
কলকাতা: এখানকার আকাশটা ধোঁয়া ধোঁয়া — ঋত্বিক ঘটক পরিচালিত যুক্তি তক্ক আর গপ্পো, সিনেমার সেই সংলাপ স্মরণ করিয়েছিল দেশভাগের তাড়না। কিন্তু আজ বাংলার আকাশ সত্যিই ধোঁয়া ধোঁয়া। তাতে কুয়াশা জমে নেই, জমেছে বিষ। যা নিয়ে এবার সরব হল কলকাতা হাইকোর্ট।
সম্প্রতি বাংলা, বিশেষ করে কলকাতার দূষণ নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ। সোমবার দূষণ সংক্রান্ত আরও দু’টি জনস্বার্থ মামলা ওঠে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে। সেই সময়ই এই স্বতঃপ্রণোদিত মামলার কথা এজলাসে উল্লেখ করেন প্রধান বিচারপতি।
তিনি এও জানান, স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়েরের পর এই মর্মে কেন্দ্র ও রাজ্যকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এদিন এজলাসে কেন্দ্রের তরফে উপস্থিত অতিরিক্ত সলিসিটার জেনারেল আদালতের সেই চিঠি পাওয়ার স্বীকার করেন। বলে রাখা প্রয়োজন, পার্ক সার্কাসে হওয়া সার্কাস কিংবা রবীন্দ্র সরোবরে জমা ছট পুজোর ভিড়, যার জেরে অতি মাত্রায় দূষণ। প্রতিটি ক্ষেত্রেই হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। কিন্তু এই প্রথমবার বেনজির পদক্ষেপ করে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করল কলকাতা হাইকোর্ট। সরব হল নিজ উদ্যোগেই।
কলকাতা হাইকোর্টের এই দূষণ সংক্রান্ত মামলার সঙ্গে দায়ের হওয়া নতুন জনস্বার্থ দু’টি মামলা জুড়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৮ জানুয়ারি এই মামলাগুলির শুনানি হবে। তাই ওই দিন সব পক্ষকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
প্রসঙ্গত, কলকাতার বাতাসে যে শুধুই ধূলিকণা ও ধোঁয়া বন্দি হয়ে রয়েছে এমনটা নয়। সম্প্রতি মহারাষ্ট্র ভিত্তিক এক সংস্থা — রেস্পিরার লিভিং সায়েন্সেস এই মর্মে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেই প্রতিবেদনে তারা জানায়, গতবছর কলকাতার বাতাসের মান বা একিউআই নির্ধারণএ কণার চেয়েও বেশি ঘাতক নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড এবং ওজ়োন-এর মতো অদৃশ্য গ্যাস। যা দিনশেষে কলকাতার দূষণের খলনায়কে পরিণত হয়েছে।