Suvendu Adhikari: তৃণমূল আমলে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার? ‘সব টাকা ফিরিয়ে আনব, না খাব, না খেতে দেব’, বললেন শুভেন্দু
West Bengal New Industrial Policy 2026: জমি নীতি নিয়ে বিগত দুই সরকারকে একযোগে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আগের সরকারের আমলে জমি নীতি ছিল লগ্নি বিরোধী। জমি নীতি না থাকার কারণেই রাজ্যের শিল্প নীতি মুখ থুবড়ে পড়েছিল। তাঁর দাবি, আগে ঘটা করে শিল্প সম্মেলন আয়োজন করা হলেও রাজ্যে বিনিয়োগ আসেনি। সিন্ডিকেটরাজের কারণেই শিল্পপতিরা বিনিয়োগে আগ্রহী হননি।

কলকাতা: বিজেপি সরকারের আমলে তৈরি হয়েছে নতুন শিল্পনীতি। আজ সেই শিল্পনীতি প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিল্পপতিরা। ওই মঞ্চ থেকেই শিল্পনীতি নিয়ে বিগত সরকারকে তোপ দাগলেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, “বাংলায় আগে কখনও জমি নীতি ছিল না। জমি নীতি ছিল না বলেই মুখ থুবড়ে পড়েছিল শিল্প নীতি। একইসঙ্গে তৃণমূল আমলে বিদেশে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাঁর আশ্বাস, পাঁচ বছরের মধ্যে যত টাকা বাইরে পাচার হয়েছে, তা ফিরিয়ে আনবেন তিনি।
সিপিএম ও তৃণমূলকে আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রীর
জমি নীতি নিয়ে বিগত দুই সরকারকে একযোগে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আগের সরকারের আমলে জমি নীতি ছিল লগ্নি বিরোধী। জমি নীতি না থাকার কারণেই রাজ্যের শিল্প নীতি মুখ থুবড়ে পড়েছিল। তাঁর দাবি, আগে ঘটা করে শিল্প সম্মেলন আয়োজন করা হলেও রাজ্যে বিনিয়োগ আসেনি। সিন্ডিকেটরাজের কারণেই শিল্পপতিরা বিনিয়োগে আগ্রহী হননি।”
শিল্পপতিদের বার্তা শুভেন্দুর
শিল্পের জন্য জমির ব্যবস্থা করতে রাজ্য সরকার উদ্যোগী হবে বলে জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন,”জোর করে জমি অধিগ্রহণের পক্ষে নয় সরকার। বরং জমি কিনে নতুন করে ল্যান্ড ব্যাঙ্ক তৈরি করা হবে। সেই জমি শিল্পপতিদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। যাঁরা আগে জমি নিয়ে ফেলে রেখেছেন, তাঁদেরও জমি ফেরত দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সিঙ্গুর নিয়েও রাজ্য সরকার বিশেষ কিছু করবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে কাটমানি, সিন্ডিকেট ও তোলাবাজি বন্ধ করার চেষ্টা চলছে বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর কথায়, সরকার শিল্প ও বিনিয়োগের বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক।
‘না খায়ুঙ্গা, না খানে দুঙ্গা’
রাজ্যের রাজস্ব বৃদ্ধি নিয়েও এদিন বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর এবং ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দু’টি অর্থবর্ষের সংশ্লিষ্ট সময়ের হিসাব অনুযায়ী রাজ্যের রাজস্ব বৃদ্ধি হয়েছে। নতুন করে কোনও উদ্যোগ এখনই নেওয়া সম্ভব না হলেও গত বছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় ৪ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি, হাজার হাজার কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব বিদেশে পাচার হয়েছে বলে অভিযোগ করেন শুভেন্দু। বলেন, “দুটো কোয়ার্টার আমাদের হয়েছে। ২০২৫-এ এপ্রিল-মে-জুন। আর জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর। ২০২৬-এর দুয়ো কোয়ার্টার। ১ এপ্রিল থেকে ৩১ অক্টোবর। আমাদের রেভিনিউ গ্রোথ হয়েছে। আমরা নতুন এখনই করতে পারিনি। কিন্তু আমাদের রেভিনিউ গ্রোথ হয়েছে গত বছরের তুলনায় ৪ হাজার কোটি। ২০ হাজার কোটির বেশি বিদেশে পাচার হয়েছে। কথা দিচ্ছি, পাঁচ বছরের মধ্যে যত টাকা বাইরে চলে গিয়েছে আমাদের রেভিনিউ, না খায়ুঙ্গা, না খানে দুঙ্গা। ” কাটমানি ও তোলাবাজি বন্ধ করে রাজ্যের রাজস্ব বৃদ্ধি এবং শিল্পে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
