AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Calcutta High Court: বৈদিক মন্ত্রের শপথ ভেঙে খুন! ‘দৈত্য’ তকমা দিয়েছিল নিম্ন আদালত, নির্দেশ খারিজ হাইকোর্টে

High Court rejects Trial Court order: ২০২৩ সালের জলপাইগুড়ির একটি ঘটনা। সুজিত দে ভৌমিক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্ত্রীকে খুনের অভিযোগ ওঠে। স্ত্রীর বাপের বাড়িতে বচসা চলাকালীন ধারাল অস্ত্রে আঘাত করার অভিযোগ ওঠে সুজিতের বিরুদ্ধে। পুরো ঘটনা চোখের সামনে দেখেছিল তাঁদের ৭ বছরের সন্তান।

Calcutta High Court: বৈদিক মন্ত্রের শপথ ভেঙে খুন! 'দৈত্য' তকমা দিয়েছিল নিম্ন আদালত, নির্দেশ খারিজ হাইকোর্টে
হাইকোর্টে খুনের মামলাImage Credit: Getty Image
| Updated on: Aug 31, 2026 | 8:29 PM
Share

কলকাতা: হিন্দু বিয়ের রীতি মেনে বেদের মন্ত্র উচ্চারণে স্ত্রীর সঙ্গে শপথ নিয়েছিলেন স্বামী। সেই শপথ, সেই ভালোবাসার কথা ভুলে খুন করা হল স্ত্রীকে! এই যুক্তিতেই অভিযুক্ত স্বামীর মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিল নিম্ন আদালত। ‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’ তকমা দেওয়া হয়েছিল। একাধিক যুক্তি দিয়ে সেই নির্দেশ খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট।

মামলার সূত্রপাত

২০২৩ সালের জলপাইগুড়ির একটি ঘটনা। সুজিত দে ভৌমিক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্ত্রীকে খুনের অভিযোগ ওঠে। স্ত্রীর বাপের বাড়িতে বচসা চলাকালীন ধারাল অস্ত্রে আঘাত করার অভিযোগ ওঠে সুজিতের বিরুদ্ধে। পুরো ঘটনা চোখের সামনে দেখেছিল তাঁদের ৭ বছরের সন্তান। এমনকী অভিযোগ ওঠে, স্ত্রীর মা ও দিদা হস্তক্ষেপ করতে গেলে, তাঁদের উপরও আঘাত করা হয়।

অস্ত্রের আঘাতে স্ত্রীর মৃত্যু হয়, তাঁর মায়ের বুকে গভীর ক্ষত তৈরি হয়, দিদার একটা চোখের দৃষ্টি সম্পূর্ণ চলে যায়।

‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’ ঘটনা বলে আদালত

২০২৫-এর এপ্রিলে নিম্ন আদালত অভিযুক্তের মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেয়। যুক্তি হিসেবে নিম্ন আদালত উল্লেখ করে, হিন্দু বিবাহের প্রক্রিয়ার কথা। বিয়েতে বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ করে স্বামী-স্ত্রী যে শপথ গ্রহণ করে, তা ভুলে এই খুন করা হয়েছে বলে যুক্তি দেয় নিম্ন আদালত। স্ত্রীকে খুনের ঘটনাকে বিরল বলে উল্লেখ করে আদালত।

নিম্ন আদালত রায় দিতে গিয়ে এই ঘটনাকে ‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’ বলে উল্লেখ করে। শুধু তাই নয়, অভিযুক্ত ‘দৈত্য’ তকমা দেয় আদালত। পর্যবেক্ষণে এ কথাও বলা হয় যে, এই ধরনের ব্যক্তিদের কোনও আধ্যাত্মিক লেকচার দিয়েও বদলানো যায় না।

কী যুক্তি কলকাতা হাইকোর্টের

  • নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিযুক্ত। হাইকোর্ট ওই রায় খারিজ করে দিয়েছে। বিরলের মধ্যে বিরলতম হিসেবে এই ঘটনাকে চিহ্নিত করার বিষয়টাও খারিজ হয়ে গিয়েছে উচ্চ আদালতে।
  • হাইকোর্টে বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র বেঞ্চ উল্লেখ করেছে, যে নিম্ন আদালতের বিচারক কোনও মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়নের কথা বলেনি। অভিযুক্তের কোনও পূর্ব অপরাধের নজির নেই বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
  • হেফাজতে থাকাকালীন অভিযুক্ত সুজিত ভালো ব্যবহার করেছে। তাঁর কাউন্সেলিংও করা হয়েছে।
  • অভিযুক্তের এক সন্তান ও বৃদ্ধা মা রয়েছেন, যাঁরা অভিযুক্তের উপর নির্ভরশীল।
  • খুনটা যে পূর্ব পরিকল্পিত, তা বলা যায় না। কারণ ঘটনার আধ ঘণ্টা আগেও স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে বলে চা খেয়েছিলেন।
  • সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ উল্লেখ করে হাইকোর্ট বলেছে, কোনও অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আগে নিম্ন আদালতের খতিয়ে দেখা উচিৎ তাঁর মানসিক অবস্থা কী ছিল, তাঁর সুস্থ মানসিকতায় ফেরার কতটা সম্ভাবনা আছে।
  • মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ খারিজ করে অভিযুক্তের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

Follow Us