AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Mamata Banerjee’s Unique Words: দেড় দশকে কী কী শব্দ ‘আবিষ্কার’ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

Explore the unique words and phrases coined by Mamata Banerjee over the last 15 years. From 'Shubho Nandan' to 'Chi Chi Chi Chi,' discover the evolution of Didi’s political vocabulary: সাহারায় শিহরণ, দুর্ধর্ষ দুশমন, করাল কুম্ভীর-এমন শব্দবন্ধ শুনলে কার কথা মনে পড়ে? জটায়ু তাই তো! আর যদি বলি, শুভনন্দন, ক্যা ক্যা ছিঃ ছিঃ, গুডি গুডি। ব্যস হেসে ফেললেন তো! গত দেড় দশক ধরে এমনই নতুন নতুন শব্দের 'আবিষ্কার' করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সব শব্দ অভিধানে জায়গা না পেলেও বাঙালির মনে যে থাকবে, এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Mamata Banerjee’s Unique Words: দেড় দশকে কী কী শব্দ 'আবিষ্কার' করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'আবিষ্কার'
| Updated on: May 08, 2026 | 5:43 PM
Share

শব্দকে জব্দ করতে বাঙালি ওস্তাদ। আবার শব্দের পিঠে শব্দ বসিয়ে মজার মজার ছড়া তৈরি করতে বিশ্বে যদি কোনও জাতি থাকে, তা যে বাঙালিই হলফ করে বলা যায়। সাহারায় শিহরণ, দুর্ধর্ষ দুশমন, করাল কুম্ভীর-এমন শব্দবন্ধ শুনলে কার কথা মনে পড়ে? জটায়ু তাই তো! আর যদি বলি, শুভনন্দন, ক্যা ক্যা ছিঃ ছিঃ, গুডি গুডি। ব্যস হেসে ফেললেন তো! গত দেড় দশক ধরে এমনই নতুন নতুন শব্দের ‘আবিষ্কার’ করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সব শব্দ অভিধানে জায়গা না পেলেও বাঙালির মনে যে থাকবে, এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।

মমতা কথা বলতে বলতে ‘জন্ম’ দেন শব্দের। তারপর নিজেই বলে দেন,”আজ থেকে এই শব্দ বলব, আপনারাও বলবেন।” কখনও-সখনও তো খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও জানতেন না তিনি ‘মারাত্মক’ এক শব্দের জন্ম দিয়ে ফেলেছেন। তারপর মিষ্টি হেসে বলেই ফেলতেন, ‘আমি এখনই বানালাম।’

আগামীকাল অর্থাৎ ৯ মে বাংলা মসনদে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেবেন। আগামীকাল যেহেতু রবীন্দ্রজয়ন্তী, তাই রবিঠাকুরের বাংলায়, নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ অনুষ্ঠান সেদিনই হবে, তা বিজেপির বাংলা জয়ের পর ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নিলেও, পুরনো মুখ্য়মন্ত্রী তো আর ফিকে হতে পারেন না। অন্তত, দিদির রাজনীতির বাইরে, মমতাকে বাংলা মনে রাখবে, তাঁর মজাদার সব বক্তৃতায়, মজাদার সব শব্দ আবিষ্কারের মধ্যে দিয়ে! আসুন ফিরে দেখা যাক সেই ‘আবিষ্কার’ই।

শুভনন্দন (২০২৩)

প্রথমেই আসা যাক, মমতার কায়দায় শুভেচ্ছা বিনিময়। এতদিন বাংলা ও বাঙালি অভ্য়স্ত শুভ নবর্বষের শুভেচ্ছা, শুধুই শুভ নববর্ষ বলে বা লিখে অভিনন্দন জানাতেন। কিন্তু মমতা তো বরাবরই ‘জারা হটকে’! তিনি মিলিয়ে ফেললেন দুই শব্দ। শুভ ও অভিননন্দন অর্থাৎ শুভনন্দন। সালটা ২০২৩। এপ্রিল মাস। পয়লা বৈশাখের ঠিক আগে। দিঘায় প্রেস ক্লাবের উদ্বোধন করার সময়, মমতার মুখ থেকে জন্ম নেয় শুভনন্দন শব্দ। এই নতুন শব্দের জন্ম দিয়ে সেদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ”নতুন নতুন কথার আমদানিও তো করতে হবে। শুভকামনা, অভিনন্দন যদি হতে পারে, তা হলে শুভনন্দন কেন হতে পারে না? এতে শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন দুটোই আছে। নান্দনিক বলতে পারেন।” সেই সময় মমতার এই নতুন শব্দের উৎপাদন নিয়ে প্রচুর চর্চা হয়েছিল সোশাল মিডিয়া। মিমের বন্যা বয়েছিল। তবে সেই বন্যাও থামাতে পারেনি মমতাকে শব্দের খোঁজে। সময় এগিয়েছে, মমতাও নতুন নতুন শব্দের আবিষ্কারে ছুটেছেন।

