
কলকাতা: দাদু পদ্মনিধি ধর ছিলেন ডোমজুড়ের তিন বারের সিপিএম বিধায়ক। কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম মুখ। বাবা পীযূষ ধর সিপিএমের শিশুফ্রন্ট ‘কিশোরবাহিনীর’ রাজ্য সম্পাদক। বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যোগ রয়েছে মা দীপিকা ঠাকুর চক্রবর্তীরও। এক কথায় গোটা পরিবারই ‘লাল ব্রিগেড’। আর সেই পরিবারের সন্তান বিতর্কের আবহে সিপিএমের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছেন?
‘লড়াকু’ প্রতীক-উরকে নিয়ে কম অস্বস্তিতে পড়েনি সিপিএম। তার মধ্য়ে দীপ্সিতাকে কেন্দ্র করেও তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা। কেউ কেউ বলছেন, দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছেন তিনি। হয়তো নতুন কোনও পথে হাঁটার কথাও ভাবছেন। তা হলে প্রতীক-উরের মতো নতুন পথের পথিক হতে চান দীপ্সিতাও?
এই নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়েছিল তাঁকে। দীপ্সিতার দাবি, “সবাই তো বলছেন, আমি জল মাপছি। তবে এই গোটা ব্যাপারটাই আমি মজার ছলে নিয়েছি। কারণ জানি এমন কিছু ঘটছে না। প্রতীক-উরদা চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু আমি তো কোনও চিঠি দিয়েছি বলে মনে পড়ছে না। অন্য কোনও দলের সঙ্গে কথা বলছি এমনটাও নয়। তা হলে এটা কি সুপরিকল্পিত ভাবে ছড়ানো একটা খবর? এর নেপথ্যে একটা ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।” চারিদিকে যখন সিপিএমের যুবনেতা-নেত্রীদের তৃণমূলে যাওয়া নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, সেই আবহে দীপ্সিতা বলছেন অন্য কথা। তাঁর কথায়, “আমি খুব মজার ছলেই বলছি। যদি যেতেই হয় সমাজবাদী পার্টিতে যাব। তাতে লালও রয়েছে, সমাজবাদও রয়েছে।”
প্রয়াত বাম-বিধায়ক পদ্মনিধি ধরের নাতনিকে নিয়ে আকস্মিক গুঞ্জন তৈরির নেপথ্যে বড় ফ্য়াক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে নির্বাচনী টিকিট। সিপিএমে একটা গুঞ্জন ছিল, দীপ্সিতা ধর বিধানসভা ভোটে টিকিট পাবেন। তাও আবার হুগলির উত্তরপাড়া থেকে। অবশ্য, তাঁর বাড়িও খুব কাছাকাছি, বালির ঘোষপাড়া। গত লোকসভা নির্বাচনে দীপ্সিতা শ্রীরামপুর কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছিলেন। উত্তরপাড়া বিধানসভা এই শ্রীরামপুর লোকসভারই অন্তর্গত। জিততে না পারলেও, ওই বিধানসভা কেন্দ্রেই সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছিলেন দীপ্সিতা। সুতরাং, উত্তরপাড়ার প্রার্থী হিসাবে তিনি যে একেবারের সামনের সারিতে থাকবেন এটাই স্বাভাবিক।
কিন্তু দলীয় সূত্রে খবর, সেই সিদ্ধান্তে বড় বদল আনার পথে সিপিএম। উত্তরপাড়ায় লড়তে পারেন মিনাক্ষী মুখোপাধ্য়ায়। সাম্প্রতিক স্থানীয় একাধিক কর্মসূচিতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। তারপরেই বেড়েছে অস্বস্তি। যদিও নির্বাচনে লড়ার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয়েছিল দীপ্সিতাকে। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “সবটাই পার্টি ঠিক করবে।”