Journalist Assault Case: তৃণমূল বিধায়কের প্রচারে আফরোজ, ‘চিনিই না’ বললেন খালেক, খোঁচা কুণালের
Dharmatala Journalist Attack: আফরোজের রাজনৈতিক যোগ নিয়ে 'ভালো তৃণমূলকে' খোঁচা দিলেন কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বলেন, "দিল্লির আন্দোলন আমরা সমর্থন করেছি। গত পরশুর মিছিলের সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক ছিল না। আমরা শনিবার আলাদা প্রোগ্রাম করেছি। যাদের নাম উঠছে, তারা তো ভালো তৃণমূল। দয়া করে আমাদের খারাপ তৃণমূলদের জড়াবেন না প্লিজ।"

কলকাতা: ধর্মতলায় সিজেপি ও বাম ছাত্র সংগঠনগুলির আন্দোলনে সাংবাদিকদের উপর হামলায় গ্রেফতার হয়েছেন ১৪ জন। তার মধ্যে একজন মহম্মদ আফরোজ। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হামলাকারীদের কথা উল্লেখ করার সময় আফরোজের নাম বলেছিলেন। আফরোজকে গ্রেফতার করার পর সামনে এল মেটিয়াব্রুজের তৃণমূল বিধায়ক আব্দুল খালেক মোল্লার নাম। বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় খালেক মোল্লার সঙ্গে দেখা গিয়েছিল আফরোজকে। যদিও মেটিয়াব্রুজের বিধায়ক দাবি করলেন, তিনি ধৃত যুবককে চেনেন না। এই নিয়ে আবার ‘ভালো তৃণমূলকে’ খোঁচা দিলেন কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ।
সাংবাদিকদের উপর হামলায় নাম জড়ানোর পর বাংলা ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন আফরোজ। অন্ডাল থেকে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। এদিন আদালতে তোলার সময় ভাবলেশহীন ছিলেন। ‘ডোন্ট কেয়ার’ মনোভাব নিয়ে আদালতে ঢুকে যান তিনি। আবার ধৃত মহম্মদ আজাদেরও মিলছে তৃণমূল যোগ। সূত্রের খবর, আজাদ ১৩৫ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রুবিনা নাজের স্বামীর ঘনিষ্ঠ।
এদিকে, আফরোজের রাজনৈতিক যোগ নিয়ে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তাঁর সঙ্গে আফরোজের নাম জড়ানোর পর মেটিয়াব্রুজের তৃণমূল বিধায়ক আব্দুল খালেক মোল্লা বলেন, “আমি আফরোজকে চিনিই না। আমি নির্বাচনে প্রায় ১ লক্ষর মতো ভোটে জিতেছি। সেই হিসেবে আমি বিভিন্ন জায়গায় প্রচারে গিয়েছি। সমর্থক হিসেবে হয়তো আমার পাশে দেখা যেতে পারে। কিন্তু, তাঁর সঙ্গে আমার ব্যক্তিগতভাবে কোনও পরিচয় নেই। আমি তাঁকে চিনিও না। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী যে গুন্ডাদমন আইন পাশ করেছেন, সেটা খুব ভালো আইন। কেউ যদি অন্যায় করে থাকে, তার বিরুদ্ধে আইনত পদক্ষেপ করবে পুলিশ। আইন আইনের পথে চলবে। তার সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই।”

মেটিয়াব্রুজের বিধায়ক আব্দুল খালেক মোল্লা
খোঁচা দিলেন কুণাল ঘোষ-
আফরোজের রাজনৈতিক যোগ নিয়ে ‘ভালো তৃণমূলকে’ খোঁচা দিলেন কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বলেন, “দিল্লির আন্দোলন আমরা সমর্থন করেছি। গত পরশুর মিছিলের সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক ছিল না। আমরা শনিবার আলাদা প্রোগ্রাম করেছি। যাদের নাম উঠছে, তারা তো ভালো তৃণমূল। দয়া করে আমাদের খারাপ তৃণমূলদের জড়াবেন না প্লিজ। ভালো তৃণমূলের ভালো ছেলেদের দায় আমাদের খারাপদের উপর ফেলছেন কেন? আমরা তো খারাপ। মমতার প্রতীক নিয়ে যারা জিতে ভালো তৃণমূল হয়েছে। তারা গোলমাল করলে দায় তাদের।”
কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-
সাংবাদিকদের উপর হামলা নিয়ে কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আইনের শাসনের মধ্য দিয়ে গুন্ডাদের দমন আমরা করব। আর বাক স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা প্রত্যেকের থাকবে। যে কেউ তাঁর স্বাধীন মত প্রকাশ করতে পারেন। সরকারি সব স্তরে কথাবার্তা বলা, আলোচনা করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু, এই যে শক্তি, যারা সাংবাদিকদের ধরে ধরে পিটিয়েছে, নির্দয়ভাবে পিটিয়েছে, খুন করার জন্য পিটিয়েছে, এদের গুন্ডাদমন আইনেই সাজা দেওয়ার ব্যবস্থা হবে।”
