
কলকাতা: একের পর এক বাড়িতে আগুন। পুড়ে মৃত্যু ১০ জনের। ২০২২ সালের মার্চে বীরভূমের বগটুইয়ের এই নৃশংস ঘটনায় রাজ্যে শোরগোল পড়েছিল। আর ঘটনার প্রায় ৪ বছর পর বগটুই মামলা বীরভূম থেকে অন্য জেলায় সরানোর নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বীরভূম থেকে বগটুই মামলা পূর্ব বর্ধমানের আদালতে সরাতে বুধবার নির্দেশ দিলেন বিচারপতি অজয়কুমার মুখোপাধ্যায়।
২০২২ সালের ২১ মার্চ রাতে খুন করা হয়েছিল দাপুটে স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা বড়শাল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ভাদু শেখকে। রামপুরহাটের ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে বগটুই মোড়ে বোমা মেরে খুন করা হয় তাঁকে। সেই খুনের বদলা নিতে সেদিন রাতেই বগটুই গ্রামে একের পর এক বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ভাদু শেখের অনুগামীদের বিরুদ্ধে। পরদিন সকালে আটজনের পোড়া দেহ উদ্ধার হয়। দিন কয়েক পর রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আরও এক মহিলার মৃত্যু হয়। দীর্ঘ একমাস মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর মারা যান আরও একজন।
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে মামলার তদন্তভার পায় সিবিআই। এতদিন ধরে বগটুই গণহত্যাকাণ্ড মামলার শুনানি চলছিল রামপুরহাট মহকুমা আদালতে। তবে তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-র তরফে দাবি করা হয়, বগটুই মামলার সাক্ষীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সাক্ষীদের প্রভাবমুক্ত রাখতে অন্য জেলায় মামলা সরানোর আর্জি জানায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। বীরভূমে মামলার শুনানি চলায় তদন্তে অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলেও জানিয়েছিল সিবিআই।
এদিন হাইকোর্টের বিচারপতি অজয়কুমার মুখোপাধ্যায়ের একক বেঞ্চ সিবিআইয়ের আর্জি মেনে নেন। বীরভূম থেকে বগটুই মামলা সরানোর নির্দেশ দেন। এ বার মামলার শুনানি কোথায় হবে, তা পূর্ব বর্ধমানের জেলা বিচারক ঠিক করবেন।