
কলকাতা: I-PAC এ তল্লাশির সময় ফাইল চুরির অভিযোগ। নবান্নের কাছে ধরনায় বসতে চায় বিজেপি। হাইকোর্টের বিচারপতি শম্পা দত্ত পালের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। মামলা দায়েরের অনুমতি দিল আদালত। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার এক বেনজির দৃশ্যের সাক্ষী থাকে বাংলা। কয়লা পাচার মামলায় I-PAC কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে ও অফিসে তল্লাশি চালান ইডি কর্তারা। তল্লাশির মাঝেই ঢুকে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। অভিযোগ, নথি ছিনিয়ে নিয়ে আসেন তিনি। কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্তে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে নবান্নের বাইরে ধরনায় বসতে চায় বিজেপি। কিন্তু তাতে অনুমতি না মেলায় জল গড়ায় আদালতে।
এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের আইটি সেলের ইনচার্জ দেবাংশু ভট্টাচার্য বলেন, “যারা ভিতরে কোনওদিন বসতে পারবে না, তারা যদি বাইরে বসতে চায়, কী বলি! ওদের ভিতরে বসার বহুদিনের শখ। যিনি সবার আগে বসতে চান, শুভেন্দুবাবু তিনিই ধরনায় বসার ডাক দিয়েছিলেন। নিজের দলের সমীক্ষাতেও বুঝে গিয়েছেন, বিজেপি এবার ৫০-৬০এর গণ্ডি পেরোতে পারবে না। তাই বাইরে বসে দুধের স্বাদ ঘোলা মেটাতে চাইছেন।”
এদিকে, I PACএর মামলায় জল গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টেও। সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ইডি। মুখ্যমন্ত্রী-সহ ডিজি নগরপালের বিরুদ্ধে ১৭টি ধারায় সুপ্রিম কোর্টে মামলা ইডি-র। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী, ডিজি-সিপির বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণ ছিনিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ। বাজেয়াপ্ত করা প্রচুর তথ্য প্রমাণ ইডি অফিসারদের থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। অভিযোগের সপক্ষে পিটিশনে ফটোগ্রাফও যুক্ত করেছে ইডি। কেন্দ্রীয় এজেন্সির বক্তব্য, পাঞ্চনামা রেকর্ড করতে বাধা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী এবং পুলিশ আধিকারিকরা। ভয় দেখানো হয়েছে, তাই সঠিকভাবে পঞ্চনামা রেকর্ড করাও যায়নি বলে অভিযোগ।
মুখ্যমন্ত্রী-সহ শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় মোট ১৭ টি ধারায় অভিযোগ দায়ের করার আবেদন জানিয়েছে ইডি। ইডির বক্তব্য, প্রতীক জৈনের বাড়িতে সেদিন জোর করে ঢুকেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী, কোনও অনুমতি ছাড়াই। মুখ্যমন্ত্রী, ডিজি ও সিপি নিজের হাতে তথ্যপ্রমাণ ছিনিয়ে নিয়েছেন বলে ইডি শীর্ষ আদালতে জানিয়েছে।