Coal Scam in Bengal: ১০ টাকার চালানে শত কোটির সম্পত্তি! কয়লা মামলায় বড় পদক্ষেপ ইডির

West Bengal Coal Scam: তদন্তকারীদের সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কয়লা পাচারের টাকা দু'টি বেনামী সংস্থার জমি, মিউচুয়াল ফান্ডে বেনামে সরানো হয়েছিল। ভুয়ো চালানে ১০ বা ২০ টাকার নোট আটকে তার ছবি ব্যবহার করে চলত চক্র। এই সামান্য় চালান দিয়েই তৈরি হয়েছিল শতকোটির সম্পত্তি।

Coal Scam in Bengal: ১০ টাকার চালানে শত কোটির সম্পত্তি! কয়লা মামলায় বড় পদক্ষেপ ইডির
প্রতীকী ছবিImage Credit source: সংগৃহিত (Social Media)

| Edited By: Avra Chattopadhyay

Feb 13, 2026 | 10:58 PM

কলকাতা: ভোটমুখী বাংলায় কয়লা পাচার মামলায় ফের তৎপর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সম্প্রতি তদন্তের স্বার্থে শহরের একাধিক ব্যবসায়ীকে তলব করেছিলেন তদন্তকারীরা। এবার সেই নির্বাচনের প্রাক্কালে ওই কয়লা পাচারকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত লালা সিন্ডিকেটের ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করলেন তদন্তকারীরা।

শুক্রবার কয়লা পাচার-কাণ্ডে প্রথমের দিকে দায়ের হওয়া মামলা অর্থাৎ পুরনো মামলাতেই ১০০ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। যার জেরে এই মামলা বাজেয়াপ্ত হওয়া মোট সম্পত্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২২ কোটি ৭১ লক্ষ টাকা। কিন্তু আচমকাই এই সম্পত্তির খতিয়ান কোথা দিয়ে পেলেন তদন্তকারীরা? গত ৪ঠা জানুয়ারি দিল্লি ও কলকাতায় একযোগে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল ইডি। সূত্রের খবর, ওই অভিযানেই লালা সিন্ডিকেটের তৈরি করা ১০০ কোটি টাকার এই সম্পত্তির খতিয়ান উদ্ধার করে তাঁরা। এরপরেই অ্যাকশন।

তদন্তকারীদের সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কয়লা পাচারের টাকা দু’টি বেনামী সংস্থার জমি, মিউচুয়াল ফান্ডে বেনামে সরানো হয়েছিল। ভুয়ো চালানে ১০ বা ২০ টাকার নোট আটকে তার ছবি ব্যবহার করে চলত চক্র। এই সামান্য় চালান দিয়েই তৈরি হয়েছিল শতকোটির সম্পত্তি। তবে এই গোটাটাই হিমশৈলের চূড়া মাত্র। তদন্তকারীদের অনুমান, লালা সিন্ডিকেটের মোট দুর্নীতির পরিমাণ ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার অধিক।

একদিকে পুরনো মামলায় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত। অন্যদিকে নতুন মামলায় চলছে তলব। সম্প্রতি কয়লা পাচার নিয়ে করা নয়া মামলায় বুদবুদ থানার ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলকে তলব করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। দিনের দিন ইডি দফতরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া তাঁকে। এরপরেই শুক্রবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ ফের একবার সশরীরে হাজিরা দিতে বলা হয় বুদবুদ থানার অভিযুক্তকে। কিন্তু তখনও গরহাজির ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডল। তাঁর পরিবর্তে এলেন দুই আইনজীবী শুভ্রাংশু পাল এবং দেবতনু দাস। তাঁদের থেকেই মনোরঞ্জন মণ্ডল ও তাঁর বাবা-মায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য নিয়েছেন তদন্তকারীরা।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে কয়লা পাচার মামলার তদন্ত শুরু করে সিবিআই। রাজ্যে রেলের বিভিন্ন সাইডিং এলাকা থেকে কয়লা চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই প্রথমে আয়কর দফতর, পরে সিবিআই তদন্তে নামে। সেই সূত্র ধরেই প্রকাশ্যে আসে মূল অভিযুক্ত অনুপ মাঝি ওরফে লালা এবং তাঁর সিন্ডিকেটের কথা। গতবছর এই কয়লা পাচার-কাণ্ডে আরও একটি মামলা দায়ের করে ইডি। ভোটমুখী বাংলায় হয়ে ওঠে সক্রিয়।