ক্যা ক্যা ছিঃ ছিঃ (২০২২)

এই যেমন, নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে প্রতিবাদে মমতার মুখে জন্ম নেয় ক্য়া ক্য়া ছিঃ ছিঃ। বক্তৃতার মাঝে হঠাৎ ছন্দ মিলিয়ে দেওয়া দিদির এক সহজাত গুণ। নাগরিকত্ব আইনের (CAA-NRC) বিরুদ্ধে মিছিলে তাঁর সেই বিখ্যাত স্লোগান— “ক্যা ক্যা ছিঃ ছিঃ”। এটি শুধু একটি স্লোগান নয়, এটি যেন একাধারে প্রতিবাদী সংগীত এবং আধুনিক ছড়া। বিরোধীরা একে ‘অর্থহীন’ বললেও, তৃণমূল কর্মীদের কাছে এটি তখন ডিজিটাল যুগের ‘রণধ্বনি’। এর পরেই আসে জগাই-মাধাই-গদাই। ঠিক ছড়ার মতো শোনাল না! হ্য়াঁ, বিজেপি-বাম-কংগ্রেসকে এক সারিতে বসাতে তিনি তৈরি করেছিলেন এই ত্রিভুজ— ‘জগাই-মাধাই-গদাই’। ইতিহাসবিদরা এই ‘গদাই’-এর সন্ধান বইতে না পেলেও, জনসভার মঞ্চে গদাই হয়ে উঠেছিলেন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এক চরিত্র। তবে তিনি ঠিক কে, তা অবশ্য়ই কখনও স্পষ্ট করেননি মমতা। তবে মমতা এই শব্দ বন্ধ বরাবরই ‘গুডি গুডি’ ফিল দিত সোশাল মিডিয়ায়। নেটিজেনদের একাংশ তাঁর জন্ম তৈরি করা শব্দ বন্ধনী নিয়ে চর্চাও করতেন খোশমেজাজ। এখানে বলে রাখা দরকার, ইংরেজি Good শব্দ থেকেই অনুপ্রেরণা পেয়ে এই ‘গুডি গুডি’ শব্দ টেনে নিয়ে এসেছিলেন মমতা। তবে চমক রয়েছে আরও। যেমন, সরণি হয়ে গেল মমতার ধরণী। আর এই সরণি থেকে ধরণী হওয়ার প্রথম কোপ গিয়ে পড়ল সত্যজিৎ রায়ের উপরই। ব্যাপারটা খোলসা করে বলা যাক।

সরণি থেকে ধরণী (২০১৬)

দিল্লিতে বলা হয় মার্গ। কোথাও চলে স্ট্রিট কিংবা রোড। বাংলায় সাধারণত বলা হয় সরণি। কিন্ত ২০১৬ সাল শুরু হওয়ার মাত্র একমাসের মধ্যেই মমতার সৌজন্যে বাংলা পেল নতুন বিকল্প। ধরণী। লি রোডের নাম হয়ে গেল সত্যজিৎ রায় ধরণী! প্রস্তাব উঠেছিল লি রোডের নাম পাল্টে রাখা হোক সত্যজিৎ সরণি। কিন্তু, মুখ্যমন্ত্রী আপত্তি জানালেন। কারণ সরণি অনেক হয়েছে, তাই এবার ধরণী করলে কেমন হয়? যেমন ভাবা তেমন কাজ। বিশফ লেফ্রয় রোডের পাশের ছোট্ট লি রোডের নাম তাই সত্যজিৎ রায় ধরণী করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল কলকাতা পুরসভা। কিন্তু এই ধরণী শব্দের সত্যিই কোন অর্থ রয়েছে? রাস্তার সঙ্গে এই শব্দ যায়? তা ভেবে ভেবে কিন্তু সেই সময় মাথা চুলকে ছিলেন ভাষাবিদরা। মমতার এই শব্দবাণ বা ভাষার জন্মকে বেশিরভাগ ভাষাবিদরাই ‘জোরকলম’ শব্দ বলে বর্ণনা করেছেন। যেখানে দুটি শব্দের অংশবিশেষ মিশিয়ে একটি নতুন শব্দ তৈরি করা হয়। সুতরাং বিষয়টা এমনই দাঁড়াল, জোর যাঁর,শব্দ তাঁর। তাই বিদায়ী মমতার জোরেই বাংলা অভিধানে প্রবেশের জন্য লড়ছিল, সিধু-কানু-ডহর কিংবা চোর কি মাইয়া জোর সে বোলের (চোরে মায়ের বড় গলা) মতো শব্দরা। মমতার তৈরি শব্দ আপনার অপছন্দ? মমতার ভাষাতেই বলা যাক, ”গায়ে নেই কম্বল কবিতার ভাষায় বলি ভোম্বল, এটা একটা প্রবাদ, আমি এখনই বানালাম।”

Follow Us