র মারফত জানতে পারা যাচ্ছে। কারণ, যে সময় প্রতীক-উর এসএফআই-এর সভাপতি ছিলেন, তখন সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদক ছিলেন সূর্যকান্ত। ফলে এদের সঙ্গে প্রতীক-উরের সম্পর্ক কতখানি গভীর তা বলার বোঝাই যায়। ফলক, প্রতীক-উরকে আটকাতে বামেরা যে কোনও খামতি রাখছে না তা বলা চলে।
বুধবার সিপিএম-এর সম্পাদক মণ্ডলীর বৈঠক রয়েছে আলিমুদ্দিনের। ওই বৈঠকে প্রতীক-উরের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। এখন দেখার ভবিষ্যতে ডান নাকি বামেই থাকেন এই যুব নেতা।
রবিবার খাপ খাওয়াতে পারছেন না বলে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে চিঠি লেখেন প্রতীক-উর-রহমান। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছিল, হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বামেদের জোট নিয়ে মহম্মদ সেলিমের আলোচনা তিনি মেনে নিতে পারেননি। এমনকী, শতরূপ ঘোষের মন্তব্যেরও নাম না করে বিরোধিতা করতে দেখা যায় তাঁকে। এই আবহের মধ্যেই উঠে আসে হয়ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেবেন তিনি। ভোটের আগে প্রতীক-উরের মতো তরুণ এবং প্রান্তিক অংশ থেকে উঠে আসা লড়াকু সংখ্যালঘু নেতাকে হাতছাড়া করা মানে কতটা ক্ষতি তা ভালই জানে বামেরা। ফলত এই আবহে তাই এবার ময়দানে বিমান-সূর্যরা বলেই মনে করছেন রাজনীতিবিদদের একাংশ।