
কলকাতা: কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High court) উল্লেখযোগ্য রায়ের মধ্যে অন্যতম একটি রায় হল ছাব্বিশের হাজারের চাকরি বাতিল। এই মামলায় জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। বিস্তর আলোচনা, জল্পনা, রাজনৈতিক টানা পোড়েন চলে। আর এবার ভোটের আগে আরও একবার ইস্যু এই চাকরি বাতিল কেস। একজন দাগি চাকরিপ্রার্থীর মামলাতেই বাতিল হয়েছিল ছাব্বিশ হাজারের চাকরি। এসএসসির ওয়েটিং তালিকা প্রকাশ্যে আসতে চাঞ্চল্য। আর তারপরই বাম-বিজেপিকে একযোগে আক্রমণ শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর (Bratya Basu)।
ব্রাত্য বসু এ দিন আক্রমণ শানাতে গিয়ে বলেছেন, বিশেষ আইনজীবীরা ষড়যন্ত্র করতে কাদের হয়ে মামলা করেছেন দেখুন। তিনি বলেন, “বঞ্চিত বলে যাঁর নামে মামলা হল, যে বিশেষ আইনজীবীরা লড়লেন, এখন তাঁর নামই দাগির তালিকায় রয়েছে। পুরোটার পিছনে পরিকল্পিত ডিজাইন ছিল। আমার মনে হয় হ্রদের তলায় আরও অনেক শৈলশিখর রয়েছে। এই চূড়াগুলি আসতে-আসতে বেরবে। এটা তারই উপরিতলের চূড়া বেরনো মাত্র।” ব্রাত্য বসু এও বলেছেন, “অনেকবার নিয়োগ আটকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তবে নিয়োগ হবেই। তবে এটায় বোঝা গেল যোগ্য শিক্ষকের সঙ্গে আরও বৃহত্তর কোনও চক্রান্ত হয়েছিল কি না খানিকটা বেরিয়ে আসল।”
বিতর্ক বাঁধল কী থেকে?
২০২৫-এর এসএসসির নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন একদল চাকরিপ্রার্থীরা। যার প্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা সম্প্রতি ২০১৬ সালে নিয়োগপত্র না পাওয়া ওয়েটিং লিস্টে থাকা দাগি প্রার্থীদের নামের তালিকাও প্রকাশ করতে এসএসসিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। যাতে নতুন নিয়োগের প্রক্রিয়ায় একজনও দাগি না থাকতে পারেন। সেই নির্দেশ মেনে এসএসসি বুধবার শিক্ষাকর্মী ও নবম–দশমের শিক্ষক পদে ২০১৬ সালের ওয়েটিং লিস্টের দাগিদের তালিকা ওয়েবসাইটে আপলোড করে। সেই তালিকাতেই নাম ছিল নন্দীগ্রামের লক্ষ্মী তুঙ্গারের। এই লক্ষ্মীই ২০১৬ সালে নিয়োগের বৈধতা নিয়ে মামলা করেছিলেন। এবার দাগির তালিকায় তাঁর নাম থাকতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
চাকরিহারা রাকেশ আলম বলেন, “কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে যখন কেউটে বেরিয়ে পড়ে তখন প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। এই প্যানেল বাতিল আইনমোতাবেক হয়নি। এটি রাজনৈতিক রায়। ২০২৬ এর নির্বাচনকে সামনে রেখেই করা হয়েছে। সেটা এখন প্রকাশ্যে এসেছে। আমরা যোগ্য শিক্ষকের পক্ষ। কোনও রাজনৈতিক পক্ষ নই। গতকাল স্কুল সার্ভিস কমিশন দুটি তালিকা প্রকাশ করেছে। দাগিদের তালিকা। এই দাগিদের বিরুদ্ধে ওএমআর মিসম্যাচের অভিযোগ রয়েছে। এই তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই কিছু নাম উঠে আসে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, অযোগ্যরাই এই প্যানেলের পিটিশনার।