
কলকাতা: নন্দীগ্রামে দুই হেভিওয়েটের মাঝে লড়াইয়ে দাঁত কামড়ে পড়ে ছিলেন। লড়াই ‘অসম’ বুঝেও ঠায় লড়ে গিয়েছেন। সেই সময়েই নিজের জাত চিনিয়েছিলেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। এরপর রবিবার ভরা ব্রিগেডে আবারও সবার মন জয় করেছেন। ঝাঁঝালো বক্তৃতায় দিশা দেখিয়েছেন বামেদের তরুণ ব্রিগেডকে। বিধানসভায় ‘শূন্য’, এই পরিসংখ্যানকে থোড়াই কেয়ার মনোভাবে উড়িয়ে দিয়েছেন। বুঝিয়ে দিয়েছেন, ‘বামপন্থীরা রক্তবীজের জাত’। আবার সমাবেশ শেষে ফাঁকা ব্রিগেডে নিজেই মাঠ পরিষ্কারের দায়িত্ব নিয়েছেন।
সমর্থকরা তাঁকে ডাকেন ‘ক্যাপ্টেন’ বলে। যদিও এই ডাক নিয়ে তীব্র আপত্তি রয়েছে মীনাক্ষীর। পশ্চিম বর্ধমানের এক ছোট্ট প্রত্যন্ত গ্ৰাম চলবলপুর থেকে উঠে আসা মীনাক্ষী আজ রাজ্য রাজনীতিতে বামেদের অন্যতম তরুণ চর্চিত মুখ। ডিওয়াইএফআই-এর রাজ্য সভানেত্রী। আগাগোড়া লড়াকু মেজাজের মীনাক্ষীর পড়াশোনা কতদূর জানেন? ২০২১ সালের নির্বাচনী হলফনামায় নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে জানিয়েছেন তিনি। ২০০০ সালে মাধ্যমিক পাশ করেছেন মীনাক্ষী। এরপর ২০০২ সালে উচ্চমাধ্যমিক। স্কুলজীবনের শেষে রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক হন ২০০৫ সালে। তার দুই বছর পর, ২০০৭ সালে স্নাতকোত্তর পাশ করেন বর্ধমান থেকেই। ২০১০ সালে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এড-ও পাশ করেন তিনি।
ডিওয়াইএফআই রাজ্য সভানেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় রবিবার ভরা ব্রিগেডে যে ঝাঁঝালো বক্তৃতা দিয়েছেন, তাতে বামেদের তরুণরা আবার নতুন করে অক্সিজেন পেয়েছে বুকে। মীনাক্ষী যেভাবে বামেদের যুব শিবিরকে লিড করছেন, তাতে বেশ নিশ্চিন্ত সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও। গতকাল ব্রিগেডের সভা থেকে বক্তৃতা রাখার সময়ও মীনাক্ষীর প্রশংসা শোনা যায় সেলিমের গলায়।