
কলকাতা: নতুন ঝাঁ চকচকে মেট্রো এখন শহরবাসীর নতুন ভরসা। নয়া রুটগুলিতে রমরমিয়ে চলছে মেট্রো। কিন্তু পুরনো লাইনের অবস্থা কার্যত জরাজীর্ণ। নানা সমস্যায় জর্জরিত মেট্রোর ব্লু লাইন। মাটির তলায় দীর্ঘ সুড়ঙ্গে যাতায়াত করে এই রুটের মেট্রো, এর পরিকাঠামোও আলাদা। সুড়ঙ্গে বাতাস ঠান্ডা রাখার জন্য় রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। এবার সেই মেশিনও কার্যত অকেজো। বিপর্যয়ের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না মেট্রোকর্তারা। এবার ৫৮৫ কোটি টাকায় আমুল সংস্কারের কাজ শুরু হচ্ছে মেট্রোতে।
সুড়ঙ্গের বাতাস ঠাণ্ডা করা যন্ত্রগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই অকেজো হওয়ার পথে। এই অবস্থায় সেগুলি সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা মেট্রো। সমস্যা শুরু হয়েছে অনেকদিন আগে থেকেই। টানেল ভেন্টিলেশন সিস্টেম (টিভিএস) এবং এনভায়রনমেন্ট কন্ট্রোল সিস্টেম (ইসিএস) উন্নত করার কাজ অবশেষে শুরু হল। ৫৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আগামী তিন থেকে সাড়ে তিন বছরের মধ্যে এই কাজ সম্পূর্ণ করা হবে বলে লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে।
কীভাবে ঠান্ডা রাখার হয় মেট্রোর সুড়ঙ্গ
বর্তমানে জল-নির্ভর ব্যবস্থায় সুড়ঙ্গের বাতাস ঠান্ডা করা হয়। বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনের বাইরে বসানো রয়েছে সেই বিশেষ যন্ত্র। প্রায় ১৮ কোটি লিটার ভূগর্ভস্থ জল ব্যবহার করে সুড়ঙ্গের ভিতরের বাতাস ঠান্ডা রাখা হয়। এতদিন স্টেশনগুলিকে শীতল রাখতে ‘ওয়াটার কুলড চিলার’ চালানোর জন্য এই বিপুল পরিমাণ ভূগর্ভস্থ জলের ব্যবহার করা হত।
মোট ৪৬টি যন্ত্র বা কুলারের মধ্যে ৩০টি যন্ত্রের মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার মুখে। এই অবস্থায় মেট্রো সুড়ঙ্গ কার্যত বিপর্যয়ের অপেক্ষা করছে বলেই মনে করেছিলেন মেট্রোর ইঞ্জিনিয়াররা। সেই কারণেই এই বিপুল অর্থ ব্যয় করে নয়া আধুনিক ব্যবস্থা বসানো হচ্ছে।
নতুন ব্যবস্থায় মেট্রো স্টেশনগুলির বাইরে পরিচিত ‘কুলিং টাওয়ারে’র দৃশ্যও বদলে যাবে। জল সাশ্রয়ের পাশাপাশি, এটি পরিবেশ ও ভূগর্ভস্থ জলস্তর রক্ষা করতে সক্ষম হবে বলে দাবি মেট্রোর ইঞ্জিনিয়ারদের। এছাড়াও টিভিএস ব্যবস্থার ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমানে কলকাতা মেট্রো সম্পূর্ণ ভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রেক চালু করায় অত্যাধুনিক টিভিএস ব্যবস্থা উন্নত করার কাজ শেষ হলে যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য আরও বাড়বে।
কেমন হবে নতুন সিস্টেম?
নতুন ব্যবস্থায় উন্নতমানের ‘স্মোক এক্সট্রাকশন সিস্টেম’-ও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। মেট্রোর তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমানে টানেলের মাঝামাঝি ১৪টি জায়গায় ১১০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ‘সেন্ট্রিফিউগাল ফ্যান’ ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে, যার জন্য বার্ষিক ৩ কোটি বিদ্যুৎ ইউনিট এবং ২১ কোটি টাকা খরচ হয়।
নতুন প্রকল্পে এই ফ্যানগুলির পরিবর্তে উন্নতমানের ‘অ্যাক্সিয়াল ফ্যান’ বসানো হবে, যা আগুন বা ধোঁয়ার উপস্থিতিতে স্বয়ংক্রিয় ভাবে চালু হবে। ২৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়ও নিরবচ্ছিন্ন ভাবে দু’ঘণ্টা কাজ করতে সক্ষম হবে বলে জানিয়েছে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ।