
কলকাতা ও নয়াদিল্লি: ভোটগ্রহণের আর মাসখানেক বাকি। এখনও কেন কংগ্রেস তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করছে না, এই নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছিল। অবশেষে শুক্রবার নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বৈঠকের পর জানিয়ে দেওয়া হল, ২৮৬টি আসনে প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। বাকি ৮টি আসনে প্রার্থীদের নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। অধীররঞ্জন চৌধুরীর মতো বর্ষীয়ান নেতারা এবার বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন বলেই ইঙ্গিত দিলেন বাংলায় কংগ্রেসের বাংলায় এআইসিসি-র দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা গুলাম আহমেদ মীর।
২০১১ সালে তৃণমূলের সঙ্গে জোট গড়ে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল কংগ্রেস। আবার ২০১৬ এবং ২০২১ সালের নির্বাচনে বামেদের সঙ্গে কংগ্রেস হাত মিলিয়েছিল। এবার অবশ্য আগেই কংগ্রেস জানিয়ে দেয়, তারা ২৯৪টি আসনে একাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। কিন্তু, প্রার্থী তালিকা ঘোষণা না করায় নানা জল্পনা বাড়তে থাকে। যেখানে অন্য দলগুলির প্রার্থীরা প্রচার শুরু করে দিয়েছেন, সেখানে কংগ্রেস তালিকা ঘোষণা না করায় নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
অবশেষে শনিবার বাংলায় দলের প্রার্থী তালিকা নিয়ে নয়াদিল্লিতে বৈঠকে বসে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেখানে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার ও প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
সেই বৈঠক শেষে অধীর ও শুভঙ্করকে পাশে নিয়ে বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কংগ্রেস নেতা গুলাম আহমেদ মীর সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা বাংলায় ২৯৪টি আসনেই প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তার জন্য ২৫০০ হাজার আবেদন আমরা পেয়েছি। এদিন CEC-র বৈঠকে প্রার্থী তালিকা নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে ৮টি আসন বাদে বাকি আসনগুলিতে প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। বাকি ওই আসনগুলি নিয়ে প্রার্থীদের নাম ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চূড়ান্ত হয়ে যাবে।”
তিনি জানান, শনিবার রাতে কিংবা রবিবার সকালে এআইসিসি প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করবে। পুরো শক্তি নিয়ে তাঁরা বাংলায় লড়াই করবেন বলে গুলাম আহমেদ মীর জানান।
অধীর চৌধুরী এবার বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে বেশ কয়েকদিন ধরেই জল্পনা ছড়িয়েছে। এমনকি, বহরমপুরে তাঁর নামে দেওয়াল লিখনও শুরু করে দিয়েছেন কংগ্রেস কর্মীরা। অধীর চৌধুরীর বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে সরাসরি কিছু বললেন না গোলাম আহমেদ মীর। তিনি জানালেন, বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের বর্ষীয়ান প্রায় সব কংগ্রেস নেতাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ফলে অধীরের প্রার্থী হওয়া নিয়ে জল্পনা আরও বাড়ল।