
কলকাতা: লক্ষ্মীর ভান্ডার চেয়ে জনস্বার্থ মামলা হাইকোর্টে। ময়না বিধানসভার বাগচা গ্রাম পঞ্চায়েত বন্ধ লক্ষ্মীর ভান্ডার। ৬ মাস বন্ধ লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা পাচ্ছেন না সাত হাজারের বেশি উপভোক্তা। পাশাপাশি একাধিক পঞ্চায়েতেও টাকা না মেলার অভিযোগ। বাগচার স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য সুনীতা মণ্ডল সাউ একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন।
পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না, সেখানে গোজিনা ও বাকচা গ্রাম পঞ্চায়েত। গত বছরের শেষের দিকেই এই সমস্ত এলাকা থেকে অভিযোগ ওঠে, ওই এলাকার বহু মহিলা লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা পাচ্ছেন না। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে মিলছে না লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। কিন্তু কেন? জানা গিয়েছে, এই দু’টি গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে। সেই কারণেই কি বন্ধ লক্ষ্মীর ভান্ডার? প্রশ্ন তুলে পথে ময়না বিডিও অফিসে ডেপুটেশন দেন মহিলারা। অভিযোগ, বিজেপি সমর্থক হওয়ার কারণেই তাঁরা সরকারি প্রকল্পের টাকা পাচ্ছেন না। এবার এই মামলার জল গড়াল আদালতে।
বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দা বলেন, “আমরা জেলাশাসক ও বিডিও অফিসে স্মারকলিপিও জমা দিয়েছিলাম। সমস্ত নথি জমা করা হয়েছিল। ৬ মাস ধরে দুটো গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপি জিতেছে। ওই দুই গ্রাম পঞ্চায়েতেই মহিলারা লক্ষ্মীর ভান্ডার পাচ্ছেন না।”
‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’- এই শব্দবন্ধকে এর আগেও ভোটের আবহে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে দেখেছে বাংলা। এবারের ছাব্বিশের নির্বাচনে আগে এসআইআর- নিয়ে যখন তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি, তখন আরও বেশি আলোচিত হচ্ছে রাজ্য সরকারের এই প্রকল্প। কারণ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য, বিজেপি ক্ষমতায় এলে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বন্ধ করে দেবে— এই রাজনৈতিক ন্যারেটিভই এ বার বিধানসভা ভোটের প্রচারে তৃণমূলের তুরুপের তাস! আর এর ঠিক পাল্টা পথেই হাঁটছে বিজেপি। এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই মামলা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।