CM Mamata Banerjee: ‘খুনিরও ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকার আছে’, নাম বাদ নিয়ে কমিশনকে তোপ মমতার
Mamata Banerjee: মমতা বলেন, "এখানকার ভুড়িওয়ালা, নাম বলতে ঘেন্না লাগে। তিনি বলছেন তিনটে ক্লেম জমা পড়েছে। মানুষ ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা বসে আছেন। মানুষ জানতেই পারছে না কার নাম বাদ গেল। গত পরশু ড্রাফট লিস্ট বেরিয়েছে। সবার পক্ষে এত কোটি কোটি পাতা খুঁজে নাম দেখা সম্ভব নয়। কোনও কারণ দর্শানোর সুযোগ না দিয়েই অনৈতিক ভাবে বাদ গেছে। যে মহিলারা বিয়ে করে টাইটেল পরিবর্তন করেছেন তাঁদের নাম বাদ গেছে। ঠিকানা বদল হয়েছে তাঁদের নাম বাদ গেছে। মানুষকে নিয়ে খেলা করা হচ্ছে।"

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখ্যমন্ত্রীImage Credit: Facebook
কলকাতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করছেন। আজ আরও একবার এসআইআর নিয়ে বলছেন তিনি। সাংবাদিক বৈঠক থেকে মমতার বক্তব্য একনজরে….
সর্বশেষ তথ্য় উপরে…
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: আশা করি যারা জেনুইন ভোটার তাঁদের নাম বাদ যাবে না। বিহারে ফাইনাল লিস্ট বের করে আপনারা ভোটের দিন ঘোষণা করে দিয়েছিলেন। ভোট এলে উদ্বোধন। ভোটের পর সব শেষ। কী উদ্ধোধন করছেন? মালদহ থেকে জলপাইগুড়ি/ মালদা এর গুরুত্ব নাই। আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি। এমন খবর আছে। ২০২৪ এ কিছু লোক নিয়ে এসে তাঁদের নামে সার্টিফিকেট দিয়েছেন ওড়িশার অফিসার। তবে পুলিশকে জানানো হয়নি। CAA-র নিয়ম তাই। আপনি নিজে যদি চোর/ ডাকাতদের আমদানি করেন। ভোটের সময় কিছু হলে কী হবে? আমি চাই মতুয়ারা ভোট দিক। এর জন্য তাঁদের লেখাতে হবে না যে “২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে এসেছি!” আর ওই ক্যা-র কোনও ভ্যালু নেই। আমি বলব, বিএলও অফিসে গিয়ে নাম লেখান মতুয়ারা। মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষকেও বলব।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়:মধ্যপ্রদেশের এক নেতা এসে এখানে বসে আছেন। বাংলায় আপনি শান্তিতে থাকবেন। এখানকার ভাল ভাল মিষ্টি খাওয়াব। কিন্তু নিজের রাজ্যে বাঙালিরা যেন হেনস্থা না হয়। ডবল ইঞ্জিন রাজ্যে বাংলার মানুষকে মারবেন আর এখানে এসে বাংলার মানুষের নাম বাদ দেবেন? বিএলএ১ ও বিএলএ ২ কে বলব, নজর রাখুন। কারণ, এই বস্তা করে কেউ অস্ত্র বা বোম আনছে না, সেটা তো আমাকে নিরাপত্তা দেখতে হবে। আমার রাজ্যে শান্তি রক্ষা করতে হবে।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: কয়লা থেকে হাওয়ালা—- সীমান্ত কার হাতে, কাস্টমস কার হাতে, সিআইএসএফ কার হাতে? প্লেনে বাইরে লোক আসছে সব তো কেন্দ্র দেখে। আর্মিও তোমার হাতে। আমার কাছে খবর আছে, আর্মি অফিস থেকে সাংবাদিকদের ইনভাইট করেছে। আমার কাছে খবর আছে, ফোর্ট উইলিয়মের একজন কমান্ড্যান্ড এসআইআর আর বিজেপির কাজ করছেন। বিজেপি করছেন। প্লিজ এটা করবেন না। যাঁরা সত্যিকারের চোর ডাকাত ধরুন।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: বাংলার বিষয়ে সব সরকারি সার্টিফিকেট বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে। কার নির্দেশে? বিহারে তো হয়নি। দুর্যোধন-দুঃশাসন এভাবে বাংলা জয় হবে না। ক্ষমতা থাকলে লড়াই করো। বাংলাকে তোমরা লুঠ করছ। বলছ ঝুট। যেখানে যেখানে আনঅথরাইজড পেপার আর বাল্কে পেপার পাবেন সেখানে সেখানে এফআইআর করবে। মিডিয়াকেও বলব, আপনারাও জানতে পারলে করুন। সাংবাদিকদের অনেক ধন্য়বাদ। দিল্লির মিডিয়াকে বিশ্বাস করবেন না। কোর্টে কেসই হল না, মিডিয়া ট্রায়াল করছে। আমি বলছি, যেখানে বিশাল সংখ্যক কাগজ পাচ্ছেন সেখানে পুলিশকে জানাবেন।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: মালদহে কয়েক হাজার ফেলে দিয়ে গেছে। আমাদের এজেন্সিকে তছনছ করেছ। তমলুক-ময়নাতে কয়েক হাজার নিয়ে গিয়েছ। ব্যারাকপুরে বড় নেতার ছেলে নিয়ে গিয়েছে। বিএলআরওদের কী প্রয়োজন ছিল ? এখন বলছে ১৩-১৪ পর্যন্ত হিয়রিং হবে। Whtsapp করে বলা হচ্ছে। বিজেপি যা বলছে উনি প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে পরিবর্তন করছেন। মাইক্রো অবজার্ভার, যা কোনও রাজ্যে নেই। এরা তো অ্যালাও নয়। শুধু বাংলায় কেন? অসম-ত্রিপুরা-মণিপুর-নাগাল্যান্ডে এসআইআর নয় কেন? ক’টা রাজ্যে আনা হয়েছে মাইক্রো-অবজারভার? নির্বাচন কমিশনকে আমরা সম্মান করি। কিন্তু নিয়ম মেনে চলতে হয়। নিয়ম মেনে চলতে হয়। জীবন্ত মানুষের যদি মৃত দেখানো হয়, অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়….। ওয়ান নেশন ওয়ান পার্টি। আর কোনও দল থাকবে না। এক সঙ্গে একঝাঁক মানে অবৈধ । জোর করে করলেও পারে না। ভয়ের কারণ নেই। প্রশাসনের দায়িত্ব দেখা, ইলেকশন রুলস মেনে চলা। মাইক্রো অবজার্ভার বললেও না। একদিকে গঙ্গাসাগর মেলা চলছে। কোটি পূণ্যার্থীদের নিয়ে মানুষ হিমশিম খাচ্ছে। সেই সময় বলছে ১৩/১৪ শেষ হিযারিং তারিখ। তার মানে ৭০ লক্ষের শুনানি হল না। রবীন্দ্রনাথ থাকলে তাঁর নামও বাদ দিতেন। অমর্ত্য সেনকে ভিটে ছাড়া করেছিল। আমিও গিয়েছিলাম দেখা করতে। তাঁরা বৌ-এর সঙ্গে কেন বয়সের ফারাক। সেটা লজিস্টিক ডিসক্রিপেন্সি? একজনকে বলছে, ছ’টা ছেলেমেয়ের বাবা-মায়ের নাম এক? আরে আমরাই তো পাঁচ ভাইবোন। একটা ঘরে পাঁচজন ভাই থাকতে পারে না? একটা ছবি দেখাচ্ছি, গাড়িতে করে নয়-দশ হাজার কাগজ নিয়ে গেছে। জেনুইন ভোটারের নাম ডিলিট করতে। সব মালদহে। মানুষের তথ্য চুরি।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: আমি শুনছি অনেক পরিবার ব্ল্যাকমেইল Blackmail-র শিকার হচ্ছে। ভুডিওয়ালা, রাস্তায় টাকা ছুড়ে ফেলা, অনেক কেলেঙ্কারির নায়ক। এর নাম বলছি না। সেই লোকটা, আমি বলছি ভদ্রলোক। অন্যরা বলছে না। একটা লিস্ট দিয়ে বলেছে, তৃণমূল জানিয়েছে মাত্র ৮ জনের ক্লেইম অবজেকশন। যখন লোক নোটিস পাচ্ছে জানতে পারছে। বিজেপির প্ল্যান আরও লোকের নাম বাদ দেওয়া। এবং ঝাড়খণ্ড, বিহার, ওড়িশা থেকে ভোট দিতে আসতে পারে বাংলায় সেই চেষ্টা করছে। প্রতিটি পুলিশ স্টেশন অনুযায়ী, ইআরও, ডিএম অফিস থেকে ১০ হাজার লোকের নাম ব্লাকে নিয়ে গেছে। এটা করতে পারে না। ওদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। খাতরাতে ধরা পড়েছে। মালদহে ফেলে চলে গেছে।