Suvendu Adhikari: ‘দেহাংশ ফলের প্যাকেটে পাচার হচ্ছে’, নাজিরাবাদে গিয়ে বিস্ফোরক শুভেন্দু

Suvendu Adhikari: প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, দেহাংশ ব্যাগে ভরে পাঠানো হচ্ছে কাটাপুকুর মর্গে। যাঁদের দেহ মোটামুটিভাবে উদ্ধার হয়েছে, তা আপাতত শনাক্ত হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে যা উদ্ধার হচ্ছে, তা কাঠকয়লার মতো ছাই! তাতে DNA পরীক্ষা করাও যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। রক্তের নমুনা দেখে দেহাংশ শনাক্তকরণের চেষ্টা চলছে।

Suvendu Adhikari: দেহাংশ ফলের প্যাকেটে পাচার হচ্ছে, নাজিরাবাদে গিয়ে বিস্ফোরক শুভেন্দু
নাজিরাবাদে শুভেন্দু অধিকারীImage Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী

Jan 29, 2026 | 5:23 PM

কলকাতা: আনন্দপুরের সেই জতুগৃহ থেকে বুধবার বেলা পর্যন্ত ভিতর থেকে তিনটি পোড়া শরীর-সহ ২১ টি দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে। দুটো বস্তায় ভরে সেসব গিয়েছে কাটাপুকুর মর্গে। এখনও নিখোঁজ অন্ততপক্ষে ২৭! এই ২৭ জনের পরিবারের তরফে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১৬টি দেহাংশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তার মধ্যে ৫ জনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। আদালতের অনুমতি নিয়ে বুধবার নাজিরাবাদে যান রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে দাঁড়িয়েই বিস্ফোরক দাবি করেন শুভেন্দু। সেখানে এক সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করেন, ‘এখান থেকে নাকি দেহাংশ পাচার হয়ে যাচ্ছে?’ প্রশ্ন শেষ হতে না হতেই শুভেন্দু বলেন, ‘এখানে দেহাংশ ফলের প্যাকেটে করে পাচার হয়ে যাচ্ছে।’

এই নিয়ে শুভেন্দু বলেন, “আমাদের ধারণা, ৩৫-৪০ জনের মতো মৃতের সংখ্যা হতে পারে।” ঘটনার চার দিন হতে চলেছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেখানে যাননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কেন তিনি যাননি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শুভেন্দু। ভোটব্যাঙ্কের তত্ত্বও খাড়া করেছেন। তাঁর কথায়,”অধিকাংশই মেদিনীপুরের লোক, আমরা যতটা পেরেছি পাশে থাকার চেষ্টা করছি। ক্রেডিট নিতে চাই না, দুর্ভাগ্য এটাই, এটা মুখ্য়মন্ত্রীর ভোটব্যাঙ্ক নয় বলে, রাজধর্ম পালন করেননি। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি এখান থেকে ১০ কিমি দূরে। ওনার আসা উচিত ছিল।” উল্লেখ্য, ঘটনার তিন দিন পরও মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থলে না গেলেও সিঙ্গুরের সভা থেকে আনন্দপুর নিয়ে মুখ খুলেছেন। মৃতদের পরিবারকে ১০লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ ও পরিবারের ১ জনকে সিভিকে চাকরি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, দেহাংশ ব্যাগে ভরে পাঠানো হচ্ছে কাটাপুকুর মর্গে। যাঁদের দেহ মোটামুটিভাবে উদ্ধার হয়েছে, তা আপাতত শনাক্ত হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে যা উদ্ধার হচ্ছে, তা কাঠকয়লার মতো ছাই! তাতে DNA পরীক্ষা করাও যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। রক্তের নমুনা দেখে দেহাংশ শনাক্তকরণের চেষ্টা চলছে।

রবিবার রাত ১টার কিছু পর আনন্দপুরের জোড়া গুদামে আগুন লাগে। দমকলের ১২টি ইঞ্জিন গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে দেড় দিনের বেশি সময় ধরে। তারপরও ধিকিধিকি করে জ্বলতে থাকে গুদামগুলি। আগুনের গ্রাসে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সেই ধ্বংসস্তূপের নীচে প্রাণের সন্ধান করে চলেছে দমকল এবং পুলিশ। কিন্তু সে সম্ভাবনা ক্ষীণ ধরেই এগোচ্ছেন তাঁরা।