AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

City Civil Court: নজিরবিহীন! উড়িয়ে দেওয়া হবে বাংলার এই সব আদালত, মেইল আসতেই ছুটল বম্ব স্কোয়াড

Bombscare at City Civil Court: তারপরই ভবন জুড়ে তল্লাশির নির্দেশ দেন তিনি। ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয় কলকাতা পুলিশের কর্তব্যরত কর্মীরা। আসে বম্বস্কোয়াড। নিয়ে আসা হয় পুলিশ-কুকুরও। শুরু হয় তদন্ত। বোমাতঙ্কের জেরে ফাঁকা হয়ে যায় ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তল। আতঙ্ক ছড়ায় লাগোয়া হাইকোর্ট চত্বরেও। এখনও তদন্ত চলছে। আচমকাই এই বোমা-হুমকি কেন, কাদের টার্গেট করা হচ্ছে? সবটাই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

City Civil Court: নজিরবিহীন! উড়িয়ে দেওয়া হবে বাংলার এই সব আদালত, মেইল আসতেই ছুটল বম্ব স্কোয়াড
চূড়ান্ত তৎপরতা আদালতগুলিতেImage Credit: নিজস্ব চিত্র
| Updated on: Feb 24, 2026 | 2:03 PM
Share

শ্রাবন্তী সাহা, চন্দ্রশেখর চট্টোপাধ্যায়, কৌশিক ঘোষ ও আশিক ইনসানের রিপোর্ট

কলকাতা: হাইকোর্টের ঠিক পিছনের ভবন। সিটি সিভিল কোর্ট। রাজ্যের উচ্চ আদালতের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন একাধিক মামলা-মোকাদ্দমা চলে এই নিম্ন আদালতে। মঙ্গলবারও প্রতিদিনের মতোই বসেছিল বেঞ্চ। তখনই হইচই। সিটি সিভিল কোর্টে ছড়াল বোমাতঙ্ক। নিম্ন আদালতের প্রধান বিচারকের মেইলে এল বোমা-হুমকি। কিন্তু কোথায় বোমা রাখা রয়েছে, তা লেখা নেই সেই মেইলে।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকাল ১১টার সময় বোমা-হুমকির মেইলটি পেয়েছেন প্রধান বিচারক। তারপরই ভবন জুড়ে তল্লাশির নির্দেশ দেন তিনি। ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয় কলকাতা পুলিশের কর্তব্যরত কর্মীরা। আসে বম্বস্কোয়াড। নিয়ে আসা হয় পুলিশ-কুকুরও। শুরু হয় তদন্ত। বোমাতঙ্কের জেরে ফাঁকা হয়ে যায় ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তল। আতঙ্ক ছড়ায় লাগোয়া হাইকোর্ট চত্বরেও। এখনও তদন্ত চলছে। আচমকাই এই বোমা-হুমকি কেন, কাদের টার্গেট করা হচ্ছে? সবটাই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

তবে শুধু কলকাতার সিটি সিভিল কোর্ট নয়, ভোটমুখী বাংলায় এই বোমা-হুমকির পরিধি নজিরবিহীন। কলকাতা-সহ রাজ্যের প্রায় প্রতিটি জেলার নিম্ন আদালতে গিয়েছে একই হুঁশিয়ারি। আসানসোল, হুগলি, বহরমপুর, কাঁথি — বিচারকদের মেইলে এসেছে ভয়াবহ বার্তা। তাতে লেখা, আদালতে রয়েছে বোমা। এদিন আসানসোলের জেলা ও নগর দায়রা আদালতেও জেলা জজের কাছে অচেনা আইডি থেকে আসে হুমকি-মেইল। তাতে বলা হয়, দুপুর ১টা নাগাদ আদালত চত্বরে বোমা রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মেইলটি ভুয়ো হতে পারে বলেও মনে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু নিরাপত্তার খাতিরে বিচারকের নির্দেশে শুরু হয়েছে তদন্ত। ফাঁকা করে দেওয়া হয়েছে আদালত চত্বর। তদন্তে নেমেছে পুলিশ। এসেছে পুলিশ কুকুর।

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জেলা জজ দেবপ্রসাদ নাগ বলেন, “একটা সংগঠন থেকে এই হুমকি-বার্তাটা পাঠিয়েছে। হতেই পারে এটা একটা ভুয়ো মেইল। কিন্তু সাধারণ মানুষ ও আদালতে উপস্থিত আইনজীবী এবং অন্যান্য কর্মীদের নিরাপত্তার স্বার্থে তল্লাশি চলছে। বম্ব স্কোয়াড এসে গিয়েছে।” একই পরিস্থিতি হুগলি জজ কোর্টেও। সেখানে আসা বোমা-হুমকিতে বলা হয়, দুপুর ১টা নাগাদ বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হবে আদালত। দশটি আরডিএক্স রাখা রয়েছে। এরপরেই বাড়ে নিরাপত্তা। ফাঁকা করে দেওয়া হয় আদালত চত্বর। শুরু হয় তল্লাশি।

কিন্তু আচমকা এই হুঁশিয়ারির কারণ কী? একদিকে এগিয়ে আসছে নির্বাচন,  ভোটমুখী বাংলায় এসআইআর-এর দায়িত্ব পেয়েছেন বিচারকরা এবং বাংলার সীমান্তের ওই পাড়ে ক্ষমতা বাড়িয়েছে ‘ভারতবিরোধী’ জামায়াত — সব মিলিয়ে চিন্তার আবহ। একযোগে জেলা জেলায় নিম্ন আদালতের বিচারকদের বোমা-হুঁশিয়ারি যেন পরিকল্পিত পদক্ষেপ। যা তৈরি করেছে একাধিক প্রশ্ন —

  • নির্বাচনের আগেই কি তা হলে বাংলায় ভয়ের আবহ তৈরি করতে চাইছে কেউ বা কারা?
  • সীমান্তের ওপাড় থেকে নয়া ছক কষছে না কোনও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী?
  • বিচারকদের কাঁধে নিবিড় পরিমার্জনের দায়িত্ব পড়তেই হুমকির মুখে বিচারব্যবস্থা?