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: এখানে সব নথি নিয়ে যাওয়ার পরেও বলা হচ্ছে Eligible নয়। ওরা যে এটা লিখছে প্রথমে জানতে পারিনি। বিএলএ ২-দের ঢোকার কথা ছিল। তবে, বিজেপি-র বিএলএ টু না থাকায় আমাদের বিএলএ দের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। যে লোকটার নাম বাদ দিচ্ছে, সেই লোকটার কারণ জানান অধিকার নেই কেন নাম বাদ হয়? অ্যাসোশিয়েশন কিন্তু নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে যে তারা নাম বাদ দেয়নি। সেই তালিকা সামনে আসেনি। লজিক্যাল ডিক্রিপেন্সি ছিল না কিন্তু প্রথমে। এটা নতুন করে দখলদাসদের মাথা থেকে বের হয়েছে। ১ কোটি ৩৬ লাখের তালিকা করেছে। এই তালিকা কারও কাছে নেই। কোনও পার্টিকে দেয়নি। নিজেরা বিজেপি পার্টি অফিসে রেখে দিয়েছে।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: বিহার-হরিয়ানা-মহারাষ্ট্র ধরতে পারেনি। মাইক্রো-অবজারভার বিজেপির দলদাস। ইতিমধ্যে আমাদের কাছে খবর এসেছে, শুনানিতে ডাকার পরে লগিং করার পরে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ডিএমরা নাম তুলতে পারেননি। ভোটার ঠিক করে নির্বাচিত সরকার ঠিক করে দিচ্ছে কমিশন। ৮৪ জন মারা গেছে। ৪ জন আত্মহত্যা করতে গেছিল। ১৭ জনের স্ট্রোক হয়েছে। মোট ১০৫ জনের মতো মানুষেরজীবন সঙ্কটে। এর দায় কমিশন-বিজেপি পার্টিকে নিতে হবে। দুর্যোধন-দুঃশাসনকে নিতে হবে। এছাড়া, ১৩/১৪ টার্গেট করেছে। ওদের বিএলএ ছিল না। হিয়ারিংর সময়ে বিএলএ-দের ঢুকতে দেয়নি। কারণ, সেখানে মাইক্রো অবজার্ভারদের বসিয়ে রেখেছে। কিছু গদ্দার। কিছু দালাল-ক্রিতদাস। যাঁরা গেলেই রাষ্ট্র বিরোধী, লিখে দিচ্ছে ‘কোনও নথি পাওয়া যাচ্ছে না।’ কোনও রসিদ দেওয়া হচ্ছে না।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: এখানকার ভুড়িওয়ালা, নাম বলতে ঘেন্না লাগে। তিনি বলছেন তিনটে ক্লেম জমা পড়েছে। মানুষ ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা বসে আছেন। মানুষ জানতেই পারছে না কার নাম বাদ গেল। গত পরশু ড্রাফট লিস্ট বেরিয়েছে। সবার পক্ষে এত কোটি কোটি পাতা খুঁজে নাম দেখা সম্ভব নয়। কোনও কারণ দর্শানোর সুযোগ না দিয়েই অনৈতিক ভাবে বাদ গেছে। যে মহিলারা বিয়ে করে টাইটেল পরিবর্তন করেছেন তাঁদের নাম বাদ গেছে। ঠিকানা বদল হয়েছে তাঁদের নাম বাদ গেছে। মানুষকে নিয়ে খেলা করা হচ্ছে।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: যে ৫৪ লক্ষের নাম বাদ দিয়েছে, বলছে ইআরও বাদ দিয়েছে। অথচ ইআরও জানে না। যার নাম প্রথম পর্যায়ে ডিলিট করা হয়েছে তাদের ফর্ম ৬ ৭ ফিলাপের অধিকার আছে। যে ৫৪ লক্ষের নাম বাদ গেছে তাঁদের নামের ডেটা কাউকে দেওয়া হয়নি।
