১৬ কোটির বিলাসবহুল বাংলো, অন্দরসজ্জায় নিজের হাতের কাজ! সানি লিওনের মুম্বইয়ের প্রাসাদে কী কী আছে?
অভিনেত্রীর বাড়ির সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হল ওয়াল পেন্টিং। দেওয়ালে টাঙানো একটি রঙিন ছবি দেখে ফারহা খান যখন ভাবছিলেন এটি হয়তো নিউ ইয়র্কের স্কাইলাইন, তখন সানি হেসে জানান— এটি তিনি নিজে সন্তানদের নিয়ে এঁকেছেন এবং ড্যানিয়েলকে উপহার দিয়েছেন। এমনকি ঘরের একটি সাপের শোপিসও সানি নিজের হাতে বাড়িতে তৈরি করেছেন। দামী ব্র্যান্ডের ভিড়ে নিজের হাতে বানানো জিনিসের এই উপস্থিতি বাড়িটিকে আরও মায়াবী করে তুলেছে।

সানি লিওনের গ্ল্যামারে মুগ্ধ সকলে। কিন্তু গ্ল্যামারের বাইরেও তাঁর একটা ছিমছাম, শৈল্পিক জগত রয়েছে। মুম্বইয়ের আন্ধেরিতে প্রায় ১৬ কোটি টাকার এক রাজকীয় পেন্টহাউসে স্বামী ড্যানিয়েল ওয়েবার আর তিন সন্তানকে নিয়ে সানির সংসার। সম্প্রতি ‘ফান উইথ ফারহা’-তে নিজের এই সাধের আস্তানার গল্প ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেত্রী। দামী আসবাবের চেয়েও সানির বাড়ির আনাচে-কানাচে জড়িয়ে আছে সানি ও তাঁর সন্তানদের হাতের ছোঁয়া।

you tube
সানির বাড়িতে ঢুকতেই মন কেড়ে নেবে বিশাল প্রবেশপথ, যেখানে বড় আয়নার সঙ্গে মেঝেতে সাদা-কালো রম্বস আকৃতির টাইলস এক অন্যমাত্রা যোগ করেছে। বসার ঘরটি ‘ওপেন-ফ্লোর’ প্ল্যানে তৈরি, অর্থাৎ ড্রয়িং রুম আর ডাইনিংয়ের মাঝে কোনও দেওয়াল নেই। গত ১৫ বছর ধরে এই বাড়িতেই থাকছেন সানি। বাড়ির প্রতিটি আসবাব বা শোপিস তিনি বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে সংগ্রহ করেছেন। যেমন, পিয়ানোর ঠিক উপরেই ঝুলছে নেপাল থেকে আনা ভগবান বুদ্ধের একটি ছবি। ওই পিয়ানো বাজানো শিখছে সানির তিন ছেলেমেয়ে।
অভিনেত্রীর বাড়ির সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হল ওয়াল পেন্টিং। দেওয়ালে টাঙানো একটি রঙিন ছবি দেখে ফারহা খান যখন ভাবছিলেন এটি হয়তো নিউ ইয়র্কের স্কাইলাইন, তখন সানি হেসে জানান— এটি তিনি নিজে সন্তানদের নিয়ে এঁকেছেন এবং ড্যানিয়েলকে উপহার দিয়েছেন। এমনকি ঘরের একটি সাপের শোপিসও সানি নিজের হাতে বাড়িতে তৈরি করেছেন। দামী ব্র্যান্ডের ভিড়ে নিজের হাতে বানানো জিনিসের এই উপস্থিতি বাড়িটিকে আরও মায়াবী করে তুলেছে।

you tube
সানির রান্নাঘরটি সম্পূর্ণ সাদা রঙের থিমে সাজানো। বিশাল জায়গা আর আধুনিক যন্ত্রপাতিতে ঠাসা এই রান্নাঘর দেখে ফারহা মন্তব্য করেন, “মনে হচ্ছে যেন আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেসের কোনও বাড়ি!” সানি মজা করে বলেন, তাঁর কাছে রান্নাঘরটি বাড়ির অবহেলিত অংশ নয়, বরং অন্যতম প্রিয় জায়গা। সঙ্গে রয়েছে একটি বিশাল বারান্দা বা ‘ওয়াক-অ্যারাউন্ড ডেক’, যেখান থেকে মুম্বইয়ের আকাশ আর মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা যায়।
আলাপচারিতার মাঝেই উঠে আসে সানির মা হওয়ার লড়াইয়ের কথা। অভিনেত্রী জানান, সারোগেসি বা আইভিএফ (IVF) পদ্ধতিতে চেষ্টা করলেও চারবার তিনি গর্ভস্থ সন্তানকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও ড্যানিয়েল ও সানি হাল ছাড়েননি। পরে তাঁরা নিশার দায়িত্ব নেন এবং তাকে দত্তক নেন। সানি ও ড্যানিয়েল প্রথম থেকেই নিশাকে সত্যটা জানিয়ে বড় করছেন। সব মিলিয়ে নিজের সাধের বাড়িতে স্বামী সন্তান নিয়ে সুখে সংসার করছেন অভিনেত্রী।
