CM Suvendu Adhikari: ‘হিন্দু শব্দ ডিলিট না করলে…’, বিকাশকে ডেডলাইন বেঁধে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী
CM Suvendu Adhikari on Bikash Ranjan Bhattacharya: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "বিকাশবাবু নিজের পোস্টে হিন্দুত্ববাদীদের আক্রমণ করেছেন। এটাকেও আমরা খুব সিরিয়াসলি নিয়েছি। গতকাল গরফা ও কসবা থানায় বিকাশ ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে।"

কলকাতা: আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক। চরম হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ‘হিন্দুত্ববাদী’ শব্দ যদি তিনি ডিলিট না করেন, তাহলে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন।
এ দিন নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য, সিপিআইএমের বড় নেতা ও প্রাক্তন মেয়র। তিনি ভীষণ রকম হিন্দু বিদ্বেষী। তাঁর বাড়িতে গতকাল সকালে একটি ঘটনা ঘটে। উনি নিজেই পোস্ট করেন। আমি সকালে মালদহ বেরিয়ে যাই। এজি সুরজিৎ মিত্রকে বলে যাই, সরকার এটাকে সমর্থন করে না। সিপিকে বলি, ওই ছেলেটাকে চিহ্নিত করুন। যদি বিকাশবাবু অভিযোগ করেন, করুন, না করলে সোজা নোটিস করে করুন। পুলিশ এফআইআর করেন বিকাশবাবুর কমপ্লেনে। তাতে বাপ্পা গুছাইত নামক একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ বিকাশবাবুর করা লিখিত অভিযোগে যে যে ধারা যোগ করা উচিত, সেই ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “বিকাশবাবু নিজের পোস্টে হিন্দুত্ববাদীদের আক্রমণ করেছেন। এটাকেও আমরা খুব সিরিয়াসলি নিয়েছি। গতকাল গরফা ও কসবা থানায় বিকাশ ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আজ সকালে সিপিকে আমি নির্দেশ দিয়েছি। বিএনএস অনুযায়ী এফআইআর করা হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমার সাংবাদিক বৈঠকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হিন্দুত্ববাদী শব্দটি ডিলিট না করেন, তাহলে আমরা মনে করি সর্ববৃহৎ ধর্ম পালনকারী হিন্দু, তাদের আস্থাতে সরাসরি আঘাত করা হয়েছে। উনি যদি আজকে পোস্ট কারেকশন করে দেন, তাহলে বেটার। আমরা আমাদের কাজ করেছি। আক্রমণকারীকে গ্রেফতার করেছি। নির্দিষ্ট ধারায় পুলিশ অ্যাকশন নিয়েছে। কারোর বাড়িতে আক্রমণকে সমর্থন করে না সরকার। এর সঙ্গে যে ভারতবর্ষকে হিন্দুস্তান বলে ডাকা হয়, সেই হিন্দুদের আক্রমণ করাও বরদাস্ত করা হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “এর আগে একটা সংবাদমাধ্যম থেকে গেরুয়া তাণ্ড বলে লিখে গেরুয়াকে আক্রমণ করেছিল। তাতে যেভাবে সনাতনীরা আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। এটাতে উনি হিন্দুত্ববাদী বলে কী বোঝাতে চেয়েছেন? হিন্দুত্ববাদী শব্দটির মাধ্যমে তিনি সমগ্র হিন্দু সমাজকে আক্রমণ করেছেন। আজ যদি না করেন, আগামিকাল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে কলকাতা পুলিশকে চিঠি দেব ওঁর পোস্ট টেক ডাউন (নামিয়ে দেওয়া) করার জন্য। এবং ওঁর বিরুদ্ধে যে এফআইআর হয়েছে, বিএনএস-র ধারা অনুযায়ী পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ হবে। উনি আইনের ঊর্ধ্বে নন।”
এই ঘটনায় ভীষণই ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী, তা স্পষ্ট করে দেন। বলেন, “বারে বারে হিন্দুদের আক্রমণ করবেন, করে আইনজীবীর প্রফেশনের মর্যাদা ব্যবহার করে এইসব করবেন, এটা কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে হবে না। আপনার বাড়িতে আক্রমণকে নিন্দা করি। দ্রুত গ্রেফতার করা হয়েছে। আপনাদের সিপিএমের আমলে এইসব হত না। ছোট আঙারিয়া, সূজপুর…আমি নন্দীগ্রামের আন্দোলনে ছিলাম। আচ্ছা আচ্ছা আসামীদের গায়ে আপনারা হাত দেননি। জীবনতলার তৎকালীন শওকত মোল্লা থেকে শাসনের মজিদ মাস্টার, দক্ষিণ দিনাজপুরের নারায়ণ বিশ্বাস থেকে আমতার প্রত্যুষ। গোঘাটের অভয় ঘোষ থেকে আরামবাগের মোজাম্মেল-যারা মার্ডার করেছে, লাশ পাচার করেছে, লক্ষ্ণণ শেঠ থেকে সুশান্ত ঘোষ-কারোর কেশাগ্র আপনারা স্পর্শ করেননি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমরা গ্রেফতার করেছি। জামিন অযোগ্য় ধারায় মামলা দিয়েছি। আপনিও এটা করবেন, আশা করি। নাহলে কিন্তু এই সরকার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।”
বিকাশ ভট্টাচার্যকে সরাসরি প্রশ্ন করেন, “এই সরকারের আমলে কোনও সম্প্রদায়কে আক্রমণ করার অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি। আপনার বাড়িতে আক্রমণকারী যদি অন্য ধর্মের হত, তাহলে আপনি লিখতে পারতেন মুসলিম পন্থী? ইসলামপন্থী? খ্রিস্টানপন্থী? লিখতে পারতেন? হিন্দুদের এত দুর্বল ভাবার কোনও কারণ নেই বিকাশ ভট্টাচার্য। আপনাকে আমি সতর্ক করলাম। আপনি ওই শব্দ প্রত্যাহার করুন। নাহলে কাল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে লিখব, পুলিশের পক্ষ থেকে আপনার পোস্ট টেক-ডাউন করার জন্য। এবং যে এফআইআর হয়েছে, সেই অনুযায়ী স্টেপ নেওয়ার জন্য।”
