
কলকাতা: সৎ সাহস থাকলে সমস্ত সমস্যার মোকাবিলা করা সম্ভব। সাহস মানে গুলি চালানো নয়, মানুষ মারা নয়। নিজের বিদায় সংবর্ধনায় ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য ডিজি রাজীব কুমারের। তাঁর বক্তব্য, বাংলার প্রাণহানি ছাড়াই সমস্যার মোকাবিলা করছে পুলিশ। অন্য রাজ্যের তুলনায় বাংলার সামনে চ্যালেঞ্জ বেশি, মত রাজীব কুমারের।
নিজের বিদায়ী ভাষণে রাজীব কুমার বললেন, “আমরা আমাদের লাইন অফ ডিউটিতে প্রাণ দিতে প্রস্তুত থাকি, এর জন্য আমরা গর্বিত। এটা আসে সৎ সাহস থেকেই। আমাদের অনেক সমস্যা ফেস করতে হয়। তার মধ্যে যদি আমরা সৎ সাহস বজায় রাখি তাহলে সমস্যা মোকাবিলা করতে সুবিধা হয়।” কথা প্রসঙ্গেই বলেন, “সাহস মানে গুলি চালানো, লোককে মারা নয়। সাহস মানে রুখে দাঁড়িয়ে যাওয়া, নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকা।”
কলকাতা পুলিশ, ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশ একসঙ্গে কাজ করে। রাজীবের কথায়, “আমাদের রাজ্য স্টাটেজিক্যালি এবং জিওপলিটিক্যালি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আমরা তিনটে বর্ডার শেয়ার করি। তাই আমাদের চ্যালেঞ্জ অনেকটা বেশি। শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রেখে আপনারা যে কাজ করে যান, তাতে আমাদের গর্ব হয়।”
৩১ জানুয়ারি ডিজি হিসাবে রাজীব কুমারের কর্মজীবনের শেষ দিন। রাজীব কুমারের পর ডিজি পদ নিয়ে আরও বেড়েছে জট। ক্যাটের নির্দেশের পর দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে UPSC। এবার UPSC-র বিরুদ্ধেই আদালত অবমাননার অভিযোগ তুলেছেন আইপিএস রাজেশ কুমার। ইতিমধ্যেই রাজীব কুমারকে ডিজি হিসাবেই পেতে চাইছে রাজ্য। ৮ জনের নামের তালিকা পাঠায় নবান্ন। তাতে নাম রয়েছে রাজীব কুমারের। UPSC-র তরফ থেকে তিন জনের নাম পাঠানোর কথা। কিন্তু তার আগেই হল আদালত অবমাননার মামলা।
রাজ্য সরকার গত ২১ জানুয়ারি ৮ জনের নাম পাঠায় ইউপিএসসি-তে। কিন্তু ইউপিএসসি তা থেকে নাম বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকা রাজ্য সরকারকে পাঠানোর আগেই দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। সেই কারণেই এই আদালত অবমাননার মামলা।গত বছরের নভেম্বরে ক্যাটে মামলা করেন আইপিএস অফিসার রাজেশ কুমার। তাঁর অভিযোগ ছিল, রাজ্যের তরফে নাম প্রস্তাব করা হলেও ইউপিএসসি-র একটি বৈঠকে রাজীব কুমার, রাজেশ কুমার এবং রণবীর কুমারের নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়।