Kunal Ghosh: ‘স্পিকারকে বলুন, আদালত কী করতে পারে?’ কুণাল ঘোষের ‘কণ্ঠরোধ’ মামলা খারিজ করে জানাল কলকাতা হাইকোর্ট
Calcutta High Court on Kunal Ghosh Plea: মামলার শুনানিতে এদিন কুণাল ঘোষের আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য বলেন, "'জুডিশিয়াল রিভিউ' চাইছি। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক তাঁরা একদিকে থাকছেন। একটিও বিল নিয়ে কেউ প্রতিবাদ দেখাননি। চিপ হুইপ, যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতায় রয়েছেন, তিনি কুণাল ঘোষের নাম পাঠাননি। শুধু চাইছি নাম পাঠানো হোক। এর ফলে স্পিকার কিছু সময় বলতে দেবেন। প্রথমবার হয়ত এমন কোনও মামলা হয়েছে। তাই অন্তত এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নিক আদালত।"

কলকাতা: বেলাঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh) ‘কণ্ঠরোধ’ মামলা খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। কুণাল ঘোষকে বিধানসভায় অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। কলকাতা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, এই মামলায় আদালতের করণীয় কিছু নেই। চক্রান্ত মনে হলে বিধানসভার স্পিকারকে জানাতে হবে।
কুণাল ঘোষের অভিযোগ
বিধানসভায় তাঁকে বলতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনই অভিযোগ তুলে বারবার সরব হয়েছেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, অধিবেশনে বক্তার তালিকায় তাঁর নাম রাখা হচ্ছে না। বার বার তা বাদ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। গোটা ঘটনায় ঋতব্রতের শিবিরের দিকে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। গত মাসেই এর বিরুদ্ধে সরব হয়ে বিধানসভায় প্রতিবাদ করেছিলেন কুণাল ঘোষ। আখরুজ্জামানের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন। বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় বিধানসভায়। এরপরই তাঁকে টেনে হিঁচড়ে বিধানসভা থেকে বের করে দেওয়া হয়। ওইদিন বিধানসভা থেকে সাসপেন্ডও করে দেওয়া হয়। তারপরেও চক্রান্ত করে কণ্ঠরোধের অভিযোগ তুলে বারবার সরব হয়েছেন তিনি। পরে মামলাও করেন কলকাতা হাইকোর্টে।
হাইকোর্টে কুণালের মামলা
আজ সেই সংক্রান্ত মামলারই শুনানি ছিল কলকাতা হাইকোর্টে। সাধারণভাবে বিধানসভার ক্ষেত্রে যদি কোনও মামলা হয়ে থাকে, প্রশ্ন এটাই থাকে, সেই বিষয়ে নিষ্পত্তি কি আদালত আদৌ করতে পারে? বিধায়কের কোনও অভিযোগ থাকলে তাঁরা স্পিকারকে জানাতে পারেন। এদিন এই প্রশ্নটাই ওঠে কলকাতা হাইকোর্টে।
মামলার শুনানিতে এদিন কুণাল ঘোষের আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য বলেন, “‘জুডিশিয়াল রিভিউ’ চাইছি। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক তাঁরা একদিকে থাকছেন। একটিও বিল নিয়ে কেউ প্রতিবাদ দেখাননি। চিপ হুইপ, যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতায় রয়েছেন, তিনি কুণাল ঘোষের নাম পাঠাননি। শুধু চাইছি নাম পাঠানো হোক। এর ফলে স্পিকার কিছু সময় বলতে দেবেন। প্রথমবার হয়ত এমন কোনও মামলা হয়েছে। তাই অন্তত এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নিক আদালত।”
বিচারপতি কৃষ্ণা রাও তখন বলেন, “আদালত কী করতে পারে? আদালত কী পারে স্পিকারকে কোনও নির্দেশ দিতে?” এদিকে, বিধানসভার পক্ষের আইনজীবী জয়দীপ কর আদালতে বলেন, “এই মামলার কোনও গ্রহণযোগ্যতা নেই। ২৯৪ বিধায়ক থাকেন। প্রত্যেককে বলার সুযোগ করে দিতে হয়। ২৪ বা ২৫ জুন নিজের বক্তব্য রেখেছিলেন কুণাল ঘোষ। আদালত কীভাবে রেগুলেট করবে কোন বিধায়ক বলবেন আর কোন বিধায়ক বলবেন না?” কুণালের অভিযোগ আদৌ ধোপে টেকে কি না প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এরপরই কুণাল ঘোষের করা মামলাটি খারিজ করে দেয় বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাস। তাঁর বক্তব্য, যদি কোনও বক্তব্য থাকে, তাহলে কুণাল ঘোষকে বিধানসভার স্পিকারের কাছেঅ জানাতে হবে।
