কলকাতা : আগামী সোমবার পৌরভোটের মামলার নির্দেশ দেবেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব। রাজ্য ও নির্বাচন কমিশন জানাবে কত দফায় এবং কবে তারা ভোট করাতে চায়। আজ পৌরভোট মামলায় বিজেপির আইনজীবী বিজ্ঞপ্তি খারিজের আবেদন জানান প্রধান বিচারপতির এজলাসে।
বিজেপির আইনজীবী আইনজীবী পিঙ্কি আনন্দ বলেন, “প্রায় দেড় বছর আটকে আছে ভোট। সব পৌরসভার ভোট হোক একসঙ্গে। ২৪ নভেম্বর শুনানির পর দিনই কোনওরকম নোটিস ছাড়াই বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। কমিশনের আইনজীবী পার্থ সারথীর আশ্বাসের পরেও বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। নির্বাচন কমিশন রাজ্যের হয়ে কাজ করছে। বিধানসভা ভোটের মডেল অনুসরণ করছে বলছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। তাহলে এক দফায় ভোট কেন?”
আইনজীবী পিঙ্কি আনন্দের বক্তব্য, একটা জায়গায় ভোট হলে আগামী ভোটে সেই ফলাফলের প্রভাব পড়বে। বিজ্ঞপ্তি খারিজ করার দাবি তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ভোট ছয় মাসের মধ্যে করতে হবে। সেই সংক্রান্ত আইনও আদালত কক্ষে দেখান পিঙ্কি। বলেন, “কমিশন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। ২০২০ সালের ৬ মে পৌর প্রশাসকরা নিযুক্ত হয়েছেম। এখানে কমিশনারকে অবসরপ্রাপ্ত হতে হবে। বর্তমান কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত হিসেবে পঞ্চায়েত দফতরে ওএসডি হিসেবে কাজ করেছিলেন। তারপর তাকে কমিশনার করা হয়। ভবানীপুরে উপনির্বাচন না হলে সাংবিধানিক সংকট হবে বলে মুখ্যসচিব জানিয়েছিলেন। তাহলে সব পৌরভোট করতে সমস্যা কোথায়? সব ভোট একসঙ্গে হোক এবং গননাও একদিনে হোক।”
অন্য মামলাকারী মৌসুমী রায়ের বক্তব্য পৌরভোট একসঙ্গে হোক, একদিনে না হলেও হবে। জারি করা বিজ্ঞপ্তি খারিজের কথা তিনি বলেননি। নির্বাচন কমিশনের হয়ে আইনজীবী জয়ন্ত মিত্র বলেন, “কমিশনের আইনজীবী বলেছিলেন আগামী শুনানি পর্যন্ত বিজ্ঞপ্তি জারি হবে না। কমিশন রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা করে দিন স্থির করে। সেখানে কোভিডের কথা উল্লেখ করে বলেন, দুটি পুরসভার ভোট করা হবে। সৌরভ দাস একজন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস। কখনও রাজ্য সরকারের হয়ে কাজ করেননি। কমিশন ভোট ঘোষনার পর বন্ধ করা যায় না।”
প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব এর পর প্রশ্ন করেন, “বাকি পৌরসভার ভোট কবে হবে? কত সময় নেবেন ভোট করতে? কত দফায় করতে পারেন?” প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, “এটা দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের ভোট করানো। কমিশন কি জিজ্ঞেস করবে না কবে বাকি ভোট হবে? কেন আগে কলকাতা ভোট? বাকি ভোট তার পরে হবে এই সিদ্ধান্ত কেন?”
এর জবাবে কমিশনের তরফে জানানো হয়, তাঁদের ‘ইনস্ট্রাকশন’ নিতে হবে। প্রধান বিচারপতি এর পর প্রশ্ন করেন, “ইন্সট্রাকশন নিতে কত সময় লাগবে? কাল কেন আসতে পারেবেন না?” উল্লেখ্য, কমিশনের তরফে আদালতে আরও জানানো হয়, “একসঙ্গে সব ভোট করানো সম্ভব নয়। কোভিড ছাড়াও অন্য সমস্যা আছে। ইভিএমের ঘাটতি আছে।” আগামী সোমবার পুরভোটের মামলার নির্দেশ দেবেন প্রধান বিচারপতি। রাজ্য ও নির্বাচন কমিশন জানাবে কত দফায় কবে তারা ভোট করাতে চায়।